(পরিবেশ আমাদেরই তৈরি করতে হবে)

কাজী মোহিনী ইসলাম

বুধবার , ১০ জুলাই, ২০১৯ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
30

বিকৃত রুচির অমানুষগুলোকে আর কিছু বলতে চাইনা; আপনাদের উদ্দেশ্য বলছি, যে সব পুরুষ একজন আদর্শ বাবা, কজন আদর্শ ভাই কিংবা মামা, চাচা। একবার ভেবে দেখুনতো ওই ধর্ষণকারী নষ্ট নোংরা অমানুষদের চেয়ে আপনারা কি সংখ্যায় কম? আপনারা কি এতোটাই শক্তিহীন? মেরুদণ্ডহীন? কেনো আপনারা কিছু অসুস্থ বিকারগ্রস্ত পতনগামী নরপশুর কাছে জিম্মি হয়ে আছেন? কেনো নিজেদের কলঙ্কিত করছেন? যে পিতা দু-চোখে অবারিত স্বপ্ন নিয়ে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করেন; শরীরের বিন্দু বিন্দু রক্ত ঘামে রূপান্তরিত করে সন্তানকে সু-মানুষ করে গড়েতোলার চেষ্টা করছেন! যে বাবা নিজের অপূর্ণ আশা আকাঙ্ক্ষাগুলো সন্তানের মধ্যে ঢেলে সন্তানের জীবনকে পরিপূর্ণ করে সাজিয়ে দেবার সাধনায় মগ্ন থাকেন; আমি আপনাদের বলছি। কেনো আপনারা সহ্য করছেন এই নির্মমতা? কেনো আপনাকে ভয়ে আতংকে কুঁকড়ে থাকতে হবে? কেনো কিছু বন্যপশু আপনাদের সাজানো বাগান তছনছ করবে? অসহায় নিরুপায় দৃষ্টিতে আপনারা তাকিয়ে দেখবেন শুধু? তবে কেনো এতো কষ্ট কেনো এতো যন্ত্রণা সহ্য করেন সন্তানদের মানুষ করার জন্য? আপনাদের কি উচিত নয় সন্তানদের উপর ধেয়ে আসা মহামারি প্রতিরোধ করার জন্য রুখে দাঁড়ানো? আপনাদের কি উচিত নয় সাহসী উচ্চারণে আওয়াজ তোলা? হ্যাঁ উচিত! প্রিয় ভাই, বাবা, মামা, কাকা। দোহাই আপনারা সোজা হয়ে একবার দাঁড়িয়ে দেখুন! প্রতিটি ঘরে ঘরে মহল্লায় নিজেদের মধ্যে এই নির্মম পাশবিকতার বিরুদ্ধে কথা বলুন। কাউন্সিলিং করুন।
এলাকায় মহল্লায় সবাই সবার খোঁজ খবর রাখুন! শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এলাকায় মানুষের চলাচলের বিষয় একটু বিশেষ নজর দারিতে রাখুন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর শুধু নির্ভর না করে নিজেদের জানমাল এবং সন্তানদের নিরাপদ নিশ্চিন্ত চলাফেরার পরিবেশ আমাদেরই তৈরি করতে হবে। তাই সবাই মিলে মুক্ত আলোচনা করুন, নিশ্চয় এই চলমান-চিত্রের ভয়াবহতা থেকে মুক্তির একটা উপায় আমরা ঠিক পাবো; বাঁচতে এবং বাঁচাতে পারবো আগামী পৃথিবীর মানব সভ্যতার পবিত্র ভবিষ্যৎ! আপনারা জানেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যেভাবে শিক্ষক নামের কিছু নরপশু, ছেলে মেয়েদের পাশবিক নির্যাতন করছে; ছাত্রীদের ধর্ষণ করছে তাতে মনে হয় এরা নিজেরাই হয়তো বা জারজ সন্তান! এইসব জারজদের হাত থেকে ছেলে মেয়েদের বাঁচাতে হলে, অভিভাবকদের অনেক বেশি সচেতন হতে হবে; সন্তানের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে! অনেকটা সহজ সরল ভাষায় খোলামেলা স্বভাবে তাদের সাথে শারীরিক বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে! কৌশলে তাদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করতে হবে তাদের কোন ক্লাসের শিক্ষকের আচার-আচরণ কেমন! সন্তানদের বুঝাতে হবে মা বাবার সাথে সবধরনের কথা বলার মধ্যে লজ্জা পাবার কিছু নেই। তারা যেকোনো রকমের সমস্যায় পড়ুকনা কেনো সেটা নিজের ভেতরে লুকিয়ে না রেখে এবং দেরি না করে যেনো মা বাবার সাথে সব কথা খুলে বলে! এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সারাদেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্ততপক্ষে মাসে দুইদিন মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে! শিক্ষকদেরও বুঝাতে হবে শিক্ষকতার মতো মহান পেশার মর্যাদা এবং ভাবগাম্ভীর্য ধরে রাখতে অবশ্যই একজন শিক্ষককে অপরিসীম মহৎপ্রাণের মানুষ হতে হয়। পবিত্র স্নেহময় হৃদয়ের মানুষ হতে হয়! নয়তো কখনো অন্যের সন্তানকে নিজের সন্তান মনে করে পৃথিবীর স্বপ্নময় পবিত্র ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে তোলা যায় না।

x