পণ্যবাহী কন্টেনারে ইলেক্ট্রিক তালা : বিধিমালা বাতিল চায় সিএমসিসিআই

আজাদী প্রতিবেদন 

বৃহস্পতিবার , ১২ জুলাই, ২০১৮ at ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
73

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কন্টেনারে ইলেক্ট্রনিক তালা লাগানোর যে বিধিমালা তা বাতিলের আবেদন জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি (সিএমসিসিআই)। সিএমসিসিআই গতকাল সংবাদপত্রে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত ইলেক্ট্রনিক সীল ও লক সেবা বিধিমালা দেশের ব্যবসা ব্যয় আরও এক দফা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। চট্টগ্রামে আমাদের ব্যবসা ব্যয় (Cost of doing business) সর্বোচ্চ বলা হচ্ছে। এ অবস্থায়, সেবার নামে প্রতিটি আমদানিরপ্তানি পণ্য পরিবহনে প্রথম ৪৮ ঘন্টায় ৬০০ টাকা, পরবর্তী প্রতি ঘন্টায় ৫০ টাকা করে হাজার টাকা বাড়তি খরচ করতে হলে বছরে কয়েক শত কোটি টাকা ব্যবসা ব্যয় বাড়বে। বন্দর এবং আইসিডিতে আমদানি রপ্তানি পণ্য আসা যাওয়ার বেলায় এ যাবত চুরি বা শুল্ক ফাঁকির ঘটনা হয়েছে বলে জানা যায় না। জাহাজ কোম্পানি বুলেট সীল করেই আমদানিরপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেনার পরিবহন করে যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। প্রস্তাবিত সেবা পৃথিবীর কোথাও আছে বলে জানা যায় না। বিষয়টির সাথে শুল্ক কর্তৃপক্ষ পরিচিত।

বর্ণিত বিধিমালাসময়ক্ষেপন, বন্দরে কন্টেনারকাভার্ড ভ্যান বা ট্রাক জট বৃদ্ধি পেয়ে চলমান পরিবহন সমস্যা আরও ভয়াবহ করে রপ্তানি প্রবাহ বহুলাংশে ধীরগতি হয়ে বিনিয়োগের পরিবেশ বিনষ্ট করবে। ব্যবসায়ীরা বাড়তি ব্যয় কাঁধে নেবে না, জনদুর্ভোগ বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ আলোচনা না করে গৃহীত বিধিমালা সরকারের চলমান ব্যবসা বান্ধব ও ব্যয় কমানো নীতি পরিপন্থী, যা বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকারি নীতির সাথে মানায় না। নীতি সহায়তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থে হওয়া কাম্য। যে কোন ব্যবসা ব্যয় বৃদ্ধি, ২০২১ সালে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারকে বিব্রত করতে স্বার্থান্বেষী মহল তৎপর কি না খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রাইভেট একটি সংস্থাকে প্রস্তাবিত সেবাদানের মনোপুলি ঠিকাদারী দেওয়া হলে বন্দরের দক্ষতা অর্ধেকে নেমে আসবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। তাই অনতিবিলম্বে ব্যবসাবিনিয়োগ পরিপন্থী এই বিধিমালা বাতিলের নির্দেশ প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

x