নয় মাসে রেমিটেন্সে ভালো প্রবৃদ্ধি

বুধবার , ৩ এপ্রিল, ২০১৯ at ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
75

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স বাড়ছেই। গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও ভালো প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার রেমিটেন্সের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে অর্থাৎ জুলাই-মার্চ সময়ে ১ হাজার ১৮৬কোটি ৮২ লাখ (১১.৮৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৭৬কোটি ১০ লাখ (১০.৭৬ বিলিয়ন) ডলার। এ হিসাবে এই নয় মাসে প্রবাসীরা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। সর্বশেষ মার্চ মাসে ১৪৫কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। খবর বিডিনিউজের।
গত বছরের মার্চে পাঠিয়েছিলেন ১৩১কোটি ৭৭ লাখ ডলার।এ হিসাবে মার্চ মাসে গত বছরের মার্চের চেয়ে রেমিটেন্স বেড়েছে ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ। টাকার বিপরীতে ডলারের তেজিভাব এবং হুন্ডি ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের কারণে গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও রেমিটেন্সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক ও ব্যাংকাররা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, রেমিটেন্স প্রবাহ খুবই ভালো। প্রতি মাসেই বাড়ছে। প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তারই ফল পাওয়া যাচ্ছে এখন।
অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতেও রেমিটেন্সের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। ২০১৯ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১৫৯ কোটি ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল এক মাসের হিসেবে রেকর্ড। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছিল ১৫০কোটি ৫০ লাখ ডলার; গত বছরের মে মাসে। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক রেমিটেন্সে সুখবর দিয়ে শেষ হয়েছিল ২০১৮ সাল।
গত বছরে এক হাজার ৫৫৩ কোটি ৭৮ লাখ (১৫.৫৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন তারা। ঐ অংক ছিল ২০১৭ সালের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থনীতির গবেষক জায়েদ বখত বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের রেমিটেন্স প্রবাহ ভালো। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে অবদান রাখছে রেমিটেন্স। এভাবে বলা যায়, আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছেন প্রবাসীরা।’

x