নড়বড়ে সাঁকো, দুর্ভোগে তিন ইউনিয়নের মানুষ

আকাশ আহমেদ, রাঙ্গুনিয়া

রবিবার , ১ এপ্রিল, ২০১৮ at ১২:২৭ অপরাহ্ণ
74

রাঙ্গুনিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পারাপারে প্রতিদিন তিন ইউনিয়নের শত শত মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সাঁকোটির কাছে অসহায় পথচারী। নড়বড়ে সাঁকো পারাপারে এদিকসেদিক হলেই পড়তে হয় খালে।

উপজেলার মরিয়মনগর ইউনিয়ন ও শিলক ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যম কর্ণফুলী নদীর রশিদিয়া পাড়া ঘাট হয়ে শিলক ব্যুহচক্র ঘাট। কর্ণফুলী নদীতে চর জাগার কারণে কর্ণফুলি নদীর উত্তরাংশে ভাগ হয়ে খালের মতো সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে পানি বেশি থাকলে লোকজন টানা নৌকায় পার হয়ে আবার নৌকায় কর্ণফুলী নদী পাড়ি দেন। গ্রীষ্মকালে পানি না থাকলে তখন সাঁকো তৈরি করে এলাকার বাসিন্দাদের পার হতে হয়।

রাঙ্গুনিয়া কলেজের ২য় বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) মো. হায়দার আলী বলেন, কলেজে যেতে নৌকায় কর্ণফুলী পার হয়ে উঠতে হয় সাঁকোতে। নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে পার হতে হয়। ঠিকমতো পা চালাতে না পারলে বই, খাতা নিয়ে পানিতেই পড়ে যেতে হবে। আবার বর্ষাকালে সাঁকো ডুবে গেলে টানা নৌকায় যেতে হয়, তখন দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। এই স্থানে একটি ফুট ব্রিজ হলে সবার জন্য ভাল হতো।

শিলক ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. লিয়াকত আলী (৩৮) বলেন, পুরুষরা কোনোমতে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হলেও নারীদের পার হতে খুব ঝামেলা হয়। প্রায় সময় নারী ও শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে পানিতে পড়ে আহত হন। স্থানীয়রা দুর্ভোগ লাগবে এই স্থানে একটি ছোট ব্রিজ নির্মাণের জন্য দাবি করে আসলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। মরিয়ামনগর ফরাশ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমন জানান, ব্যবসা বাণিজ্য সব কিছুতে বাঁশের সাঁকোটি বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে ফুট ব্রিজ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে।

রাঙ্গুনিয়া কোদালা চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক রাশেদ রুবেল জানান, প্রতিদিন এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে আমাদের চা বাগানে আসতে হয়। সাঁকোটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কোদালা ও শিলক ইউনিয়নের শত শত মানুষ এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। এখানে স্থায়ীভাবে একটি ব্রিজের প্রয়োজন।

শিলক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে অনেকে পানিতে পড়ে যায়। মরিয়মনগর ইউনিয়ন দিয়ে সহজে আমার ইউনিয়নের আসতে কর্ণফুলী নদী পার হতে বাঁশের সাঁকো দিযে পারাপার হতে হয়। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয় নারী, শিশু ও স্কুল ছাত্রীদের। এ সাঁকোর কাছে তারা একেবারে অসহায়। কোদালা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম তালুকদার জানান, বাঁশের সাঁকোটি বদলে দিতে পারে ৩ ইউনিয়নের জীবনমান। যুগ যুগ ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলছে ৩ ইউনিয়নের লোকজন। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটি মানুষের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এখানে যোগাযোগের জন্য স্থায়ী ব্রীজের প্রয়োজন রয়েছে। মরিয়মনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. সেলিম সাঁকো পারাপারে এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, কর্ণফুলী নদী পারাপারে শিক্ষার্থী ও এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমাতে ফুট ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগে গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে তিনি সংসদ সদস্য ড. হাছান মাহমুদের সাথে কথা বলবেন বলে জানান। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ দিদার জানান, বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচলে খুবই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। বাঁশের সাঁকোর বিকল্প হিসেবে একটি ফুট ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে ফুট ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

x