পরিবর্তনের জন্য ছেলে-মেয়েকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

মাধব দীপ

শনিবার , ৯ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
38

‘জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান
মাতা ভগ্নি বধূদের ত্যাগে হইয়াছে মহান।
কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে
কত নারী দিল সিঁথির সিদুর, লেখা নাই তার পাশে।’
-বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম

৮ মার্চ মানে গতকাল শুক্রবার সারাবিশ্বে উদযাপিত হয়ে গেল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বাংলাদেশেও আমরা প্রতিবছর নারী দিবস উদযাপন করি। দিনটি উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার ও এর আগেরদিন বৃহস্পতিবার নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘পরিবর্তনের জন্য সমচিন্তা, বুদ্ধিমান জাতি গড়া এবং উদ্ভাবন।’ সারা বিশ্বব্যাপী নারীরা একটি প্রধান উপলক্ষ্য হিসেবে এই দিবস উদযাপন করে থাকেন। গেল বছর এই দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা/ বদলে যাবে বিশ্ব, কর্মে নতুন মাত্রা’।
যাই হোক, নারী দিবসের আগের নাম ছিল ‘আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস’। এই দিনে কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদযাপনের মুখ্য বিষয় হয় আবার কোথাও নারীদের আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান বেশি গুরুত্ব পায়। দিবসটি উদযাপনের পেছনে রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়- ১৮৫৭ সালে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা। সেই মিছিলে সরকারের লাঠিয়াল বাহিনীর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল।
১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ নারী প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতিবছর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়- ১৯১১ সাল থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে। ১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। তখন দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে পৃথিবীজুড়েই নারীর সম-অধিকার আদায় ও নারীর এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে দিনটি পালিত হচ্ছে।
বিশ্বের অনেক দেশেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি ছুটি পালিত হয়। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে- আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, কিউবা, জর্জিয়া, গিনি-বিসাউ, ইরিত্রিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজিস্তান, লাওস, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং জাম্বিয়া। এছাড়া চীন, মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার এবং নেপাল প্রভৃতি দেশে শুধুমাত্র নারীরাই ওই দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে উপভোগ করেন (সূত্র: উইকিপিডিয়া)।
সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন ধারায় দেখা যায়, নারী কোনও অংশেই পুরুষের পিছনে ছিল না। ফরাসি বিপ্লব, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক আন্দোলনসহ ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামে নারী-পুরুষ উভয়কেই একসাথে দেখা যায়। কিন্তু, নারী কি এখনো তার কাঙ্ক্ষিত দাবি অর্জন করতে পেরেছে? কিংবা অন্যভাবে বলা যায়- নারীকে কি সেই প্রাপ্য অধিকার দেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে? বিশেষ করে এই এশিয়ায় নারী-পুরুষের লৈঙ্গিক বৈষম্য এখনো যে চরমে রয়েছে- সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সত্যিকার অর্থেই- নারীসমাজ এখনো উপেক্ষিত। নারীর কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে বিশ শ্রমসংস্থার (আইএলও) এক গবেষণায় দেখা যায়- বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় নারীরা এখনো অনেকটাই পিছিয়ে। সারা বিশ্বে এখন প্রতি ১০০ জন পুরুষের মধ্যে কাজ করার সুযোগ পান ৭৫ জন। আর প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে কাজ করেন মাত্র ৪৯ জন। শুধু তা-ই নয়, নারীর বেকারত্বের হারও পুরুষের তুলনায় বেশি। সারা বিশ্বে নারীর গড় বেকারত্বের হার এখন ৬ শতাংশ, পুরুষের ক্ষেত্রে তা ৫ দশমিক ২ শতাংশ। আইএলওর প্রতিবেদন বলছে, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে আছেন মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার নারীরা। মধ্যপ্রাচ্যে প্রতি ১০০ জনে মাত্র ১৯ জন নারী কাজ করার সুযোগ পান। উত্তর আফ্রিকায় এ হার ২২ শতাংশ। আর দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতি ১০০ জনে কাজ করার সুযোগ পান ২৮ জন নারী, পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ৭৯। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশটিতে কৃষিবহির্ভূত অনানুষ্ঠানিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ পুরুষের তুলনায় বেশি।
কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের এমন বৈষম্য বিশ্বের আর কোনো অঞ্চলে নেই। তবে উন্নত বিশ্বে নারীর কর্মসংস্থানের অবস্থা কিছুটা ভালো। উত্তর আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপে নারীদের বেকারত্বের হার পুরুষের তুলনায় কম। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী- উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশে নারী-পুরুষের কাজের বৈষম্যের হার কমলেও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে এ বৈষম্য বেড়েই চলেছে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে এমন প্রবণতার কারণ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দেশের নারীরা এখন বেশি করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করছেন। পড়ালেখার কারণে তাঁরা এখন কর্মক্ষেত্রে কম আসছেন।
আইএলওর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারীরা যেসব কাজ করেন, তার মানও সন্তোষজনক নয়। পুরুষের তুলনায় ঘরের কাজে নারীর অংশগ্রহণের হার দ্বিগুণ। কিন্তু ঘরের কাজ করার জন্য তাঁরা কোনো পারিশ্রমিক পান না। এ কাজকে অনেকটা অনানুষ্ঠানিক খাতের কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলোতে প্রতি ১০০ জনে ৪২ জন নারী ঘরের কাজ করেন, পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ২০ শতাংশ। ২০২১ সাল পর্যন্ত এ পরিস্থিতির উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ ঘরের কাজে পুরষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা আগামী তিন বছরে নেই।
পারিশ্রমিক পাওয়ার ক্ষেত্রেও পুরুষের তুলনায় নারীরা অনেকটা পিছিয়ে আছেন বলে আইএলওর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০১৬ সালে এ বিষয়ে আইএলওর চালানো এক সমীক্ষা অনুযায়ী- একই রকমের কাজ করে পুরুষের তুলনায় নারীরা ২০ শতাংশ কম পারিশ্রমিক বা মজুরি পান।
আইএলওর উপমহাপরিচালক ডেবরাহ গ্রিনফিল্ড এ প্রতিবেদনের বিষয়ে বলেন, বেশ কিছু অর্জন ও অগ্রগতির পরও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ এখনো যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে পুরুষের সমকক্ষ হতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। কর্মসংস্থান, মজুরি ও যেকোনো বিষয়ে নারীর প্রতি বৈষম্য কমিয়ে আনতে সবাইকে অনেক বেশি কাজ করতে হবে (সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ৮ মার্চ, ২০১৮)।
এদিকে, অপর এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে নারীরা কাজ করছে শতকরা ৬৫ ভাগ। আর এর বিপরীতে, তার আয় মাত্র শতকরা দশ ভাগ। অথচ, পৃথিবীতে নারী-পুরুষের সংখ্যানুপাত প্রায় সমান। কিন্তু, দুনিয়ার মোট সম্পদের একশত ভাগের মাত্র এক অংশের মালিক মেয়েরা। মেয়েদের গৃহস্থালি কাজের আর্থিক স্বীকৃতি এখনও দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, তা অর্থনৈতিক মূল্যে অদৃশ্যই থাকে। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা তো বটেই এমনকি উন্নত বিশ্বের চিত্রটাও অনেকটা একই। কখনও শ্লীলতাহানি, কখনও যৌন নির্যাতন, কখনও মেয়ে হিসেবে জন্মানোর জন্য হত্যা, আবার কখনও ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা নারীদের সয়ে যেতেই হচ্ছে।
আমাদের দেশের নারীসমাজও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে দেখা যায়- দেশের ৮৭ শতাংশ বিবাহিত নারী আপন গৃহেই নির্যাতনের শিকার। ৬৫ শতাংশ স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক এবং ৫৩ শতাংশ স্বামীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনসহ নানা রকমের সহিংসতা দমনে রাষ্ট্র ও সমাজের ব্যর্থতার পাল্লা যেন দিনেদিনে আরও ভারি হচ্ছে। পথে-ঘাটে ও কর্মক্ষেত্রে তো বটেই; ঘরের ভেতরেও নারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতা দূর হচ্ছে না।
এরপরও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে নারীর বিরাট ভূমিকা রয়েছে। বৈশ্বিক নারী-নেতৃত্বে বাংলাদেশের উত্থান ঈর্ষণীয়। সামাজিক-সাংস্কৃতিক-মনস্তাত্ত্বিক বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রে নারীর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। লিঙ্গসমতা সূচকে এ দেশের নারীদের অবস্থান এখন পার্শ্ববর্তী ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নারীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে গেছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, মানবসূচক উন্নয়নে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের নারীরা অনেক এগিয়ে গেছে। এটি জাতীয় অর্থনীতিতে এক ধরনের ইতিবাচক প্রভাব আনবে। তাছাড়া দেশের শীর্ষ কর্মপদে বাংলাদেশ নারীদের ক্ষমতায়নে অনেক দূর এগিয়েছে। এটিরও একটি শুভ প্রভাব অনিবার্য। আমর্ত্য সেনের কথার রেশ ধরে বাংলাদেশের নারীদের নানাক্ষেত্রে অগ্রযাত্রার উদাহরণ বিশ্ব সমাজকে চমকে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত।
তারপরও- নারীঅধিকারের প্রশ্নে পূর্ণ সমতা আসতে এখনো অনেক দেরি। চাকরির ক্ষেত্রে নারী সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে; নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীদের মধ্যে নারী- পুরুষের চেয়ে কম মজুরি পান। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নের চেষ্টা খুব ফলপ্রসূ হচ্ছে না পুরুষ সহকর্মীদের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। জাতীয় রাজনীতিতেও নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়েনি, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নারীর গুরুত্বও বাড়ছে না। কিন্তু শিক্ষার সকল পর্যায়েই দেখা যাচ্ছে, নারীরা পুরুষের সমান মেধার পরিচয় দিচ্ছেন। কিন্তু কিছু পুরুষের লোভ-লালসা, আর কিছু সামাজিক প্রথা নারীদের পিছনে টেনে ধরে রাখছে। সেই অপশক্তিকে অগ্রাহ্য করে কেউ কেউ অনেক উপরে উঠতে পারলেও, বেশিরভাগ নারীই সেই শক্তির কাছে পরাজয় স্বীকার করছেন।
তবুও বলবো- এই সমাজ বৈশ্বিক আবহাওয়ার সাথে যত তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, ততোই এগিয়ে চলার চেষ্টা চালাচ্ছে আমাদের দেশের নারীরা। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা-দীক্ষা, অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যক্তিস্বাধীনতা ইত্যাদির প্রশ্নে নারীরা অচিরেই পুরুষের সমকক্ষ কেবল নয় বরং পুরুষকে ছাড়িয়ে যাবে। জাতিসংঘের ২০১৬ এর প্রতিপাদ্যের মতো আমরাও বিশ্বাসী- ‘২০৩০ এর পৃথিবী হবে নারী-পুরুষের সমঅধিকারের।’
একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে তাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মাসে পৃথিবীর সকল নারীকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

নারীঅধিকারের প্রশ্নে পূর্ণ সমতা আসতে এখনো অনেক দেরি। চাকরির ক্ষেত্রে নারী সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে; নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীদের মধ্যে নারী- পুরুষের চেয়ে কম মজুরি পান। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়নের চেষ্টা খুব ফলপ্রসূ হচ্ছে না পুরুষ সহকর্মীদের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। জাতীয় রাজনীতিতেও নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়েনি, নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নারীর গুরুত্বও বাড়ছে না। কিন্তু শিক্ষার সকল পর্যায়েই দেখা যাচ্ছে, নারীরা পুরুষের সমান মেধার পরিচয় দিচ্ছেন। কিন্তু কিছু পুরুষের লোভ-লালসা, আর কিছু সামাজিক প্রথা নারীদের পিছনে টেনে ধরে রাখছে। সেই অপশক্তিকে অগ্রাহ্য করে কেউ কেউ অনেক উপরে উঠতে পারলেও, বেশিরভাগ নারীই সেই শক্তির কাছে পরাজয় স্বীকার করছেন।

x