পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা আজ

আজাদী ডেস্ক

বুধবার , ৭ নভেম্বর, ২০১৮ at ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ
157

আজ বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা। হিজরি সালের সফর মাসের শেষ বুধবার মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্মারক দিবস হিসেবে পালিত হয়। ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ (দ.)-এর জীবনে আখেরি চাহার শোম্বা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নবী করিম (দ.) ইন্তেকালের আগে এদিনে কিছুটা সুস্থতা বোধ করেছিলেন। ফারসিতে এ দিনটিকে আখেরি চাহার শোম্বা নামে অভিহিত করা হয়।
ফারসি শব্দমালা আখেরি চাহার শোম্বা অর্থ শেষ চতুর্থ বুধবার। রাসুলাল্লাহ (দ.) জীবনে শেষবারের মতো রোগমুক্তি লাভ করেন বলে দিনটিকে মুসলমানেরা প্রতিবছর শুকরিয়া দিবস অর্থাৎ খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করে আসছে। তাই মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে আখেরি চাহার শোম্বার গুরুত্ব ও মর্যাদা কোনো অংশে কম নয়। আল্লাহর প্রিয় নবী (দ.) ওফাতের পূর্ববর্তী সফর মাসের শেষ ভাগে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পীড়াজনিত কারণে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়েন। এরপর তিনি এ মাসেরই ২৭ কিংবা ২৮ তারিখ বুধবার অতি প্রত্যুষে জেগে উঠে বলেন- ‘কে আছ, আমার কাছে?’ হজরত রাসুলে করিম (দ)-এর ডাকটুকু উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) শুনতে পেয়ে দৌড়ে এসে বলেন, ‘হে আল্লাহর নবী, আমি আপনার কাছেই আছি।’ রাসুল (দ.) বললেন, আয়েশা, আজ যেন আমি অনেকটা সুস্থ বোধ করছি। শরীরটা বেশ হালকা মনে হচ্ছে। বোধকরি, আমি সুস্থ হয়ে গেছি। কথা কয়টি শোনার পর হজরত আয়েশা (রা.) সীমাহীন আনন্দ ও খুশিতে বিহ্বল হয়ে পড়েন। তিনি কালবিলম্ব না করে রাসুলে পাক (দ.)-এর শির ও শরীর মোরাবরকে পবিত্র পানি দিয়ে উত্তমভাবে গোসল করিয়ে দেন। ফলে বেশ কিছু দিনের পীড়াজনিত ক্লান্তি, দুর্বলতা কমে যায়।
এদিন হজরত রাসুলে পাক (দ.) মসজিদে নববীতে গিয়ে ওয়াক্তিয়া নামাজের ইমামতি করেন। কঠিন রোগ ভোগের পর সুস্থ শরীরে রাসুলে পাক (দ.)-এর মসজিদে নববীতে আগমন ও নামাজের ইমামতি করায় সাহাবারা অপার আনন্দ ও খুশি হলেন এবং রাসুলে করিম (দ.)-এর সুস্থতা ও রোগমুক্তি দেখে খুশির আতিশয্যে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব-দুঃখীদের মধ্যে দান-খয়রাত করেন।
তাই, মুসলমানদের কাছে রাসুলে করিম (দ.)-এর রোগমুক্তি, শেষ গোসল এবং সুস্থ দেহে মসজিদে নববীতে ইমামতি ইত্যাদি কারণে এই দিবসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ কারণেই সাহাবাদের নীতি অনুসরণে মুসলিম বিশ্ব আনন্দ প্রকাশের জন্য আখেরি চাহার শোম্বার এই মহান দিনটি বিশেষ মর্যাদা সহকারে উদযাপন করে থাকে। এদিন নির্দিষ্ট দোয়া লেকা পানিতে ভিজিয়ে গোসল করা, কোরআনের আয়াত লেখা পানি পান করা, নফল নামাজ আদায় ও দান খয়রাত করা উত্তম বলে ওলামায়ে কেরামগণ মত ব্যক্ত করেছেন।

x