পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের তৎপরতার ওপর নির্ভর করে নগরীর সৌন্দর্য

বর্জ্য অপসারণ

শুক্রবার , ১৬ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:০১ পূর্বাহ্ণ
54

এবার কোরবানি পশুর বর্জ্য অতি দ্রুততার সঙ্গে অপসারণ করার সাফল্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রশংসার দাবিদার হয়েছে। নগরবাসীর পক্ষ থেকে আমরা সিটি মেয়রকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এমনিতে নগরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নানা সময়ে অনেক মানুষের সমালোচনার শিকার হয়েছেন তিনি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা নিয়ে নানা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে পত্রপত্রিকায়। বলা হয়েছে, যে কোন নগরীর জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যে কোন রকমের গাফেলতি কিংবা দুর্বলতার জন্য নগরীর অভিভাবক মেয়রই দায়ী হয়ে যান। দুনিয়াতে এমন নগরীও আছে, বিশেষ করে পর্যটন নগরীসমূহ, যেখানে সর্বমোট রাজস্ব আয়ের অর্ধেকই ব্যয় হয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে। তবে বড় নগরীগুলো শুধু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খাতে এত টাকা ব্যয় করতে পারে না। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং বেতন খাতে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও চট্টগ্রামকে এ ধরনের বড় নগরীগুলোর কাতারে শামিল করা যায়।
তাঁদের অভিযোগ, পাহাড়, নদী ও সাগরের মিলনস্থলে অবস্থিত যে চট্টগ্রাম মহানগরীর আক্ষরিক অর্থেই নান্দনিক-তিলোত্তমা ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে ওঠার কথা ছিল; নানা কারণে তা এখনো হয়ে ওঠেনি। চট্টগ্রামের পরিবেশ ও প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ এবং নান্দনিকতার সুফল কাজে লাগাতে পারছেন না সিটি কর্পোরেশনের কর্তাব্যক্তিরা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডে বর্জ্য ফেলার জন্য ডাস্টবিন ও কনটেইনার থাকলেও সেগুলো ফুটপাত ও সড়কের ওপরে রাখায় কার্যত সুফল মিলছে না। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, এসব ডাস্টবিন ও কনটেইনারের কারণে কেবল যান চলাচল ব্যাহত হয় না; উপচেপড়া আবর্জনায় ঘ্রাণ-দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয় পথচারীদের জন্য। এক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতাও জরুরি। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ করলেই পরিস্থিতির অনেকাংশে উন্নতি ঘটবে। সরকারি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পরিবেশ নিয়ে তৎপর বেসরকারি উদ্যোগগুলো জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এগিয়ে আসতে পারে বলে তাঁরা মত প্রকাশ করেছেন।
এতো এতো সমালোচনার মধ্যেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন অন্যান্যবারের চেয়ে এবার কোরবানির ঈদে বেশি সাফল্যের দাবিদার হয়েছে। দৈনিক আজাদীতে গতকাল প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, নগরীর ৪১ ওয়ার্ড থেকে এবার কোরবানি পশুর সাড়ে সাত হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এর মধ্যে প্রথম দিন (সোমবার) পাঁচ হাজার টন এবং পরদিন মঙ্গলবার বাকি আড়াই হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়। পুরো শহরকে চারটি জোনে ভাগ করে চলে এ বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম। কোরবানি পশুর বর্জ্যের পাশাপাশি প্রতিদিন অতিরিক্ত আড়াই হাজার টন গৃহস্থালী বর্জ্যও অপসারণ করা হয়েছে।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, রাস্তায় ফেলে দেওয়া হাজার হাজার চামড়া বর্জ্য হিসেবে এবার অপসারণ করতে হয়েছে সিটি করপোরেশনকে। ঈদের দিন রাস্তা থেকে শতভাগ বর্জ্য সরিয়ে নেয়ার পর দ্বিতীয় দিনে চামড়া পচে যেই বর্জ্য তৈরি হয় তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে সিটি কর্পোরেশন। চামড়া পচা গন্ধে নগরবাসীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে উঠছিল। ভয়াবহ রকমের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। আজাদীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দুইদিনে নগরী থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার পিস চামড়া বর্জ্য হিসেবে অপসারণ করেছে। একই সাথে বিপুল পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার বিতরণ ও ছিটানোর মাধ্যমে নগরীকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখার ক্ষেত্রেও সিটি কর্পোরেশন অনন্য নজির স্থাপন করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নগরবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রামকে দৃষ্টিনন্দন ও বিশ্বমানের নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বিশ্বদরবারে চট্টগ্রামকে ক্লিন ও গ্রিন সিটির মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই। গত চার বছর এই লক্ষ্যে কাজ করলেও সবক্ষেত্রে তিনি সফল হয়েছেন-বলা যায় না। তবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে তাঁর বিদ্যুৎগতিসম্পন্ন তৎপরতা আমাদের আশ্বস্ত করেছে। তার জন্য সিটি মেয়র অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। তাঁর এবং তাঁর পরিচ্ছন্নতা বাহিনীর সদস্যদের কারণে সড়কে সড়কে আবর্জনা ও দুর্গন্ধের দৌরাত্ম্য সৃষ্টি হয়নি। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এরকম তৎপর থাকলে নগরী পরিণত হবে সুন্দর শহরে।

x