পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকরী পদক্ষেপ চাই

সোমবার , ৮ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ
22

বায়ু দূষণে প্রতি বছর প্রাণ হারায় ৭০ লাখ মানুষ। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় সবচেয়ে দূষিত শহর দিল্লি। মেগাসিটি গুলোর মধ্যে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত মুম্বাই রয়েছে চার নম্বরে। আর ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। বলতে গেলে দূষণের থাবায় দিন দিন বাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে মানুষের একমাত্র আবাস এই পৃথিবী। শুধু বায়ু দূষণ নয়, শব্দ দূষণ, পানি দূষণ, নদী দূষণ নানা সমস্যায় আক্রান্ত চট্টগ্রামসহ সারাদেশ। সারাদেশের সমৃদ্ধির প্রাণ কর্ণফুলী। কর্ণফুলী দখল মুক্ত হলেও দূষণে বিপন্ন। শিল্প কারখানার বর্জ্যে প্রতিনিয়ত দূষণ হচ্ছে এ নদী। আইন বা প্রতিরোধের কোন কার্যকরী ব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশ আজ দূষণেও বিশ্বের সকল দেশের শীর্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে। মাত্রাতিরিক্ত শব্দের অত্যাচারে জন-জীবনে উঠেছে নাভিশ্বাস। নগরবাসীর হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, শিরপীড়া, অনিন্দ্রা, বদহজম ও পেপটিক আলসার আক্রান্ত হবার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত এ দূষণ। শব্দ দূষণে শিশুদের দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, বুদ্ধিমত্তা বাধাগ্রস্ত করে। গর্ভবতী মায়েদের জন্যও এটা মারাত্মক ক্ষতিকর। বাংলাদেশের মতো একটি অনুন্নত দেশে পরিবেশ দূষণ আজ বিজ্ঞজনদের কাছে দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত এ দেশে বিভিন্ন উপায়ে মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ দূষণের ফলে এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে সর্বমহল উদ্বিগ্ন। মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধি দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ন, অপর্যাপ্ত আবর্জনা নিষ্কাশন ব্যবস্থা, কালো ধোঁয়া ও শব্দ দূষণ এর ফলে নগর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের পরিবেশ-অধিদপ্তর কালে-ভদ্রে বিভিন্ন গাড়ির কালো ধোঁয়া পরীক্ষা করলেও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে একেবারে নির্বাক স্থবির। বিষাক্ত কালো ধোঁয়ার কারণে শাস্তি হয়নি অদ্যাবধি। শব্দ ও ধোঁয়া দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে দেশের বেশ কয়টি শহরে ও বন্দরে। শব্দ নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সীমারেখা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র অন্যরকম। এদেশে শব্দ দূষণ নীরব অত্যাচার চালাচ্ছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন দূষণ মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখা দিলেও জনগণের ও কর্তৃপক্ষের কারো মাথা ব্যথা নেই। শব্দ ও ধোঁয়া দূষণ প্রতিরোধের যে আইন আছে তাও মেনে চলা হয় না। আইনের প্রয়োগ হয় না বললেই চলে।
-এম.এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x