পরীক্ষা-ফলাফলের পর বহিষ্কার তিন শিক্ষার্থী!

রতন বড়ুয়া

শনিবার , ১ জুন, ২০১৯ at ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
299

পরীক্ষা শেষে ইতোমধ্যে (৬ মে) প্রকাশ পেয়েছে ফলাফলও। কিন্তু পরীক্ষা-ফলাফল প্রকাশের পর বহিষ্কার হয়েছে তিন শিক্ষার্থী। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এমন ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষাবোর্ডের তথ্য মতে- ৬ মে প্রকাশিত ফলাফলে এই তিন শিক্ষার্থীর ফল প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। আর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষাবোর্ড। গত ২৭ মে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে বহিষ্কারের মেয়াদ কয় বছর হবে সেটি বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়- তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুই জনের বিষয়ে প্রধান পরীক্ষক শিক্ষাবোর্ডে রিপোর্ট করেন। এদের একজন নগরীর বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী। জীববিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় একটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক ভাবে উত্তরপত্রে অশ্লীল কথা-বার্তা লিখেছে ওই পরীক্ষার্থী। খাতা মূল্যায়ন করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে পরীক্ষকের। পরে সংশ্লিষ্ট প্রধান পরীক্ষক এ বিষয়ে বোর্ডে রিপোর্ট করেন। অপর একজনের ইংরেজি ২য় পত্রের উত্তরপত্রে দুই ধরণের হাতের লেখা পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষার্থী খাগড়াছড়ির গুইমারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী। উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে গিয়ে এটিও পরীক্ষকের নজরে আসে। পরে এ বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট প্রধান পরীক্ষক বোর্ডে রিপোর্ট করেন।
অন্যদিকে, পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের আরেকজন পরীক্ষার্থী গণিত বিষয়ের পরীক্ষার উত্তরপত্র জমা দেয়নি। গত ৯ ফেব্রুয়ারি গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই স্থানীয় বাঁশখালী থানায় জিডি করেন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব। আর বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি বোর্ডকে অবহিত করেন। ৬ মে এসএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হলেও এই তিন শিক্ষার্থীর ফল স্থগিত রাখে শিক্ষাবোর্ড। পরে তিন শিক্ষার্থীর বিষয়টি তদন্তে গত ১৩ মে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের হিসাবরক্ষন কর্মকর্তা এ কে এম ইকবাল হোসেন এবং সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আব্দুল আজিজকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্তের পর গত ২৭ মে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।
তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন শিক্ষার্থী উত্তরপত্রে অশ্লীল কথা-বার্তা লিখেছে। উত্তরপত্রে লেখা ওসব অশ্লীল কথা-বার্তা ছাপা ও বলার অযোগ্য। আরেকজনের উত্তরপত্রে দুই ধরণের হাতের লেখার সত্যতা মিলেছে। আর অপর একজন শিক্ষার্থীর গণিতের উত্তরপত্র জমা না দেয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।
শিক্ষাবোর্ড সংশ্লিষ্টরা বলছেন- এ ধরণের ঘটনায় পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালায় (৩১ ক-এর ৭ ও ১০ ধারা অনুযায়ী) সর্বনিম্ম ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের জন্য বহিস্কারের কথা বলা আছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তিন শিক্ষার্থীকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে নিশ্চিত করে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলছেন, এসব শিক্ষার্থী ন্যূনতম এক বছরের জন্য বহিস্কার তো হচ্ছেই। তবে বহিস্কারের মেয়াদ আরো বাড়বে কিনা কিংবা কয় বছরের জন্য বহিস্কার করা হবে সেটি বোর্ডের শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।

x