নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে বিএনপিতে দুই মত

ঢাকা ব্যুরো

বৃহস্পতিবার , ১৯ এপ্রিল, ২০১৮ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
405

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি অনেকটা অনিশ্চিত। এদিকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা রয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। বিএনপি মনে করে স্বাভাবিকভাবে খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের হতে দিবে না সরকার। এজন্য কঠোর আন্দোলন করেই তাকে মুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে নির্বাচনে আগে দলের চেয়ারপার্সনকে মুক্ত করতে না পারলে বিএনপির সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা তা নিয়ে দলের মধ্যে দু’টি মত রয়েছে। একটি গ্রুপ মনে করছে, দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিকল্প নেই। কিন্তু অপর গ্রুপটি মনে করে, খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপিকে জাতীয় পার্টির ভাগ্যবরণ করতে হবে। এতে দলের আরো বেশি ক্ষতি হতে পারে। তবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কেউই মুখ খুলতে চাচ্ছে না। কেননা, খালেদা জিয়ার মুক্তিই এখন দলটির প্রধান লক্ষ্য।

বিএনপি সূত্রমতে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে দলের এক গ্রুপ মনে করছে, এ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করলে দলটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। বিগত দশ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে দলটি। নেতাকর্মীরা মামলায় জর্জরিত হয়ে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তাদেরকে দলে ধরে রাখা যাবে না। আর পরপর দুই মেয়াদে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করলে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রেও দলটি হুমকির মুখে পড়তে পারে। এই নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে। এসব যুক্তি দেখিয়ে খালেদা জিয়া মুক্ত না হলেও নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য দলটিকে পরামর্শ দিচ্ছেন এ গ্রুপের নেতারা। তবে তারা এখন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাচ্ছেন না। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসলে এ গ্রুপটি আরো সক্রিয় হবে বলে সূত্র মনে করছে।

তবে অপর গ্রুপের নেতারা বলছেন, বিএনপির এখন একটাই মূল লক্ষ্য দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকারের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাবে দলটি। তারা মনে করেন, আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার জন্য বিএনপিকে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। জাতীয় পার্টির মতো বিএনপিকে মুষ্টিমেয় আসনে বিজয়ী দেখিয়ে একটি তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে। আর এজন্যই খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে চাচ্ছে সরকার। আর এ ধরনের নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপির আদর্শ জলাঞ্জলি দেয়া হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কোনো নিরপে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে। অন্যথায় নির্বাচনের পরিবর্তে আন্দোলনকেই একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নেবে দলটি।

এদিকে কারাগারে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমেই মুক্ত করতে হবে। অন্যথায় স্বাভাবিকভাবে সরকার জেলখানা থেকে খালেদা জিয়াকে বের হতে দেবে না। তাকে মুক্ত করার জন্য দেশের জনগণকে সাথে নিয়েই আন্দোলন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির একটি গ্রুপ খালেদা জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচনে যেতে চায়। এ বিষয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, মান্নান ভূঁইয়ার মতো কিছু লোক দলে আছে। তারা যুক্তি দেখায় নেত্রীর মুক্তির আন্দোলনের কৌশল হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়া উচিত। এ রকম পরিস্থিতিতে যদি আমরা যদি নির্বাচনে যাই, তাহলে ২০১৪তে কেন গেলাম না নির্বাচনে? আমরা সবসময় নিরপেক্ষ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছি, এ দেশের মানুষও তাই চায়। এই দাবি আদায়ের পর আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা নির্বাচনে যাবো কিনা। এজন্য কেউ কেউ আমাকে বলেছেনও ‘চুপচাপ থাইকেন’।

এদিকে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিষয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা তার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশের পরেও কারাকর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি ব্যক্তিগত চিকিৎসকের অধীনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও দাবি জানান।

x