নির্বাচনী সতর্কতা সবদিকে

সবুর শুভ

রবিবার , ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
81

নির্বাচনের মাঠ প্রস্তুত। সকাল থেকে নগরীতে সেনা টহল ছিল চোখে পড়ার মতো। যানবাহনে তল্লাশীও চালিয়েছে বিভিন্ন সড়কে। ভোট উপলক্ষে সতর্কতা সবখানে। এ কারণে অনেকটা শান্ত পরিবেশ। চট্টগ্রামের ১৬ আসনে কোথাও গোলযোগের খবর নেই। ভোটাররা ব্যস্ত ভোট নিয়ে। প্রার্থীরা ব্যস্ত ছিলেন কেন্দ্রে কেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগে। প্রিসাইডিং অফিসারসহ ভোট কর্মকর্তারা এ তীব্র শীতের রাতে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। সাথে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরাও ভোট কেন্দ্রিক ব্যস্ততায়। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সতর্ক ব্যস্ততা আইনশৃংখলার সাথে জড়িত সব সংস্থায়। এসব ছাপিয়ে সবার দৃষ্টি এখন ভোটের দিকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ‘মহারণের’ দিকে। এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২৮ ডিসেম্বর প্রচার প্রচারণা শেষ হওয়া অব্দি চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনে নির্বাচনী হাঙ্গামা হয়েছে। গুলিবর্ষণ, মারামারি, প্রার্থীর উপর হামলা ও প্রার্থীর গাড়ি ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব ঘটনা ধানের শীষ ও লাঙ্গলের প্রার্থী ও তাদের লোকজনের উপর ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এ পরিস্থিতিতে বাঁশখালীতে লাঙ্গলের প্রার্থী সাবেক এমপি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট নিয়ে প্রচারণা চালান। নির্বাচনে নিরাপত্তাজনিত কারণে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট নিয়ে প্রচারণা চালানোর ঘটনা এবারই প্রথম।
এভাবে আস্তে আস্তে দিন এগিয়ে যায়। ভোটের মহারণও শুরু হওয়ার ক্ষণ গণনা শুরু হয়। এরই মধ্যে প্রচার প্রচারণা শেষ হওয়ার পর গত দুইদিনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক। তবে সাধারণ ভোটারদের মাঝে এক ধরনের গুমোটভাব লক্ষ্যণীয়। সবারই একই কথা ভোট কি রকম হবে? এদিকে প্রচারণা শেষ হওয়ার আগের কয়েকদিনে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ আসনে ২০টির বেশি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বাঁশখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, পটিয়া, চান্দগাঁও, ডবলমুরিং, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, মিরসরাই ও চন্দনাইশে।
প্রার্থীদের মধ্যে হামলার শিকার হয়েছেন বাঁশখালীতে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী ও জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, মীরসরাইতে নুরুল আমিন, সীতাকুন্ডে ইসহাক কাদের চৌধুরী, ফটিকছড়িতে কর্নেল আজিম উল্লাহ বাহার, হাটহাজারীতে মেজর জেনারেল (অব) মোহাম্মদ ইব্রাহীম বীরোত্তম ও চন্দনাইশে কর্ণেল (অব) অলি আহমদের ছেলে। উল্লেখিতদের মধ্যে মাহমুদুল ইসলাম লাঙ্গণ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। বাকীরা ২০ জোটের প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে রয়েছেন।
বিভিন্ন সংঘর্ষ সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যে নিরাপত্তার জন্য ক্ষত হিসেবে উল্লেখিত প্রার্থীদের আসনগুলোতে রয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সর্তক দৃষ্টি। ভোটারদেরও বিশেষ দৃষ্টি আসনগুলোতে কাকে ছাপিয়ে কে পরছেন জয়ের মালা।
এদিকে নির্বাচনের একেবারে শেষমুহূর্তে গতকাল নগরীসহ চট্টগ্রামের সর্বত্র শক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় ছিল। ভোটের মাঠে ছিল অন্যধরনের এক নিরবতা। গন্ডগোলের তেমন খবর না থাকলেও বিএনপি প্রার্থীর কর্মী সর্মথকদের গ্রেফতারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত। ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে বাঁশখালী আসনে নির্বাচনের মাঠে থাকা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি ভাল নয়। কোথাও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের তৎপরতা হতাশাজনক। তারপরও মাঠে আছি। ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবো।

x