পটিয়ায় দেড় মাস পর কবর থেকে ব্যবসায়ীর লাশ উত্তোলন

ভূমি বিরোধে মারামারির ঘটনা

পটিয়া প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১৮ জুলাই, ২০১৯ at ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ
76

পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিণখাইন গ্রামের জায়গা জমি বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ব্যবসায়ী মো. কামাল উদ্দিনের (৪০) লাশ ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশে দেড় মাস (১ মাস ১৭ দিন) পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) পটিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বেশ্বর সিংহ’র নির্দেশে পটিয়া সহকারী কমিশনার ভূমি (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) সাব্বির রাহ্‌মান সানির নেতৃত্বে পটিয়া থানার একদল পুলিশ লাশটি উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেকে প্রেরণ করে। চমেক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল সন্ধ্যায় লাশটি পুনরায় দাফন করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজী মো. জাহাঙ্গীর আলম, এস আই রোকন উদ্দিন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শওকত আলম, মামলার বাদী মো. জামালসহ নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পটিয়া থানার এসআই কাজী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, পটিয়া থানার মামলা নং-১১, তাং ০৮/০৫/১৯ এর বাদী মো. জামালের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে তার ভাই নিহত মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের (৪০) লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ মে উপজেলার কুসুমপুরা হরিণখাইন গ্রামে জায়গা সম্পত্তির বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী লোকজন হামলা চালিয়ে মো. কামাল (৪০), চেমন আরা (৩৫), রবিন (১৮) ও মো. জামালকে (৩৮) আহত করে। লোহার রডের আঘাতে কামাল উদ্দিন গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৮ মে মো: জামাল বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে কামাল উদ্দিন ঘটনার ২৩ দিন পর ১ জুন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী মো. জামাল বলেন, ‘৮ মে পটিয়া থানায় আনোয়ার হোসেন, আইয়ুব হোসেন, মফিজুর রহমান, সাজ্জাদ হোসেন গং দের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করলে পরে তারা জামিন পেয়ে বেরিয়ে আসে। এর মধ্যে গত ১ জুন আমার ভাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। আমরা আইনজীবীর মাধ্যমে মামলায় হত্যা ধারা ৩০২ ধারা সংযুক্ত করে আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত আসামিদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠায় এবং আমার ভাইয়ের লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশকে।’ মামলায় বর্তমানে আনোয়ার হোসেন, আইয়ুব হোসেন, মফিজুল রহমান, সাজ্জাদ হোসেন জেল হাজতে রয়েছে। তবে আসামির লোকজন প্রভাবশালী হওয়ায় ময়নাতদন্তের রির্পোট ভিন্নখাতে প্রবাহিত হওয়ার আশংকা প্রকাশ করে বাদী পক্ষ।

x