নির্বাচনী ইশতেহারে যা চাই

ফেরদৌস আরা আলীম

শনিবার , ১ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৭:২২ পূর্বাহ্ণ
25

হালকা হাতে হিম ছড়ানো হেমন্ত দেখতে না দেখতে কেমন জেঁকে বসেছে। উদয়পদ্মের মিষ্টি সকালের আমেজ কাটিয়ে সন্ধ্যার ছাতিমের ঘ্রাণে পৌঁছুবার আগেই দিনের আয়ু ফুরিয়ে যায়। বাইরে রোদের ধার নেই। ঘরজুড়ে ছায়া-ছায়া বিষণ্নতা। এরই মধ্যে চলতি পথে কদমের ঘ্রাণ; হালকা, মদির। চোখ তুলে তাকাতেই একি! এও সম্ভব? যথারীতি পূর্ণবৃত্তে সোনার কদম। শুধু সতেজ সবুজ বলিষ্ঠ পাতার আদরের কোল নেই। হেমন্তের হলদেটে পাতা; ধূসর ধূলোর আস্তরণে ঢাকা। কিন্তু কদম তার চিরচেনা অবয়বে এবং ঘ্রাণে। দুদিন পরে দৈনিক আজাদী ছেপেছে রাউজানে কদম ফোটার খবর। শঙ্কা জাগে মনে, পরিবেশের এ কোনও অশনি সঙ্কেত নয়তো? পরিবেশ-ঝুঁকির ছ’নম্বরে থাকা দেশ আমাদের; কখন যে কি হয়, কে জানে। তবে মাঝে মাঝে এমন আকস্মিকতায় আনন্দ খুঁজে পাবার কিছু কারণও ঘটে যায় বা জুটে যায়। নির্বাচনী হাওয়া বইছে দেশজুড়ে। ছিল শৈত্যপ্রবাহের মতো হাওয়া। হঠাৎ ঐক্যফ্রন্টের জন্য দুয়ার খুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। দখিনা বয়ে গেল দেশজুড়ে। জীবনের রঙ বদলে দিল হেমন্তে শ্রাবণের কদম; এবারে বুঝি বসন্তের কোকিলও ডাকতে শুরু করবে!
আসলে হালকা কথার সময় এখন নয়। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি আমরা সবাই। নিয়মমাফিক (অন্যায়, অসঙ্গত, অনাকাঙ্ক্ষিত অনিয়মের নিয়ম) নির্বাচনী আতঙ্ক-উদ্বেগের ঘূর্ণাবর্তে যখন খাবি খাচ্ছি আমরা বোকার হদ্দরা তখন পরিস্থিতি সহজ করে তুলেছে প্রধানমন্ত্রীর হাসিমুখ, কোমল আহ্বান। অতঃপর একের পর এক দিনের পাতা উল্টে যাচ্ছে সময়। এ পক্ষে-ও পক্ষে অভিযোগ উঠছে পরস্পরের বিরুদ্ধে। নালিশ শুনে বিধান যা দেবার দিয়ে চলেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের কর্মতৎপরতার নানা খবর আমরা সাধারণ মানুষ এ কানে শুনছি, ও-কান দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছি। কিন্তু মাঝে মাঝে হোঁচট খেতে হয়। প্রথমবারের মতো চমকে উঠেছি নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী ‘ব্রতী’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদের কথায়। তিনি প্রশ্ন তুললেন, (দৈনিক প্রথম আলো, ২৩/১১/১৮)… এ কেমন নির্দেশনা? মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে দেখতে হবে নির্বাচন? গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনও কথা নয়। কোনও মন্তব্য নয়। মোবাইল ফোন ব্যবহার করা চলবে না। … রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যে একটা নির্বাচন হতে যাচ্ছে অথচ বহুদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছে এমন অনেক সংস্থা এবার পর্যবেক্ষণে নেই। … সব দলের অংশগ্রহণে শাসক দলের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে, একরকম সমঝোতার অভাবের মধ্যেই হচ্ছে নির্বাচন… মাথার উপরে ঝুলছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খড়গ… তবু নজরদারি না থাকলে ন্যূনতম স্বচ্ছতাও সম্ভব? এ কেমন ভাষা ইসির? শারমিন মুরশিদ ঠাণ্ডা মাথায় শুধু বললেন, এ ভাষা, এমন ভাষা বদলাতে হবে।
দেশজুড়ে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। ইশতেহারের গান রচিত হচ্ছে দলের ঘরে ঘরে। দেশে সমস্যার অভাব নেই। প্রতিশ্রুতিরও অভাব থাকার কথা নয়। কথা হচ্ছে কোন দল কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতিমধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তরুণদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, ওদের কথা শুনেছেন। ২ কোটিরও বেশি তরুণ ভোটারের (২ কোটি ৩৫ লক্ষ) মন জয় করার বিষয়টি সব দলে এবার অগ্রাধিকার পাবে নিশ্চয়ই। দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের হার বাড়ছে। শিক্ষার মান ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। ২০ নভেম্বর প্রথম আলোর সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে একদিকে শিক্ষিত বেকারের হার বাড়ছে, অন্যদিকে উচ্চ বেতনে বিদেশ থেকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী আমদানি করা হচ্ছে। এ চিত্রে শুধু শিক্ষার মানই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে না। অন্য একটি সত্যও সামনে এসে দাঁড়ায়। দরিদ্র মেধাবী তরুণ উচ্চ শিক্ষার খরচ জোটাতে অক্ষম। উন্নত দেশের মতো বিনা জামানতে কম সুদে উচ্চ শিক্ষা ঋণ (কর্মজীবনে ঢোকার পর যে ঋণ পরিশোধ করবে সে নিজে) কোথায় পাবে তারা? তাছাড়া শিক্ষিত তরুণ বেকার থাকবে কেন? বিনা জামানতে কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ কি সরকার নিতে পারে না? ইশতেহারে এমন ঘোষণা তো আসতেই পারে। ইশতেহারে যুগোপযোগী, মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকবে, থাকবে প্রশিক্ষিত মানব সম্পদ তৈরির নিশ্চয়তা।

তৈরি পোশাক শ্রমিকের মাসিক নিম্নতম মজুরি ৮০০০ টাকাই ঠিক রইল। নতুন এই মজুরি কাঠামোতে পোশাক শ্রমিকেরা যাচ্ছেন আগামী জানুয়ারি থেকে। অর্থাৎ নতুন বছরে (২০১৯) ৫০ দশমিক ৯৪ শতাংশ বাড়তি মজুরি পাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ও গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি সবার পক্ষ থেকে অসন্তোষ ব্যক্ত হয়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয় জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে মজুরি কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর তার সঙ্গে সমন্বয় করে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ করবেন। এতে কারও মজুরি যাতে কমে না যায় সেটা লক্ষ করতে হবে। কোনও রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে এ বিষয়টিও আসতে পারে। পোশাক শ্রমিকেরা ভোটের মাঠে কম বড় শক্তি নন।
আমরা জানি নির্বাচনী ইশতেহারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা আসবেই। ২৪ নভেম্বর দৈনিক সমকালে দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু যথারীতি এ বিষয়ে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মর্মস্পর্শী লেখায় জনকল্যাণমূলক নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০১ সালেও এমন প্রতিশ্রুতি ছিল কিন্তু নির্বাচন শেষ হতে না হতেই বিভিষিকাময় ছবি একের পর এক দেখতে হয়েছে আমাদের। তিনি বলেছেন, বড় দুঃখে বলেছেন এখনই বিনিদ্র রাত কাটাতে শুরু করেছেন কোনও কোনও এলাকার সংখ্যালঘুরা। আমরা চাই এঁদের নিরাপত্তার বা এদের অধিকারের বিষয়টি জোরালো প্রতিশ্রুতি হয়ে আসুক।
বন-পাহাড়-নদী নিয়ে সারা বছর বা বছরের পর বছর হাহাকার করে যাচ্ছেন পরিবেশবাদীরা। হারিয়ে যাওয়া, বুঁজে যাওয়া, গতিপথ ও স্বভাব বদলে দেওয়া নদী নিয়ে, কেটে ফেলা পাহাড় নিয়ে এবং বনাঞ্চলের প্রাণবিনাশী আয়োজন নিয়ে কত শত প্রতিবেদক, কত কলাম লেখক লিখে যাচ্ছেন তো যাচ্ছেন। বন-পাহাড়-নদী রক্ষায় (তেল-গ্যাসের কথাও মনে আসবে সবার) আপাত ব্যর্থ আন্দোলনের পাহাড় জমে উঠেছে আমাদের। অথচ আমরা জানি ইশতেহারে ভালো ভালো কথা আসবে, প্রতিশ্রুতি আসবে। আসুন লক্ষ করি, দায়িত্ব পালনে যারা শুধু ব্যর্থ ছিলেন না, রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞের হোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন তাঁরা আবার মনোনয়ন পাচ্ছেন কি না!
আসলে প্রিয় পাঠক, এসব কথা নারী পাতার মূল কথা যে নয় সে আপনারাও জানেন, আমিও জানি। আসছি নারীর কথায়। চলছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ। ২৫ নভেম্বর দিবসটি (আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন দিবস) উপলক্ষে কি বিক্ষোভ, কি বিক্ষোভ ইউরোপজুড়ে। হ্যাশট্যাগ (মিটু আর বলতে হয়?) আন্দোলনে তোলপাড় দুনিয়ায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস এবং টানা একটি পক্ষ ঘিরে আবার এতটা বিক্ষোভ জমে ওঠাটা বিস্ময়কর বৈ কি। অথচ ক্যারোলিনার (নামের শেষের অংশটি মনে পড়ছে না) এক ডাকে ফ্রান্সের রাস্তায় নেমে এসেছে ৫০ হাজার লোক। ইতালির রোমে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়, গ্রীসের এথেন্সে-কোথায় নয়? ওদের হাতে ‘ন্যুঁ তুত’ (আমরা নারী) লেখা বেগুনি রঙের ফেস্টুন এবং গলায় গলায় স্লোগান : ‘ধর্ষণ একটি রোগ’, ‘নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার দায়মুক্তির দিন শেষ’ এবং ‘নিপীড়নের জন্য নারীরা কখনও দায়ী নন’ ইত্যাদি স্লোগানে উত্তাল জনস্রোতের সাক্ষী হয়ে রইল সারা দুনিয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিবস ও পক্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৬ নভেম্বর বিকেলে পালন করেছে ‘ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ এই স্লোগানে। এ উপলক্ষে সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে (২৫ নভেম্বর) মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘দেশে নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে আছে মনস্তত্ত্ব, পিতৃতন্ত্র ও বৈষম্যমূলক আইন। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নও এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। রাষ্ট্র আপসহীন এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি না নিলে সমাজের ভেতরের এই অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যাবে না। বলতে চাই নির্বাচনী ইশতেহারে এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করবেন কেউ? কোনও রাজনৈতিক দল?
এই চট্টগ্রামে, পলোগ্রাউন্ড মাঠে গত ৪ নভেম্বর ১২তম ইন্টারন্যাশনাল উইমেনস এস এম ই এঙপো ২০১৮ উদ্বোধন করতে এসে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, দেশে মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী। অথচ সংসদে নারীর সংখ্যা মাত্র ৫০। এ সংখ্যা দেড়শোয় নিতে হবে। কারণ নারী আইন প্রণেতার সংখ্যা বেড়ে গেলে নিজেদের চলার পথের বাধা তাঁরা নিজেরাই দূর করতে পারবেন। এ সত্যটি আজ আর কোনও নারীর অজানা নয়। তবু সত্য শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু তিনি যখন বললেন, ব্যবসায় নারীরা এসেছেন পাশাপাশি রাজনীতিতেও এগিয়ে আসতে হবে তাঁদের। কিন্তু রাজনীতিতে এই চট্টগ্রামের নারীরা যে কতটা এগিয়ে সে হিসেবের শুরুটা যাঁকে দিয়ে তাঁর নামের অগ্নিশপথ নিয়ে গত শতাব্দীর ৩য়-৪র্থ দশক থেকে আজ পর্যন্ত রাজনীতিতে এখানকার নারী কতখানি সম্পৃক্ত কতটা কর্মতৎপর তার উদাহরণ সব দলেই রয়েছে।
প্রসঙ্গত মনোনয়ন প্রসঙ্গে কিছু কথা না বললেই নয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট ও দলের হয়ে এবারকার মনোনয়ন প্রার্থীতার সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এরা। শাসক দলের পক্ষ থেকে চমৎকার ভাষায় বলা হলো, ‘এটা গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য’। অন্যপক্ষে বলা হলো, ‘স্বৈরশাসনের অবসানে এটা ভোটের উৎসবের লক্ষন।’ আমরা ভাবছি এই ১২ হাজারের মধ্যে নারীর সংখ্যা কত? গণতান্ত্রিক সৌন্দর্যের পক্ষে কজন বা স্বৈরশাসন-অবসানের আনন্দের হাটেই বা কজন জায়গা পেলেন? এমনিতে বিভিন্ন দলের নেত্রীরা ১৫০ আসনে নারী মনোনয়ন দেবার কথা বলেছেন। খবরে এসেছে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চান ৩ শতাধিক নারী। বিএনপির শতাধিক নারী নেত্রী মনোনয়নপ্রার্থী। কার্যত কি হচ্ছে বা হতে যাচ্ছে তারও আভাস স্পষ্ট। নারী-নেত্রীদের মধ্যে মুখস্থ কিছু নাম যাঁরা তাঁদের জয়ের পথ দীর্ঘদিন ধরে নিষ্কন্টক রাখতে সক্ষম হয়েছেন, যাঁদের ত্যাগ, তিতিক্ষা এবং সাফল্য বিষয়ে সন্দেহ নেই তাঁরা তো মনোনয়ন পাচ্ছেনই। সেইসঙ্গে উত্তরাধিকারসূত্রে পিতা বা স্বামীর স্থলাভিষিক্ত কিছু নামের গুঞ্জন এখন তুঙ্গে। সেক্ষেত্রে ত্যাগে, মহত্ত্বে, সততায় যাঁরা দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন, থাকবেন তাঁদের কন্যা বা স্ত্রীদের মনোনয়নেও প্রশ্ন উঠে যদি দুঃসময়ে প্রাণপাত করা, সংগ্রামী কোনও নাম উপেক্ষিত হয়। আর অভিযুক্ত, অযোগ্য, অনকাঙ্ক্ষিত গডফাদারের স্ত্রী যদি মনোনয়ন পান তাহলে মর্মপীড়ার সীমা পরিসীমা থাকে না। অন্যদিকে, সংস্কৃতি বা সংস্কৃতিজগত সম্পর্কে আমাদের শ্রদ্ধা নেই তা নয়। কিন্তু সঙ্গীতে, চলচ্চিত্রে, নাট্যঅঙ্গনে জনপ্রিয়তার জোয়ারে ভাসা কিছু মুখের জন্য রাজনীতিতে আপাদমস্তক সম্পর্কিত কাউকে বঞ্চিত করাও সমীচীন মনে হয় না। এতে ভোটারের মন-মানসিকতারও অবমূল্যায়ন করা হয়। অন্যদিকে রাজনীতিতে আগ্রহী, দক্ষতাসম্পন্ন, নারীরা এতে ভীষণভাবে নিরুৎসাহিত হন। যোগ্যতাসম্পন্ন মর্যাদাসম্পন্ন রাজনীতিতে নিবেদিত লড়াকু নারী কখনোই সংরক্ষিত আসন চান না। তিনি সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা চান এবং সরাসরি নির্বাচিত হতে চান। রাজনৈতিক দলে- ইশতেহারে এমন সব প্রতিশ্রুতি কেউ দিতে পারবেন কি?

x