নিজেদের প্রার্থী চায় বিএনপি জামায়াত দুই দলই

মোরশেদ তালুকদার

মঙ্গলবার , ২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
518

আগামী সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে (লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া আংশিক) প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে শরীকদল জামায়াত ইসলামীর। কারণ, নিজেদের সমর্থক বেশি দাবি করে আবারো আসনটিতে নিজেদের প্রার্থী দিতে চায় জামায়াত ইসলামী। তবে বিএনপির দাবি, জনসমর্থন তাদের বেশি। তাছাড়া এ আসনটি বিগত সময়ের মত জামায়াতকে ছেড়ে দিলে সেখানে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে বিএনপি। তাই শরীক দল জামায়াতকে অন্য আসন ছেড়ে দিয়ে হলেও এখানে নিজেদের প্রার্থীই চায় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে জানা গেছে, জোটগতভাবে নির্বাচন করলে শরীকদল জামায়াতকে আসনটি ছেড়ে দিবে বিএনপি, এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে এক্ষেত্রে জামায়াত ইসলামীর মধ্যেই দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। কারণ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টারি বোর্ড সিদ্ধান্ত দিয়েছে, এখানে দলটির প্রার্থী হবেন দলটির নায়েবে আমীর ও চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম। অবশ্য দলটির মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, এ আসনের সাবেক সাংসদ শাজাহান চৌধুরীকেই মনোনয়ন দেয়া হক। এই নিয়ে দলটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও আছে। এটা নিয়ে দলটির হাইকমান্ডও বিব্রত বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যেও আছে বিরোধ। তবে বিরোধ থাকলেও দল শেষ পর্যন্ত যাকে মনোনয়ন দেয় তার পক্ষে কাজ করার কথা বলেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে বিএনপি থেকে একই পরিবারের দুইজন মনোনয়ন চেয়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। এরা হচ্ছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল গফ্‌ফার চৌধুরী ও তার ছেলে তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী। এছাড়া বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক বিষয়ক সমপাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজমুল মোস্তফা আমিন ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির স্ব-নির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমান।
জামায়াত ইসলামীর বক্তব্য : জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর জাফর সাদেক দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘এটা (চট্টগ্রাম-১৫) তো জামায়াতের পার্মানেন্ট আসন। জোট থেকে জামায়াতই নির্বাচন করে আসে। আমাদের (জামায়াত ইসলামী) কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টারি বোর্ড সিদ্ধান্ত দিয়েছে, মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
‘মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের কেউ কেউ শাজাহান চৌধুরীর কথা বলছেন।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাফর সাদেক বলেন, ‘কারো পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত হচ্ছে মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম নির্বাচন করবেন।’ ‘সাতকানিয়া- লোহাগাড়ায় দলটির সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, জনগণ যদি অবাধে ভোট দিতে পারে সেক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থী জয় লাভ করবে।’
গত ১০ বছর ধরে জামায়াতের প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থা তৈরি হতে দেখা গেছে। এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে জামায়াতের বিরুদ্ধে। সাংগঠনিকভাবেও আপনাদের সক্রিয় দেখা যায় না। তা ছাড়া একই সময়ে বর্তমান সরকার ‘ব্যাপক উন্নয়ন’ করেছেন সেখানে। তবু জয়ের ব্যাপারে আপনাদের আশার জায়গা কোথায়? এমন প্রশ্নে জামায়াতের এ আমীর বলেন, ‘১০ বছর সরকার ক্ষমতায় আছে। এই সময়ে কিছু কর্মকাণ্ড চোখে পড়তে পারে। কিন্তু এখানকার জনগণ হচ্ছে ‘এন্টি আওয়ামী লীগ’। আওয়ামী লীগের হাতে এরা বেশি নির্যাতিত হয়েছে। সেখান থেকেই আমরা আশাবাদী। গত উপজেলা নির্বাচনেও সাতকানিয়া- লোহাগাড়ায় জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে জনগণ।’
দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বেশি দৃষ্টিগোচর হয় না। মিছিল-মিটিং অনেকটা বন্ধই বলা যায়। প্রশাসনিক, সরকারি বাধার কারণে পলিটিক্যাল প্রোগ্রাম তো করা যায় না। সাংগঠনিক কার্যক্রম আমাদের সারাবছরই চলে।
এ এম নাজিম উদ্দীন :
বিএনপি থেকে চট্টগ্রাম-১৫ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক বিষয়ক সমপাদক এ এম, নাজিম উদ্দীন। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, সাতকানিয়ায় দলীয় আদর্শ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক অবস্থান সৃষ্টি করা খুব জরুরি। সে কারণে নির্বাচন করবো। যদি নির্বাচনে সফল হই দেশ ও জাতির স্বার্থে সমস্ত কমকাণ্ড পরিচালনা করবো। সিনিয়র এ রাজনীতিবিদ বলেন, ‘সাতকানিয়ায় বিএনপির সমর্থকই সবচেয়ে বেশি। এমনকি জামায়াত-বিএনপি পরস্পরের বিরুদ্ধে নির্বাচন করলে বিএনপিই ভোট বেশি পাবে।’ সাতকানিয়ায় বিএনপির সমর্থক বেশি সে দাবি থেকে জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও আসনটিতে বিএনপিকেই মনোনয়ন দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। লোহাগাড়া-সাতকানিয়া নির্বাচনী এলাকার মানুষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে যাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই বিএনপি নেতা (এ এম নাজিম উদ্দীন) দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক রাজনীতির সাথে জড়িত। বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন জাতিয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি হিসবেও তিনি দীর্ঘ দিন ধরে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এর আগে তিনি কোতোয়ালি থানা বিএনপির সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আর্ন্তজাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও এর আমন্ত্রনে শ্রমিক নেতা হিসাবে বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, ইটালী, ফ্রান্স, জাপান, মালয়েশিয়া, ভারত, চীন, থাইল্যান্ডসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সফর করেন। ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম সিটি ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য হিসাবে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে মূলধারার রাজনীতির পদচারণা শুরু তার। ১৯৭১ সালে ওমর গণি এম ই এস কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সমপাদক নির্বাচিত হন। অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ১৯৭৩ সালে এম ই এস কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন :
এ আসন থেকে দলের মনোনয়ন চাইবেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘১৯৭৯ সাল থেকে কাজ করে আসছি। বিভিন্ন সময়ে নমিনেশন চেয়েছিলাম, এবারো চাইবো। বিভিন্ন সময়ে জোটের কারণে বঞ্চিত হয়েছি। অবশ্য জোট ছাড়াও ১৯৭৯ এবং ১৯৯৬ সালে এখানে আমরা বিজয়ী হয়েছিলাম। তাই এবার আমরা আশাবাদী। ১৯৯১ সালে এ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় হাই কমান্ডের কাছে আমার অবস্থান তুলে ধরি। রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিশেষ করে সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে নিয়োজিত ছিলাম এবং এখনো জাতীয়তাবাদী পরিবারের একজন কমী হিসেবে জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি।’
‘বিএনপি জোটগতভাবে নির্বাচন করলে সেক্ষেত্রে তো এখানে জামায়াতকে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘এখনো তো কিছুই চূড়ান্ত না। তবে জোটগতভাবে নির্বাচন হলে দলের সিদ্ধান্তই মেনে নিব। আমার তো দলের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই।’
প্রসঙ্গত, তিনি ১৯৭৯ সালে হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) পাঁচলাইশ থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮২ সালে চট্টগ্রাম মহানগর জাসাসের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৮৪ সালে বৃহত্তর চট্টগ্রাম জাসাসের সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ সালে স্বৈরশাসক এরশাদ সরকার এর আমলে মিছিলে লালদীঘি এলাকা থেকে গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘদিন কারা ভোগ করেন। ১৯৮৬-১৯৮৭ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস সংসদের জিএস ১৯৮৭-১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাতকানিয়া উপজেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করি এবং একই বছর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি হন তিনি। ১৯৯২ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হন। ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব গ্রহণ এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০০৯ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি এবং একই বছর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১১ সাল থেকে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
মোহাম্মদ আবদুল গফ্‌ফার চৌধুরী :
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আবদুল গফ্‌ফার চৌধুরীও মনোনয়ন চাইবেন দলের। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘এবার মনোনয়ন চাইবো। ১৯৯১ সালে আমি একবার মনোনয়ন চেয়েছিলাম। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আমাকে দল থেকে বলা হয়েছিল। সেবার আমি করিনি।’
‘বিএনপি জোটগতভাবে নির্বাচন করলে জামায়াতকে এ আসনটি ছেড়ে দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জোট থাকলে কেন্দ্রীয়ভাবে যে সিদ্ধান্ত সেটি আমি মেনে নিব। মানতে বাধ্য। তবে আমি মনে করি, দলের স্বার্থে এবার বিএনপিকে দেয়া উচিত। কারণ, এর আগে তিনবার জামায়াতকে দেয়া হয়েছে। বারবার জামায়াতকে দেয়া তো বিএনপির জন্য বিশাল ক্ষতি। জোটের স্বার্থে প্রয়োজনে জামায়াতকে অন্য আসন দেয়া যেতে পারে। তাদেরকে উপেজলা দেয়া যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, লোহাগাড়া সাতকানিয়া আসনে বিএনপি থেকে অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী মোহাম্মদ আবদুল গফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৮৭ সাল থেকেই দলটির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ১৯৯৫ সালে ব্যাংকার হিসেবে তিনি সৌদি আরবে থাকাকালীন সময়ে সেখানকার কেন্দ্রীয় বিএনপির উপদেষ্টা ছিলেন। ২০০৫ সালে সৌদি আরব বিএনপির সহ-সভাপতি, ২০০২ সালে সাতকানিয়া থানা বিএনপির আহবায়ক, ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, ২০১০ সালে সাতকানিয়া থানা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করে যাচ্ছেন। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নিবার্চনে তিনি সাতকানিয়া লোহাগাড়া আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে দলের পক্ষ থেকে থাকে সাতকানিয়ার পরিবর্তে চন্দনাইশে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তাব দিলে তিনি তা তা গ্রহণ করেন নি।
নাজমুল মোস্তফা আমিন :
এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজমুল মোস্তফা আমিন। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘অবশ্যই মনোনয়ন চাইবো। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছি। ছাত্র রাজনীতি করেছি, বর্তমানে বিএনপির রাজনীতি করছি। লোহাগাড়া এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাথে সম্পৃক্ত থেকে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি। দলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম। আশা করি এসব বিবেচনায় নিয়ে দল মূল্যায়ন করবে।’ বিএনপি জোটগতভাবে নির্বাচন করলে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন নাজমুল মোস্তফা আমিন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক ছিলেন এবং বর্তমানে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত আছেন। লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সাউথ এঞ্জেলস এর সভাপতি তিনি। লোহাগাড়া সমিতি চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক, বিজিএপিএমইএ এর পরিচালক পদে দায়িত্বরত আছেন। রাজনীতি এবং সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে লোহাগাড়া-সাতকানিয়া নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ মানুষের সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করে নির্বচনী প্রস্তুতি গ্রহন করছেন বলে জানান তিনি।
ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী :
এ আসন থেকে এবার বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন তরুণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী। এ বিষয়ে দলের হাইকমান্ড থেকে সিগন্যাল পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে দৈনিক আজাদীকে তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী আমি। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করে সবাইকে নিয়ে একটি শোষণ, বৈষম্য ও বঞ্চনামুক্ত সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। সামাজিক অবক্ষয়, ধর্মীয় গোঁড়ামি, নারীর প্রতি সহিংসতা ও মাদকের বিস্তার রোধে আমি নিজ এলাকায় প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছি। আইনজীবী হিসেবে সাতকানিয়াসহ পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘শহীদ জিয়ার জাতীয়তাবাদকে বুকে ধারণ করে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সাতকানিয়ার কৃতি সন্তান, যাঁরা বিভিন্ন সেক্টরে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আমাদের গর্বিত করেছেন, তাঁদের একত্রিত করে এলাকার উন্নয়নে সমষ্টিগত উদ্যোগ নিতে চাই।’
‘বিএনপি জোটগতভাবে নির্বাচন করলে জামায়াতকে এ আসন দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হলে বৃহত্তর স্বার্থে সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবো।’ বেগম জিয়াকে মুক্তি না দিলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মা (বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া) ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না। তাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- মা’র মুক্তির আন্দোলন।’
প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যাল আইন অনুষদ ছাত্রদলের সভাপতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী পরিষদ যুক্তরাজ্যের সদস্য ও যুগ্ম সম্পাদক এবং জাতীয়তবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
মুজিবুর রহমান :
এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির স্ব-নির্ভর বিষয়ক সম্পাদক মুজিবুর রহমান। তিনি সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকও। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন দক্ষিণ জেলা ছাত্র দলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
আসন সম্পর্কিত :
সাতকানিয়ার ১১টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা, লোহাগাড়ার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি গঠিত। এ আসনে প্রথম সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের এম সিদ্দিক। দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, তৃতীয় ও চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ইব্রাহিম বিন খলিল, পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী, ষষ্ঠ ও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম, অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী, নবম সংসদ নির্বাচনে আ ন ম শামসুল ইসলাম এবং দশম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী।

x