পরিবহন ধর্মঘট : কারো বর্জন, কারো সমর্থন

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ১৩ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
1614

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আহুত আগামীকাল ১৪ জানুয়ারি থেকে ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রামে পরিবহন শ্রমিকদের একটি বড় অংশ। অন্যদিকে মালিকদের একটি অংশ এই ধর্মঘটের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। গতকাল সকালে বৃহত্তর চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ ও চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে ধর্মঘটের বিষয়ে পৃথক পৃথক অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। এনায়েত বাজারস্থ কার্যালয়ে গতকাল জরুরি সভা করে বৃহত্তর চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। সভায় বলা হয়, বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় চাঁদাবাজির বৈধতা নিতে ও সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের মান ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে বিশেষ কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে বে-আইনী ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে।
ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক এম জসিম রানার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব উজ্জ্বল বিশ্বাসের সঞ্চালনায় ওই সভায় বলা হয়, বে-আইনী ধর্মঘট আহ্বান রাষ্ট্রদ্রোহিতা কর্মকাণ্ডের সামিল। ধর্মঘট আহ্বানকারীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী হলেও জাতীয় ভিত্তিক একটি শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃত্বকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘকাল যাবৎ নিরীহ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক-মালিকদের জিম্মি করে সড়ক পরিবহনে নৈরাজ্য সৃষ্টিসহ চাঁদাবাজি-মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িত। তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের জীবন আজ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বক্তারা এ সময় রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের অভিযোগে ধর্মধট আহ্বানকারী ও সংশ্লিষ্টদের রিরুদ্ধে মামলা প্রদানেরও হুশিয়ারি দেন বক্তারা। এতে বক্তব্য রাখেন বৃহত্তর চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, ইলিয়াছ, ওসমান গণি, এমরান মিয়া, মনির হোসেন, নুরুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, মোতাহের হোসেন, আবুল হোসেন মিয়া, আমিনুল হক, মোশাররফ হোসেন খান, বজুলুর রহমান, সদস্য আব্দুল হালিম আদু, কাশেম, আজিজ, বেলাল, সোহেলসহ চট্টগ্রামে ১৮টি বেসিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।
একই দিন পৃথক আরেকটি সভায় ধর্মঘট বর্জনের ঘোষণা দেন জাতীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ। গতকাল বিকালে দারুল ফজল মার্কেট কার্যালয়ে সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খোকনের সঞ্চালনায় আয়োজিত এক বর্ধিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় নেতৃবৃন্দ পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাখান করে বলেন, শ্রমিক নেতার সাথে সংসদ সদস্যের ভিত্তিহীন ঘটনার অজুহাতে ধর্মঘটের নামে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সাধারন মানুষকে জিম্মি করার অধিকার ফেডারেশন নেতৃবৃন্দের নেই। তারা বলেছেন, এ ধর্মঘট সম্পূর্ণ শ্রম আইন পরিপন্থী।
এতে উপস্থিত ছিলেন আকতার হোসেন, স্বপন বিশ্বাস, আবুল কালাম, ইমরান মিয়া, গোলাম মোস্তাফা, কালিম শেখ, নুরুল ইসলাম, মুনির, আবু তৈয়ব, ফেরদৌস জামান, এয়ার মো. খোকন, মুকুল, আবুল হোসেন মিয়া, বেলাল, জাহাঙ্গীর, মিজানুর রহমান, রমজান আলী, কবির, আবদুল রহিম, ইব্রাহিম, করিম, কামাল পাশা, আলফাজ মিয়া, রাশেদ খান প্রমুখ।
এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ। গতকাল দুপুরে মালিক গ্রুপের এক জরুরি সভায় জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ ও মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলমের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আমরা মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে ওই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাশাপাশি আগামী ১৪ জানুয়ারি হতে শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ৪৮ ঘন্টার ধর্মঘটে আমরা পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি। জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের জরুরি সভায় আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা শ্রমিক-মালিক নেতৃবৃন্দের উপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানাচ্ছি।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ ও মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলমের উপর হামলার প্রতিবাদে আগামী ১৪ জানুয়ারি হতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৫টি জেলায় (চট্টগ্রাম, কঙবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের আহুত ৪৮ ঘন্টার লাগাতার ধর্মঘটে সমর্থন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ।

x