নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ হচ্ছে কাজ

ওয়াসার কর্ণফুলী প্রকল্প ২

শুকলাল দাশ

শুক্রবার , ১১ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ
608

কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ এর কাজ নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই শেষ হচ্ছে। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি নগরবাসীর মধ্যে সরবরাহ করা হবে বলে জানান চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাকসুদ আলম। মূল প্রকল্পের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা থেকে পানি এনে চুয়েট এলাকায় ট্রিটমেন্ট করার প্ল্যান্টের কাজ এখন পুরোদমে চলছে। রিজার্ভারও প্রস্তুত আছে।
পোমরা থেকে চুয়েট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, সেখান থেকে নাসিরাবাদ রিজার্ভার, সেখান থেকে হালিশহর বি-ব্লক পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন পাইপ লাইনের কাজও শেষ হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় নগরীতে ৬২৩ কিলোমিটারের নতুন পাইপ লাইন স্থাপনের মধ্যে ৪০০ কিলোমিটার পাইপ লাইনের কাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট ২২৩ কিলোমিটার পাইপ লাইনের কাজও পুরোদমে চলছে। প্রকল্প মেয়াদ ২০২২ সাল হলেও আগামী বছরই এই প্রকল্পের পানি পেতে যাচ্ছে নগরবাসী। এই প্রকল্পের পানি পাওয়ার পর মহানগরীর কোন এলাকায় আর পানির সংকট থাকবে না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপ প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাকসুদ আলম আজাদীকে জানান, চট্টগ্রাম ওয়াসার সবচেয়ে বড় প্রকল্প কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেইজ-২)।
জাপানের জাইকা, বাংলাদেশ সরকার ও চট্টগ্রাম ওয়াসার যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৪ শ’ ৯১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে জাইকার ৩ হাজার ৬ শ’ ২৩ কোটি ২৮ লাখ, বাংলাদেশ সরকারের ৮ শ’ ৪৪ কোটি ৮০ লাখ এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার নিজস্ব তহবিলের ২৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। এই প্রকল্প থেকে প্রতিদিন ১৪ কোটি লিটার পানি পাওয়া যাবে।
এই মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। ৫ বছর পর নগরবাসী এই প্রকল্প থেকে পানি পেতে যাচ্ছে। বর্তমানে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প ১ এবং মদুনাঘাট পানি শোধনাগার প্রকল্পের পানি নগরীতে সরবরাহ করার ফলে পানি সংকট অনেকটাই কমে গেছে। এখন আর আগের মতো পানি সংকট নেই। এক সময় হালিশহর, বন্দর, দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর এলাকায় পানির নিয়মিত সংকট থাকলেও এখন আগের চেয়ে অনেকটা কমে এসেছে। সপ্তাহে ৩/৪দিন পানি পাওয়া যাচ্ছে।

x