নির্যাতিত মানুষের কবি পাবলো নেরুদা

বৃহস্পতিবার , ১২ জুলাই, ২০১৮ at ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ
24

পাবলো নেরুদা চিলির বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাম্যবাদী কবি হিসেবে বিশ্বনন্দিত। ব্যক্তিজীবনে কমিউনিস্ট মতাদর্শের অনুসারী নেরুদা আজীবন নিবেদিত ছিলেন নিপীড়িত ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। সেই সাথে নতুন নতুন পালাবদল নিয়ে কবিতাকে উপস্থাপন করেন তিনি। তাই তাঁর কবিতাই কখনো কখনো হয়ে উঠেছে সমাজ বদলের হাতিয়ার। আজ নেরুদার ১১৪তম জন্মবার্ষিকী।

নেরুদার প্রকৃত নাম রিকার্দো নেফতালি রেইস ই বাসিয়ালতো। জন্ম ১৯০৪ সালের ১২ই জুলাই চিলির পারালএ। পাবলো নেরুদা তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম এবং এ নামেই তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেন। নেরুদার ছেলেবেলা কেটেছে চিলির সীমান্তবর্তী তেমুকো শহরে পাহাড়ি এলাকায়, নির্মল প্রকৃতির কাছে। সেখানে সাহিত্য সংস্কৃতির তেমন চল না থাকলেও মাত্র দশ বছর বয়স থেকেই নেরুদা কবিতা লিখতে শুরু করেন। ষোল বছর বয়সে লেখাপড়া করতে যান সান্তিয়াগোতে। এ সময় তিনি কবি হিসেবে রীতিমতো সুপরিচিত। বিশ বছর বয়সে ‘কুড়িটি প্রেমের কবিতা’ নামে একটি বই ছাপা হলে সারা দেশে নেরুদার নাম ছড়িয়ে পড়ে। নেরুদা চিলির বাণিজ্যদূত হিসেবে কাজ করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। কলকাতায় অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় মহাসভার অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর সাথে পরিচয় হয়েছিল স্পেনের গৃহযুদ্ধে নিহত কবি গার্থিয়া লোরকার। লোরকার হত্যার প্রতিবাদে নেরুদা আবেগময় প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ফলে তাঁকে রাষ্ট্রদূতের পদটি হারাতে হয়। ১৯৪৫ সালে চিলির কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন তিনি। এ সময় প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বেশ কিছুদিন তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৬৯ সালে চিলির কমিউনিস্ট পার্টি নেরুদাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করে। কিন্তু পরে ১৯৭০ সালে সম্মিলিত বামফ্রন্টর মনোনীত প্রার্থী সালভাদর আলেন্দে নির্বাচিত হলে নেরুদা সরে দাঁড়ান এবং আলেন্দে বিপুল ভোট জয়ী হন। কিন্তু দেশীবিদেশী প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের চক্রান্তে চিলিতে নেমে আসে ঘোর অশান্তি। এ সময় সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন আলেন্দে। নেরুদাও তখন মৃত্যুশয্যায়। আলেন্দে নিহত হওয়ার মাত্র বারো দিন পর ১৯৭৩ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর পাবলো নেরুদা প্রয়াত হন। প্রেসিডেন্টের রক্ত না শুকাতেই নেরুদার মৃত্যু একই সঙ্গে সাহিত্যবিশ্ব ও রাজনীতিবিশ্বকে কাঁপিয়ে দেয়। নেরুদার কবিতায় উঠে এসেছে তাঁর জীবনের বিভিন্ন সময়ের নানা পালাবদলের জীবনঘনিষ্ঠ চিত্র। তাঁর লেখা শেষ কবিতার নাম ‘মৃত্যু’। ১৯৭১ সালে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। সাধারণ মানুষ ও জীবন সম্পর্কে ব্যাপক অন্বেষণ এবং ব্যক্তিজীবন ও সাহিত্যে এর সর্বোত্তম প্রকাশে যুগ যুগ ধরে বিশ্বে নেরুদা চির স্মরণীয় হয়ে আছেন।

x