নির্বাচনী প্রচারণা ও নির্বাচন কমিশন প্রসংগে

বৃহস্পতিবার , ৯ আগস্ট, ২০১৮ at ৪:৫৫ পূর্বাহ্ণ
17

ক্ষমতাসীন দল একতরফাভাবে সভা সমাবেশ করে নির্বাচনী প্রচারণা এবং ভোট চাওয়া শুরু করে দিয়েছে। প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য দলকে এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে তবে কি তা লেভেল প্লেয়িং হিসেবে গণ্য করা যাবে? প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইতোমধ্যে বার্তা দিয়েছেন বিরোধী দলগুলোর সভা সমাবেশে পুলিশি বাধা বন্ধ করতে পারবেন না। এ থেকে অনুমিত হয় নির্বাচন কমিশন সব দলের জন্য নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টির ক্ষেত্রে এক ধরনের উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে। বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তা তার রুটিন কাজ। প্রত্যেক জাতীয় নির্বাচনের আগেই এ ধরনের কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়। এটা নতুন কিছু নয়। তবে আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা যেহেতু খুবই ‘ক্রিটিকেল’ এবং চ্যালেঞ্জিং বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তাই এই নির্বাচন কমিশনের রুটিন কাজের বাইরে আরো অনেক কিছু করার রয়েছে। প্রথা, ঐতিহ্য, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নিতে পারে। নির্বাচন কমিশনের কাজ নির্বাচনে সব দলকে আকৃষ্ট করা এবং সমান সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য যত ধরনের প্রক্রিয়া অবলম্বন করা প্রয়োজন তার সবই করা। এ নির্বাচন কমিশনের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আশা করছে মানুষ। দেশের মানুষ আগামী নির্বাচনের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহ এবং উৎসাহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য শুরু করেছেন। রুটিন কাজ বলে এটিকে তারা খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল তার ক্ষমতা ব্যবহার করে একতরফাভাবে নির্বাচনী প্রচার ও ভোট চাওয়া শুরু করে দিয়েছে। প্রধান বিরোধীদলসহ অন্যান্য বিরোধী দলকে সে সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়টি স্বপ্রণোদিত হয়ে দেখতে হবে। একথা অনস্বীকার্য এখন থেকে বিরোধী দলগুলোর জন্য নির্বাচনী প্রচারের সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠবে। ৯০ দশকের শুরুতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার টিএন সেশন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গিয়ে অনেক বাধা বিপত্তির মুখে পড়েছিলেন এবং সমালোচিত হয়েছিলেন কিন্তু তাকে কোন কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি। ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় খোলনলচ বদলে দিয়েছিলেন। সততা ও দক্ষতার সাথে অসাধারণ নির্বাচন উপহার দিয়ে ইতিহাস হয়ে রয়েছেন। আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সামনে এক ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শুধু প্রয়োজন তার দৃঢ়তা ও সক্ষমতা প্রদর্শন।

এম. . গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x