নয় সফল নারী ডিসিকে সালাম

অনামিকা চৌধুরী

শনিবার , ১৬ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
44

বিগত একশ বছরের অধিক সময়ে বিশ্বব্যাপী নারী আন্দোলন ব্যাপকতা লাভ করলেও বিশ্বের নারীসমাজের মতো বাংলাদেশের নারীরা আজও সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন-নিপীড়নের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ফতোয়া, পাচার, যৌতুক, ধর্ষণ ও এসিড সন্ত্রাসের নির্মম বলি হচ্ছেন দেশের অসংখ্য নারী। নিরূপায় (!) হয়ে অনেক নারীই বেছে নিচ্ছেন আত্মহননের পথ। অসহায়ত্বের বোঝা সইতে না পেরে নিজ সন্তানকে বিষ খাইয়ে বা গায়ে আগুন লাগিয়ে মেরে ফেলে নিজেও আত্মাহুতি দিচ্ছেন দেশের নারীরা। পথে-ঘাটে, কর্মস্থলে কোথাও নারী নিরাপদ বোধ করছেন না। নারীর প্রতি এ ধরনের বহুমাত্রিক সহিংসতার মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির নিশ্চয়তা বিধান করা যায়নি এখনও।
তবে এত প্রতিকূলতার মাঝেও সামপ্রতিককালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীদের অভূতপূর্ব সাফল্য লক্ষ করা গেছে। এরই একটি উদাহরণ হচ্ছে- জেলার সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তি হিসেবে নারীর দায়িত্ব পালন। বর্তমানে দেশের নয় জেলার ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নয় নারী। এবং তা অত্যন্ত সুনামের সাথে। গত কয়েকদিন ধরে দেশের নানা মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছেন তাঁরা।
নয়জেলার ওই নয় ডিসি হলেন- সিরাজগঞ্জের ডিসি কামরুন নাহার সিদ্দীকা, নড়াইলের আনজুমান আরা, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, মুন্সিগঞ্জের সায়লা ফারজানা, ফরিদপুরের উম্মে সালমা তানজিয়া, পঞ্চগড়ের সাবিনা ইয়াসমিন, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন এবং শেরপুরের ডিসি আনার কলি মাহবুব।
বলা বাহুল্য যে- জেলা পর্যায়ে ডিসি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। ডিসি হিসেবে তাঁরা জেলার সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রম, জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখে থাকেন। এছাড়া নির্বাচিত সরকারের বিশেষ কর্মসূচি এবং চলমান সব উন্নয়নমূলক কাজেও জেলা প্রশাসক তদারকি করে থাকেন। এছাড়া একজন জেলা প্রশাসক যেকোনো বিষয়ে যেকোনো মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকেও যেকোনো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকারের নজরে আনার অনুরোধ বা অবগতি করতে পারেন।
আনন্দের বিষয় এটাই যে- নয়জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নয় নারীডিসির প্রত্যেকেই মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন নারী বা পুরুষ হিসেবে নয় বরং একেকজন কর্মকর্তা হিসেবে। এবং স্ব-স্ব জায়গায় তাঁরা প্রত্যেকেই সফল। এই নয় নারী এই মেসেজই আমাদের দিচ্ছেন যে- শিক্ষা-দীক্ষা ও প্রশাসনিক দক্ষতায় নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবার ও সমাজের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে নারীরা আজ অংশ নিচ্ছেন দেশের তাবৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নারী রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। যে কারণে- বাংলাদেশে লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়নও এখন ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। অতীতের তুলনায় রাজনীতিতে বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের নারীসমাজ। করপোরেটে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে আশাতীতভাবে। সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিতে নারীর সংখ্যা যত বাড়ছে তেমনিভাবে দ্রুত কমে আসছে নারীর কর্মে অংশগ্রহণের বাধা। এমনকি তৃণমূলেও নারীর অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো পরিবর্তিত হচ্ছে। সবচে বড় যে সাফল্য সেটি হচ্ছে- দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম সেক্টর হিসেবে পরিচিত গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেশিরভাগই হচ্ছেন নারী।
আমি মনেকরি, রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে নারীর অংশগ্রহণ জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত। বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ায় ক্ষেত্রে জোর ভূমিকা রাখায় ওই নয় নারীকে জানাই লাল সালাম।
জয়তু নারী।
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাক।

x