পথচারীরা কি ফুটপাতে হাঁটতে পারবে না !

শুক্রবার , ২ আগস্ট, ২০১৯ at ৩:৫৭ পূর্বাহ্ণ
36

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মানুষ দিন দিন শহরমুখী হচ্ছে। শহরে বসবাসরত জনসংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিক তেমনি গ্রামের মানুষকে জীবিকার তাগিদে শহরে প্রতিদিন আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। বর্তমানে আগের চেয়ে শহরের রাস্তা অনেক প্রশস্ত করা হয়েছে। উন্নত দেশের মতো রাস্তাঘাট বড় না থাকলেও আমাদের শহরে যা আছে তা মানিয়ে নেওয়ার মতো। কিন্তু কিছু মানুষের লোভ লালসা ও সচেতনতার অভাবে আমরা সাধারণ জনগণ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছি। ব্যবসায়ী চাচ্ছেন তাদের সামনের ফুটপাত তো দখলে আছে পারলে রাস্তাটা পর্যন্ত দখল করা। বিল্ডিং এর নির্মাণ সামগ্রী রাখার জায়গা যেন ফুটপাত আর রাস্তা। বাজার যেন ফুটপাত ও রাস্তার উপর ভ্যান গাড়িতে। পথচারীদের জন্য ফুটপাত কিন্তু সে ফুটপাতে পথচারীরা হাঁটতে পারে না। হাঁটতে হয় রাস্তায় চলমান গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। এ যেন বিপদকে সাথে নিয়ে চলা।
চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় লক্ষ করলে দেখা যায় ফুটপাত দখলে চলে গেছে ব্যবসায়ীদের হাতে। চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশদ্বার যেমন নতুন ব্রিজ সংলগ্ন, অঙিজেন মোড় ও অলংকার মোড় থেকে শহরের কেন্দ্রস্থল পর্যন্ত যথেষ্ট ফুটপাত রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর সব জায়গায় কম বেশি ফুটপাত আছে। চট্টগ্রামে নতুন ব্রিজ, রাহাত্তার পুল, কামাল বাজার, চকবাজার, বহদ্দারহাট মোড়, বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, অক্সিজেন,ষোলশহর, মুরাদপুর, ২ নং নম্বর গেট, জিওসির মোড়, আন্দরকিল্লা, কোতোয়ালীর মোড়, নিউ মার্কেট, দেওয়ানহাট মোড়, চট্টগ্রাম ইপিজেডের মত কর্মব্যস্ত এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে কোতোয়ালী মোড় থেকে নিউ মার্কেট হয়ে রেল স্টেশন পর্যন্ত এবং ৩ পোল সংলগ্ন রিয়াজউদ্দিন বাজার পর্যন্ত হকারদের জন্য চলাচল করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। নিজে চলাচল করা কষ্টকর, পরিবার নিয়ে চলাচল তো অসম্ভব ব্যাপার। ফুটপাত প্রতিষ্ঠিত ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর দখলে এবং রাস্তা রিকশা, প্রাইভেট কার ও সিএনজির দখলে।পথচারীরা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হয়। রাস্তায় হাঁটলেও গাড়িচালকরাও ধীরগতিতে থাকেন না। যার জন্য মানুষ নানা দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছে। যেখানে ফুটপাত নেই সেখানের রাস্তার দুই পাশের অংশ জুড়েও থাকে দোকানের বিভিন্ন জিনিসপত্র, ময়লা ও আবর্জনা। রাস্তা ও ফুটপাত দখল করা যেন ব্যবসায়ীদের জন্য সাধারণ একটি বিষয়। ফুটপাত ব্যবহার হচ্ছে দোকানিদের জিনিসপত্র রাখার জায়গা হিসেবে। কেউ আবার কাঁচা শাকসবজি ও মাছের দোকান খুলে রেখেছে সেই ফুটপাতের ওপর। কোথাও দেখা যায় সিটি কর্পোরেশন ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে তাও স্তূপ করে রাখা হচ্ছে সেই ফুটপাতের উপর। ঘিরিল ওয়ার্কসপের কাজ যেন রাস্তার উপর। কোথাও বিভিন্ন নির্মাণাধীন স্থাপনার বালু ও পাথর রাখা হয় রাস্তার পাশে। কোথাও আবার সিএনজি ও প্রাইভেট কার রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকে। রাস্তার অনিয়ম গুলো যেন তাঁদের জন্য নিয়মে পরিণত হয়েছে। বাচ্চাদের প্রতিদিন স্কুলে আসা যাওয়া যেন প্রাণ নিয়ে ঘরে ফেরা। চট্টগ্রাম শহরকে সুশৃংখলভাবে পরিচালনা করার গুরুদায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের। সিটি কর্পোরেশনের যেমন ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার দায়িত্ব ঠিক তেমনি ফুটপাতও রাস্তা দখলকারী লোভী মানুষদেরও পরিষ্কার করা দরকার। সচেতন নাগরিক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো সমস্যা সমাধান সম্ভব। তাই নগর পিতার প্রতি প্রত্যাশা ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত হোক। আমরা পথচারীরা রাস্তায় নয়, ফুটপাতে নিরাপদভাবে হাঁটতে চাই।
শ্রীধর দত্ত, চট্টগ্রাম

x