নীতি নির্ধারণী কয়েকজন ছিলেন না ২০ ফেব্রুয়ারির বৈঠকে

আজাদী ডেস্ক

মঙ্গলবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ
213

একটি মজার বিষয়, বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রামের যে প্রস্তাব, সেটি লেখা হয়েছিল ইংরেজিতে। অলি আহাদের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন শামসুল হকের লেখা যে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছিল তা লেখা হয়েছিল ইংরেজিতে। অথচ এরা সবাই সংগ্রাম করছিলেন মাতৃভাষা বাংলার জন্য।
১৪৪ ধারার পরিপ্রেক্ষিতে একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর আওয়ামী মুসলিম লীগের সদর দপ্তরে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আবুল হাশিম। পরদিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে এসময় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী নেতারা কেউ ঢাকায় ছিলেন না। কর্মপরিষদের বৈঠকে মওলানা ভাসানীর উপস্থিতি জরুরি ছিল। অথচ তিনি মফস্বলে সফর করছিলেন। অলি আহাদ তাকে ২০ ও ২১ তারিখের সফর বাতিল করে ঢাকায় থাকার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ভাসানী তা শোনেননি। আতাউর রহমান খানও ওই দুদিন ঢাকায় ছিলেন না। মামলা পরিচালনার জন্য ছিলেন ময়মনসিংহ।
গাজীউল হক বলেন, অলি আহাদ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি গোলাম মওলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মতিন-তাঁরা ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। ফজলুল হক হলের সহসভাপতি শামসুল আলম এদের সমর্থক ছিলেন। মোহাম্মদ তোয়াহা ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে বক্তব্য রেখেছিলেন। কিন্তু কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্ত অন্যরকম ছিল বলে তিনি ভোটদানে বিরত থাকেন।
বশীর আল্‌ হেলাল তার ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’ গ্রন্থে বলেন, সর্বদলীয় কর্মপরিষদের সদস্য ছিলেন প্রায় ৪০ বা ৪০ এর বেশি, বা, অলি আহাদের তথ্য অনুযায়ী ২৮ জন। তাদের মধ্যে ১৫-১৬ জন সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন? মোহাম্মদ তোয়াহা ছাড়া তো আর কারো ভোটে অংশগ্রহণ না করার কথা কেউ বলেননি। কিন্তু ১১ জন বিপক্ষে ও ৪ জন মাত্র ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে ভোট দেয়ার কথা একাধিক স্মৃতিচারণকারী বলেছেন।

- Advertistment -