নিরাপদ সড়কের আন্দোলন

সোমবার , ৬ আগস্ট, ২০১৮ at ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
14

কোনভাবে থামানো যাচ্ছে না বাসের অসম প্রতিযোগিতা। বিমানবন্দর সড়কে যাত্রীবাহী দুই বাসের রেষারেষিতে প্রাণ হারিয়েছে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী। আহত হয়েছে প্রায় ১৫ শিক্ষার্থী। প্রতিবাদে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভ পালন করেছে। যে সব পরিবার সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয়জনকে হারায় তারাই জানে স্বজন হারানোর বেদনা কত নির্মম কতটা কঠিন। দুর্ঘটনার কারণে কত পরিবার নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়ে তার খবর কে রাখে। আমাদের দেশে যতগুলো সমস্যা বিদ্যমান তার মধ্যে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। দিনের পর দিন যে হারে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে সে তুলনায় তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা অপ্রতুল। বেপরোয়া গাড়ি চালকদের অপরিণামদর্শী খামখেয়ালিতে প্রতিদিন ১৫/২০ টি মানুষের জীবন রাজপথে ঝরে যাচ্ছে। পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য। সংবাদপত্রের প্রকাশিত খবরে জানা যায়, নিকট অতীতে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফেরি ডুবিতে কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। আমাদের দেশে এমন নজির কি ভাবা যায়? বরঞ্চ সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যায়। আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী পদত্যাগ করুক, এটা বলছি না। অন্ততঃ বিরূপ মন্তব্য না করে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিক, এটুকুই আমরা আশা করতেই পারি। বাংলাদেশের মতো এত বেশি সড়ক দুর্ঘটনা পৃথিবীর অন্য কোন দেশে হয় বলে মনে হয় না। মূলতঃ দায়িত্বশীল মহলের দায়িত্বহীন আচরণের কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা এবং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। সড়কে মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির হার প্রতি বছরই বাড়ছে। যেভাবেই হিসেব করা হোক, একটি স্বপ্নময় জীবন এবং পঙ্গুত্ব নিয়ে স্বপ্ন ভঙ্গের মূল্য আর্থিক ক্ষতির মানদণ্ডে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। গণমাধ্যমের সুবাদে নাগরিক সমাজে তোলপাড় সৃষ্টি করা এসব ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছু লোক দেখানো তদন্ত ও ঘোষণা শোনা যায়। কখনো কখনো আদালতের পক্ষ থেকেও নির্দেশনা জারি করা হয়। ব্যস। এই পর্যন্তই। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিশুক মুনিরের মৃত্যুর পর ইতোমধ্যে সাত বছর পেরিয়ে গেলেও দায়ী ব্যক্তিদের এমন কোন শাস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়নি যে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটানোর সাহস আর কেউ করবে না। সরকারের প্রভাবশালী মহল জনগণের নিরাপত্তার চেয়ে পরিবহন মালিকশ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি তৎপর থাকার কারণেই গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। বছরে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ হরণ, হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির জন্য দায়ী পরিবহন চালক ও মালিকদের প্রতি সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের অনৈতিকপক্ষপাতিত্ব বন্ধ করতে হবে দায়ীচালক মালিকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

এম. . গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x