নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে নেতৃত্ব দেয়া যায়, শিক্ষার্থীদের সেই শিক্ষা দিয়ে থাকি আমরা

একান্ত সাক্ষাৎকারে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. নুরুল আনোয়ার

সাক্ষাতকার গ্রহণে : হাসান আকবর

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:২১ পূর্বাহ্ণ
28

চট্টগ্রামের শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ইতোমধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে ছাত্রছাত্রীরা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করেছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্য প্রফেসর ড. নুরুল আনোয়ার নিজেদের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে বেশ গল্পের আদলে বললেন, ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ সিনেমার কথা মনে আছে? প্রদীপের দৈত্য তার প্রভুকে বলছে, ‘তথ্যই সম্পদ, তথ্য সংগ্রহ করাই আমার কাজ।’ তথ্যের গুরুত্ব কতটুকু তা বোঝাতেই মূলত এমন অবতারণা। এই তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম সাংবাদিকতা তথা মিডিয়া। একসময় বলা হতো জ্ঞানই শক্তি, আর এখন বলা হয় তথ্যই শক্তি। যার কাছে যত বেশি তথ্য, সে তত বেশি প্রভাবশালী- এমনটাই ধারণা সমাজের। ফলে, এ সময়ে এসে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন দিনকে দিন হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে সাংবাদিকতা শিক্ষার দিগন্ত প্রসারিত করেছে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রামে শুধু পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ আছে। তাই সাংবাদিকতা বিষয়ে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এই ক্যাম্পাস।
ড. নুরুল আনোয়ার বলেন, শুধুই কী সাংবাদিকতা! সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী বিভিন্ন বিভাগ নিয়ে চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষা জগতে অনন্য মাত্রা যোগ করেছে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যশনাল ইউনিভার্সিটি। ২০১৩ সালে ৬৯ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পথচলা। শুরু থেকেই গুণগত শিক্ষাদানে এই বিশ্ববিদ্যালয় বদ্ধপরিকর। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে চারটি অনুষদের ১০টি বিভাগে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। আর পূর্ণকালীন ও খন্ডকালীন মিলে শিক্ষক রয়েছেন দু’শতাধিক। বিভাগগুলোর মধ্যে জার্নালিজম এ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিঙ ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, ন্যাচারাল সায়েন্স, আইন, ইংরেজি, ফ্যাশন ডিজাইন, ব্যবসায় প্রশাসন উল্লেখযোগ্য।
তিনি বলেন, ‘উচ্চশিক্ষায় উৎকর্ষ অর্জন’ স্লোগান নিয়ে শিক্ষার্থীদের দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ সম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার্থীদের বিদ্যায়তনিক পাঠের উপরই গুরুত্ব দেয় না, একইসাথে তাদেরকে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ামনস্ক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত বিতর্ক ক্লাব, স্পোর্টস্‌ ক্লাব, সাংস্কৃতিক ফোরাম, রোবটিঙ ক্লাবসহ বিভিন্ন ফোরাম এর উদাহরণ। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সুবিধার মধ্যে রয়েছে ই-লাইব্রেরী, আধুনিক ক্লাসরুম ও গবেষণাগারসহ নানান সুযোগ সুবিধা। প্রতি ট্রাইমেস্টারে আয়োজন করা হয় সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় মাঠপর্যায়ের নানামুখী ব্যবহারিক প্রশিক্ষণেরও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর নুরুল আনোয়ার আরো বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সাফল্যের সাক্ষর রাখছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ইতোমধ্যে ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়া, কানাডার নোবেল ইউনিভার্সিটিসহ বিদেশি স্বনামধন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সম্পন্ন করেছে সমঝোতা স্বারক। এছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয় অর্জন করেছে অস্ট্রেলিয়ার একাডেমি অব বিজনেস লিডারশীপের আজীবন সদস্যের সম্মান। একাডেমিক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় এসব সমাঝোতা স্মারকে। শিক্ষকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পাঠানো হয়েছে মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, প্রেসিডেন্ট ও চেয়ারম্যান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপমন্ত্রী জনাব একেএম এনামুল হক শামীমের দূরদর্শী ও উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার প্রয়োগক্ষেত্র ও ফলাফল এ বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁর ভাবনার সাথে মিল রেখে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই মিলে নিশ্চিত করে যাচ্ছে গুণগত শিক্ষা ও মানসমপন্ন শিক্ষাদানের পরিবেশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক বিষয় নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ নূরল আনোয়ার বলেন, জ্ঞান ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। তিনি আরও জানান, ‘আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে শিক্ষার্থীদের দেশ ও জনগনের প্রতি দায়িত্ববোধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। নিজেদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে নেতৃত্ব দেয়া যায়, শিক্ষার্থীদের সেই শিক্ষা দিয়ে থাকি আমরা।’
একটি শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লক্ষ্য। এ বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বাস করে শিক্ষার্জনের পথে কোনো বাধা থাকতে পারে না। তাই কম খরচে কিভাবে মান সম্মত শিক্ষা প্রদান করা যায় ইতোমধ্যে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি অনেক গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য খন্ডকালীন ‘ক্যাম্পাস জবের‘ ব্যবস্থাও রয়েছে এখানে। আর তাই স্পল্প সময়ে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে পরিণত হওয়ার পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে নগরীর প্রাণকেন্দ্র খুলশিতে নিজস্ব ক্যাম্পাসে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয়।

x