‘নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ২৬ অক্টোবর’

বুধবার , ২৪ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ
677

এবারের নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে সে বিষয়ে আগামী ২৬ অক্টোবর আওয়ামী লীগের যৌথ সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সেতুমন্ত্রী কাদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সব সিদ্ধান্ত হবে আগামী ২৬ অক্টোবর, সেদিন সন্ধ্যায় দলের ওয়ার্কিং কমিটি, উপদেষ্টা কমিটি ও পার্লামেন্টারি কমিটির যৌথ সভা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। খবর বিডিনিউজের।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এবার মন্ত্রিসভার আকারে বড় কোনো পরিবর্তন নাও আনা হতে পারে। এ বিষয়ে কাদের বলেন, নেত্রীর সর্বশেষ ভাবনায় যৌক্তিকতা আছে। মন্ত্রিসভার সাইজ বড়-ছোট ব্যাপার নয়, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও একই অবস্থা। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখন সংবিধানে নেই। বর্তমান ব্যবস্থায় ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, তবে তিন মাসের ক্ষণ গণনা শুরু হলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অধীনে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন; যার নাম দেওয়া হয় ‘সর্বদলীয় সরকার’। ওই মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর নেতাদের নেওয়া হয়। স্বল্প পরিসরের ওই মন্ত্রিসভা সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। বিএনপিকে সেই ‘সর্বদলীয়’ সরকারে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তারা প্রত্যাখ্যান করে। পরে তারা দশম সংসদ নির্বাচনও বর্জন করে।
সোমবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এবারের নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসতে চাইছিল না বলে তিনি মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করে তাতে তখনকার বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তখন তারা আসল না। বিরোধী দলে অন্য যারা ছিল, তাদেরকে নিয়ে আমি মন্ত্রিসভা গঠন করি। সেই মন্ত্রিসভা ছোট আকারে আমরা করেছিলাম, ইলেকশনটা আমরা সেভাবে করি।
গতবারের সঙ্গে এবারের পরিস্থিতির পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দশম সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও তিনি প্রতিনিধিত্বশীল সব দলের প্রতিনিধি নিয়েই সরকার গঠন করেছেন। যেহেতু সব দলের প্রতিনিধি আছে, এখন জানি না এটা খুব প্রয়োজন আছে কি না।
শেখ হাসিনা বলেন, মন্ত্রিসভা ছোট করা হলে একজনকে কয়েকটা মন্ত্রণালয় চালাতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দুই তিন মাসের জন্য থমকে যেতে পারে। এ বিষয়গুলোও ভাবতে হবে।
সচিবালয়ের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, গতবার আমাদের দেশে বিষয়টা ভিন্ন ছিল, মন্ত্রিসভার সাইজ ছোট হয়ে গিয়েছিল, ভিন্ন প্রেক্ষাপট ছিল, বিএনপিন নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয় ছিল, পার্লামেন্টে ছিল। এবার সাইজ ছোট হলেও দুই একজন যুক্ত হতে পারে, এ অবস্থায় থাকলেও দুই একজন যুক্ত হতে পারে।
কোন দল থেকে নতুন মন্ত্রী আসতে পারে জানতে চাইলে কাদের বলেন, রুলিং পার্টি থেকে আসতে পারে, মেইন অপজিশন পার্টি থেকেও আসতে পারে। সম্ভবত মেইন অপজিশন পার্টি থেকে আসতে পারে। আমার ধারণা থেকে বলছি, গ্যারান্টি দিয়ে বলছি না।
নির্বাচন সামনে রেখে বিরোধীরা যখন একজোট হচ্ছে, তখন মহাজোট সমপ্রসারণের কোনো উদ্যোগ আছে কি না তার কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। উত্তরে কাদের বলেন, ড. কামাল তার অবস্থান ব্যক্ত করেছেন, মেরুকরণটা কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন তো অনেকগুলো জোট হয়ে গেছে। জোটের মেলা দেখতি পাচ্ছি, জোট তারকাদের মেলা দেখতে পাচ্ছি। জনতার কতটা সমর্থন আছে এটি বিষয় নয়, আমি নেতা আমার সিল প্যাড থাকলেও তো দল।
আগামী কয়েক দিনের ভেতরে অনেক কিছুই স্পষ্ট হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কাউকে কটাক্ষ করছি না, তাদের আরও মেলা সামনের দিকে দেখতে পাবেন। এগুলো দেখেই সামনের দিনে চিন্তাভাবনা করব। আমাদের ১৪ দলীয় জোট অনেক আগে থেকেই সক্রিয়, জাতীয় পার্টির সাথেও সমঝোতা আছে। বিএনপি নির্বাচন না করলে জাতীয় পার্টি তো আবার ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তখন আমাদের তো আর জোট করার প্রশ্ন আসে না। মেরুকরণটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার ওপর নির্ভর করবে অ্যালায়ান্সের সমীকরণ করতে হবে।

x