পটিয়ায় বিএনপির একাধিক প্রার্থী, কম বেশি সবাই সক্রিয়

দুর্দিনে পাশে যারা তাদের জন্যই সুখবর

মোরশেদ তালুকদার

বৃহস্পতিবার , ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
1246

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে এবার প্রার্থী বাছাইয়ে বেকায়দায় পড়তে হবে বিএনপি’কে। কারণ, দলের একাধিক নেতাই এবার মনোনয়ন চাইবেন দলের। যাদের বেশিরভাগই আবার মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়। এর মধ্যে আছেন দলের ব্যানারে নির্বাচিত সাবেক সাংসদ এবং উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যান। জনপ্রতিনিধি হওয়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের দাবিও আছে। ফলে এর মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ে কিছুটা হিমশিম খেতে হবে বিএনপি’র হাইকমান্ডকে।
অবশ্য দলটির তৃণমূলের অনেক নেতা দাবি করেছেন, প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও দলের বিভিন্ন আয়োজনে তাদের পাওয়া যায় নি। তাদের ভাষায়, দলের ‘আন্দোলন-সংগ্রামে’র সময় অনেকটা আড়ালে ছিলেন তারা। তাই তাদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, দলের হাই কমান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ‘আন্দোলন-সংগ্রামে’ সক্রিয়দের মধ্য থেকেই প্রার্থী বাছাই করা হবে। অর্থাৎ অতীতে কারা দলের ব্যানারে নির্বাচিত হয়েছিলেন সেটা মূল্যায়ন করা হবে না। বরং দলের ‘দুর্দিনে’ কারা পাশে ছিলেন সেটাই মূল্যায়ন করা হবে। ফলে একাধিক নেতা মনোনয়ন চাইলেও প্রার্থী বাছাইয়ে সমস্যা হবে না হাই কমান্ডের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি নির্বাচনে গেলে দলের ছয়জন নেতা মনোনয়ন চাইবেন। এরা হচ্ছেন- দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল, পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি সৈয়দ সাদাত আহমেদ এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ। এদিকে বিএনপি জোটবদ্ধভাবে অর্থাৎ ২০ দলীয়ভাবে নির্বাচন করলে পটিয়া আসনটি চাইবে শরীক দল এলডিপি। সেক্ষেত্রে সেখানে প্রার্থী হবেন এলডিপির কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক এম এয়াকুব আলী।
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা পরবর্তী ১০টি সংসদ নির্বাচনে পটিয়া আসন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচবার জিতেছেন বিএনপির প্রার্থী। তিনবার জিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ। একবার করে জিতেছেন জাতীয় পার্টি ও ন্যাপ প্রার্থীরা।
গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল : দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আমরা (বিএনপি) এখনো সিদ্ধান্ত নিই নাই, নির্বাচনে যাব কি না। আমরা আদৌ জানি না, দেশে নির্বাচন হবে কি না। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করা, সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের আন্দোলন করা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করা। মূলত এসব বিষয়গুলো নিয়েই আমরা কাজ করছি।’
তিনি বলেন, ‘যদি নির্বাচন হয় এবং বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় সেক্ষেত্রে আমরা নির্বাচন করবো। সেক্ষেত্রে পটিয়ায় অতীতের কর্মকাণ্ড, আমাদের সাংগঠনিক শক্তি এবং সরকারি দলের বিভিন্ন অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র ঠেকিয়ে আমরা জয়লাভ করবো। আমরা মনে করি, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছি সেটাকে গত ১০ বছরে ক্ষমতাসীনরা টপকাতে পারে নি। তাই আমাদের বিশ্বাস, পটিয়াতে আমরা জয় লাভ করবো।’
‘পটিয়া থেকে এবার একাধিক নেতাকর্মীর বিএনপি’র মনোনয়ন চাওয়ার আগ্রহ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের মনোনয়ন চাওয়া অস্বাভাবিক না। এটা গণতান্ত্রিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সবদলেই এটা লক্ষ্য করা যায়। এটা রাজনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে মনোনয়ন একজনই পাবেন এবং তার পক্ষেই বাকিরা কাজ করবেন।’
‘পটিয়া বিএনপি’তে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান গ্রুপিং, দ্বন্দ্ব নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সবসময় থাকে। নির্বাচন আসলে এটা বেশি হয় এবং একটু দৃশ্যমান হয়। দ্বন্দ্ব প্রতিযোগিতা প্রতিটি রাজনৈতিক দলে সবসময় থাকে। এটা স্বাভাবিক। নির্বাচন আসলে এটা অতিমাত্রায় দৃশ্যমান হয়। আবার নির্বাচনে সবাই এক সাথে কাজ করে।’
প্রসঙ্গত: গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম- আহ্বায়ক হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। এরপর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, যুবদলের আহ্বায়ক, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। তিনি ১৯৯৬ সালে পটিয়া থেকে ১ম বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ সালে টানা ২য় বারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন সর্বাধিক উপস্থিতির জন্য তৎকালীন স্পিকার কর্তৃক সম্মান জনক উপাধিতে ভূষিত হন। এছাড়া সংসদ সদস্য থাকাকালীন সংসদীয় দলের প্রতিনিধি হিসেবে ইংল্যান্ডের কমনস্‌ হাউজ, ইন্ডিয়া, সিঙ্গাপুর, চায়না, ভিয়েতনাম, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। বিশেষ করে বেইজিং-এ অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল পার্লামেন্টারি কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া ভিয়েতনামের এশিয়ান পার্লামেন্টারি ফোরামের একটি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশে নরওয়ে অর্থবিষয়ক সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকের সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ও সভাপতিত্ব করেন। তিনি ‘অর্থ-মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এনামুল হক এনাম :
বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে গেলে মনোনয়ন অবশ্যই চাইবো। আমার পটিয়াবাসীরও দাবি, মনোনয়ন চাই। যেহেতু দীর্ঘদিন দলের সাথে ছিলাম, জেল-জুলুম নির্যাতন, অত্যাচার সহ্য করে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, যারা দলের জন্য কাজ করে গেছেন তাদের নমিনেশন দেয়া হবে। এটা আমাদের দলের চেয়ারপার্সন ও তারেক রাহমানেরও ঘোষণা ছিল। সেক্ষেত্রে আমাকে মনোনয়ন দিবেন এবং আমাকে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই পটিয়া আসনটি আমাদের চেয়ারপার্সনকে উপহার দিব। ফিরে পাবে পটিয়ার হারানো গৌরব।’
‘পটিয়া বিএনপি’র দলীয় কোন্দল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অতীতে যারা বিএনপি’র সুবিধা ভোগ করেছে, বিএনপি’র ব্যানারে এমপি হয়েছিল বা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও বিদেশে অবস্থান করে তাদের কিছু লোক তো আছে। মূলত, এরাই এসব গ্রুপিং সৃষ্টি করে। এরা দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকে না, কেবল সুবিধাভোগী। তবে এটাও ঠিক, শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পেলে কেউ বিভেদ সৃষ্টি করবে না। নির্বাচনে কোন গ্রুপ থাকে না। দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করাই মূল টার্গেট থাকবে তখন।’
‘একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন চাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই নমিনেশন চাইতে পারে। দলের জন্য যারা কাজ করছেন তাদের প্রত্যেকের মনোনয়ন চাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু দল যাকে তাকে মনোনয়ন দিবে না। সত্যিকার অর্থেই যারা দলের জন্য কাজ করেছেন তাদেরকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। দল সবকিছু যাচাই-বাছাই করবে। দল থেকে সুবিধা ভোগ করে এবং দলের দায়িত্ব নিয়ে যারা দেশের বাইরে অবস্থান করে তাদের প্রতি কিন্তু তৃণমূলের আস্থা নেই।’
প্রসঙ্গত, ১/১১ এর সময় থেকেই বিএনপি’র রাজনীতিতে সাংগঠনিকভাবে সম্পৃক্ত হন এনামুল হক। পটিয়া উপজেলা বিএনপি হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অবশ্য পদে না থাকলেও ছাত্র অবস্থা থেকেই বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি ‘কালো দিবস’ পালন করতে গিয়ে বিএনপি’র সমাবেশ থেকে গ্রেফতার হয়ে ৫ মাস ৭ দিন কারাবরণ করেন। ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিলও দ্বিতীয়বার কারাবরণ তিনি।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী টিপু :
বিএনপি থেকে এবার মনোনয়ন চাইবেন পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী টিপু। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র এ সদস্য দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘দল নির্বাচন করলে অবশ্যই মনোনয়ন চাইবো। ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালেও মনোনয়ন চেয়েছিলাম। বর্তমানে নির্বাচনের জন্য একধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সমগ্র পটিয়ায় আমার বিচরণ আছে। দলও আশ্বস্ত করেছে।’ সাংগঠনিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংগঠনিক অবস্থা খুব ভালো। এখানে গ্রুপিং রাজনীতি থাকলেও কারো সঙ্গেই আমার দূরত্ব নেই। দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে, দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে দক্ষিণ চট্টগ্রামে তিনি বিএনপির দলীয় একমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান। ১৯৭৯ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম কমিটির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পরবর্তীতে পটিয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত পটিয়া উপজেলা পরিষদের নিবাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগে রেকর্ড সংখ্যক ৮২ হাজার ৫০০ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে তিনি ৫২,৫০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নগরীর ইসলামীয়া ডিগ্রি কলেজে তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর অধ্যাপনা করেছেন। দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে সুকৌশলে নিবার্চনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
ইদ্রিস মিয়া :
বিএনপি নির্বাচনে গেলে মনোনয়ন চাইবেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও পটিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আমাদের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না। যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনারের অধীনে নির্বাচন হয় সেক্ষেত্রে বিএনপি নির্বাচনে গেলে মনোনয়ন চাইবো। বিগত সময়ে পটিয়াবাসী আমাকে উপজেলা পরিষদে নির্বাচিত করেছিলেন। দল এমপি নমিনেশন দিলে আশা করছি, সেই নির্বাচনেও জনগণ নির্বাচিত করবে। বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে এই আসনটি দেশনেত্রীকে উপহার দিত পারবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তিনি বলেন, আমি একটানা ১৭ বছর জনপ্রতিনিধি ছিলাম। এর মধ্যে ১২ বছর ছনহরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ৫ বছর পটিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। জনপ্রতিনিধি থাকার কারণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের জুলাই থেকে পটিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসাবে ১৭টি ইউনিয়ন কমিটি গঠন করি। সেপ্টেম্বর ২০০৯ ইং সনের মধ্যে প্রতি ইউনিয়নে সম্মেলন করে ইউনিয়ন কমিটি গঠন করি। পরবর্তীতে অক্টোবর ২০০৯ ইং কাউন্সিল অধিবেশনে সাবেক স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মরহুম ব্রিঃ জেঃ (অব) আ স ম হান্নান শাহ প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়ে ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিনিধিদের উপস্থিত ভোটের মাধ্যমে পটিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে মাননীয় চেয়ারপার্সনের সাথে সাক্ষাৎ করে নেত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক আন্দোলন, সংগ্রাম, হরতাল, প্রোগ্রাম, জানবাজি রেখে পালন করি। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ৩টি দ্রুত বিচার মামলা হয়। হাইকোর্ট থেকে নেতাকর্মীদের জামিন করে দলীয় কর্মকাণ্ড জোরদার করি এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে সুসংগঠিত করি। ২০১০ সাল থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম বর্তমানেও আছি এবং থাকব।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে সমাজ কল্যাণ ফেডারেশন কর্তৃক স্বর্ণ পদক, ২০০২ সালে মাওলানা মনিরুজ্জামান স্মৃতি সংসদ কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সমাজ সেবক হিসাবে স্বর্ণ পদক , ২০০৬ সালে জিসাস স্বর্ণ পদক, ২০০৭ সালে আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ স্বর্ণ পদক, এবং ১১ ডিসেম্বর ২০০৭ জাতীয় দরগাহ সংস্কার ও সংরক্ষণ কমিটি কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সমাজ সেবক চেয়ারম্যান হিসাবে স্বর্ণ পদক লাভ করেন তিনি এবং ২০০৮ সালে পটিয়া সমিতি চট্টগ্রাম সিটি কর্তৃক শ্রেষ্ঠ সংগঠক চেয়ারম্যান হিসাবে স্বর্ণ পদক পান।
ইয়াকুব আলী :
‘বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক দল এলডিপি। জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে গেলে ৩০ টি আসন চাইবে এলডিপি। এইক্ষেত্রে তাদের তালিকায় পাঁচ নম্বরে আছে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া)।’ এমনটিই জানালেন এলডিপির কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক এম এয়াকুব আলী। এইক্ষেত্রে সেখানে এলডিপি’র একমাত্র প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচন প্রার্থী হবেন তিনি।
এম এয়াকুব আলী দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আমাকে ২০০৮ সালে তৎকালীন মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে এককভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ র্নিবাচনে ২০ দলীয় জোট থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে পটিয়াবাসীর সেবক হিসাবে পাশে থাকার সুযোগ দিলে আমি এ আসনটি ড. কর্নেল (অবঃ) অলি আহমেদ বীর বিক্রম ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিব।’ তিনি বলেন, আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ। অতএব আমার জীবনে চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। আমি পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি করি। ভবিষ্যত প্রজন্মের ও পটিয়ার মানুষের সামাজিক সামগ্রিক উন্নয়ন করতে বদ্ধপরিকর। সেক্ষেত্রে ড. কর্নেল (অবঃ) অলি আহমেদ বীর বিক্রম দেশের স্বার্থে আমাকে যে সিদ্ধান্ত দিবেন আমি তা বাস্তবায়ন করব।
প্রসঙ্গত, এম.এয়াকুব আলী এয়াকুব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এলডিপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্যিক বিষয়ক সম্পাদক। চট্টগ্রাম-১২ আসনে ২০০৮ সালে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম প্রতিষ্ঠিত লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) শিল্পপতি এম.এয়াকুব আলীকে তৎকালীন মহাজোটের একক প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। শিল্পপতি এম. এয়াকুব আলী প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এলডিপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত আছেন। এবং দীর্ঘদিন দলের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক র্কমকাণ্ডের সাথে জড়িত থেকে পটিয়ার সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
গাজী সিরাজ :
বিএনপি নির্বাচনে গেলে চট্টগ্রাম-১২ আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন নগর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক গাজী সিরাজ। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, অবশ্যই মনোনয়ন চাইবো এবং দল মনোননয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করবো। পারিবারিকভাবেই বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলে, পটিয়া বিএনপিতে যে বিরোধ রয়েছে সেখানে তরুণ নেতৃত্বকে মনোনয়ন দিলে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।
প্রসঙ্গত, গাজী সিরাজের পিতা মরহুম গাজী দুলা মিয়া বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার আমলে থানা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং গ্রাম সরকার ছিলেন। গাজী সিরাজ ১৯৯৫ সালে পটিয়া থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৯৯৩-৯৪ সালে হুলাইন ছালেহ নুর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে পশ্চিম পটিয়া এ.জে. চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ, ৯নং বড়লিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের রাজনীতি করেন। ১/১১ এর সময় বিএনপি চেয়ারপার্সন গ্রেপ্তার হলে প্রতিবাদে মিছিল করে ছাত্রদল। সেবার আটক হন তিনি। ১৯৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রাম আইন কলেজে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০২ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরী ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০১৩ সালে নগর কমিটির সভাপতি এবং ২০১৮ সাল থেকে নগর বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সৈয়দ সাদাত আহমেদ :
বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি সৈয়দ সাদাত আহমেদ। তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে গেলে অবশ্যই মনোনয়ন চাইবো। দল মনোয়ন দিলে আসনটি দেশনেত্রীকে উপহার দিতে পারবো।
প্রসঙ্গত, পটিয়া থেকে বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ সাদাত আহমেদের রাজনীতির সূচনা হয়। ধারাবাহিকভাবে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন তিনি। এছাড়া পটিয়া উপজেলা বিএনপি’র সদস্য এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।
আসন সর্ম্পকিত :
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জয়লাভ করেছিলেন আওয়ামী লীগের নুরুল ইসলাম চৌধুরী। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির নজরুল ইসলাম। ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন ন্যাপের চৌধুরী হারুনুর রশীদ। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন জাতীয় পার্টির সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির শাহনেওয়াজ চৌধুরী মন্টু। তিনি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হন। একই বছর ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হয় বিএনপি। আর প্রার্থী ছিলেন গাজী শাহজাহান জুয়েল। তিনি ২০০১ সালের পহেলা অক্টোবর অষ্টম সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির টিকেটে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের সামশুল হক চৌধুরী। ওই নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির গাজী শাহজাহান জুয়েল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন সামশুল হক চৌধুরী। তবে এ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণ করেনি।

x