নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের অপতৎপরতা রোধ করতে হবে

রবিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
47

‘জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) চেয়েও ভবিষ্যতে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে হিযবুত তাহরীর’- আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর ‘নীরব ঘাতকের ভূমিকায় হিযবুত তাহরীর’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৌশলে সুচতুরভাবে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। আইনি জটিলতায় বিচারের দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি জামিনে মুক্তির কারণে চট্টগ্রামে আবারো সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনটি। আগের মতোই তারা সক্রিয়ভাবে পোস্টার, লিফলেট বিতরণ করে সরকারবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে। গত ৯ বছরে হিযবুত তাহরীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৪০টি মামলা হলেও এর একটিও নিষ্পত্তি হয়নি।
যে কোনো ‘যুদ্ধবাজ’ সংগঠনকে ‘জঙ্গি’ এবং তাদের মতবাদকে ‘জঙ্গিবাদ’ বলা হয়ে থাকে। জঙ্গিবাদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘যুদ্ধকেই’ তারা একটি আদর্শ বলে গ্রহণ করে। সহিংসতা তাদের মোক্ষম হাতিয়ার। জঙ্গিবাদীরা আক্রমণাত্মক আদর্শের অনুসারী এবং নিজেদের মতাদর্শকে তারা সর্বশ্রেষ্ঠ মতাদর্শ হিসেবে বিবেচনা করে। এ দেশের জঙ্গিবাদীরা তাদের মতাদর্শের ধর্মীয়করণ ঘটিয়েছে। বিশ্বের নানা দেশের মতো বাংলাদেশেও একাধিক জঙ্গিবাদী সংগঠনের অপতৎপরতা রয়েছে।
আসলে সারা পৃথিবীতে এই একবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের বিস্ময়কর উন্নতির যুগে এসেও ধর্মের সংস্কার মানুষকে উৎকট ও বীভৎস পশুতে পরিণত করেছে- আর তার মরণ ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সচেতনতার গুরুত্ব আজ অনস্বীকার্য।
তবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের যে সাফল্য, যে অর্জন, সেটা অকল্পনীয়। বিশ্বের বহু দেশ এটা করতে পারেনি। ১৭ কোটি মানুষের দেশে জঙ্গি সদস্য এবং তাদের আস্তানা খুঁজে বের করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মেধাবী ও চৌকস অফিসাররা যে অপারেশনগুলো করছেন, তা বিরল ঘটনা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনা সাহস ও কর্মদক্ষতায় অনন্য। আর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে বিশ্বশান্তির দূত ও মানবপ্রেমী হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে জঙ্গিবাদ দমনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তারই গৃহীত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আজ জঙ্গিমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। শেখ হাসিনার দেখানো পথ এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো জঙ্গিবাদের রসাতলে পতিত না হয় যেন, সেই প্রত্যয় নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে এ দেশের সব মন্ত্রণালয়। মানবসম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা প্রদান, উদ্ধার অভিযান বা তৎপরতা, অপরাধ দমন, অপরাধী শনাক্তকরণ, জল ও স্থল সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান রোধ, প্রবাস ও অভিবাসন সম্পর্কিত নীতিমালা বা চুক্তি প্রণয়ন, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ, মাদকদ্রব্য চোরাচালান রোধ, মানবপাচার রোধ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে। নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর, সুখী ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি নির্মাণের লক্ষ্যে রাষ্ট্রনায়ক নিরলস ও বদ্ধপরিকর। সেই অবস্থায় চট্টগ্রামে হিযবুত তাহরীর সংগঠনের অপতৎপরতাও দৃষ্টিতে রাখা জরুরি।
দেশের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা ধর্মীয় উগ্র গোষ্ঠী তথা জঙ্গিবাদের কবল থেকে দেশকে নিরাপদ করা এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার প্রথম থেকেই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করছে। অর্থাৎ জঙ্গিবাদ দমনে এই সরকারের কোনো দুর্বলতা নেই, আগেই বলা হয়েছে- সাফল্য অর্জন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগের চেয়ে আরো সতর্ক এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কেবল আইন কিংবা শক্তি প্রয়োগ নয়, গণসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে। জঙ্গিদের অর্থায়নকারীদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। তার সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে সম্পৃক্ত করা দরকার। মাদ্রাসা, স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে জঙ্গিবাদ বিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা উপকরণ ও পাঠ্যসূচিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। গণমাধ্যমে জঙ্গিবাদের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে ব্যাপক প্রচারণার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

x