নিখোঁজ তরুণের লাশ মিলল ছাদের ট্যাংকে

উদঘাটন হয়নি খুনের রহস্য

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ২৪ আগস্ট, ২০১৯ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ
1219

দু’দিন আগে নিখোঁজ হওয়া ফাহিম (২১) নামে এক তরুণের অর্ধগলিত লাশ গতকাল নগরীর চকবাজার থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একটি ভবনের ছাদের পরিত্যক্ত পানির ট্যাঙ্ক থেকে তার লাশটি উদ্ধারের পর পুলিশ বলেছে, তাকে খুন করা হয়েছে। স্থানীয়দের চোখে মোটামুটি ভালো হিসেবে পরিচিত ছিল ওই তরুণ। তাকে কী কারণে খুন করা হয়েছে সেই রহস্যের কোনো কিছু এখনও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।
গতকাল দেড়টা নাগাদ চকবাজার থানাধীন আবু কলোনির ওই পরিত্যক্ত ট্যাঙ্ক থেকে ফাহিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে গেলে আশপাশের ভাড়াটিয়ারা খোঁজাখুঁজির পর ট্যাঙ্কের ভেতর লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত যুবক চান্দগাঁও থানাধীন বলিরহাট এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে। যে ভবন থেকে ফাহিমের লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে তার কাছেই নিহতের দাদার বাড়ি। সেখানে সে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছিল। তিন/চার মাস আগে সে একটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানে সে চাকুরি নিয়েছিল।
চকবাজার থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) নিজাম উদ্দিন আজাদীকে বলেন, লাশের ধরণ দেখে পুলিশ নিশ্চিত তাকে হত্যা করার পর লাশটি পানির ট্যাঙ্কের ঘরে রাখা হয়েছে। তার পেটসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে কি কারণে ওই যুবককে খুন হয়েছে সেই ব্যাপারে এখনো কিছু জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ওই খুনের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান ওসি।
ওসি নিজামউদ্দিন আরও বলেন, ছেলেটি তার দাদার বাড়িতে থাকত। তার বাবা-মা থাকত বলিরহাটে। তাদের সাথে ছেলেটি তেমন যোগাযোগ রাখত না।
চকবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী আজাদীকে বলেন, গত ২০ আগস্ট চাকরিতে যাওয়ার কথা বলে সে ঘর থেকে বের হয়েছিল। কয়েকদিন খোঁজাখুঁজির পর তাকে কোথাও পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা বৃহস্পতিবার থানায় এসে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। পরে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে আমরা ফাহিমের লাশটি উদ্ধার করি। রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এলাকাতে ছেলেটি কোনো অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। এখনো পর্যন্ত তাকে খুনের পেছনে কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, নিহতের লাশ ময়নাদতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, যে জায়গা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে, তার পাশের একটি গলিতে নানা বয়সী ছেলেরা নিয়মিত আড্ডা দিয়ে থাকে। ওই আড্ডাস্থল থেকে ঘরটি দেখা যেত। তারা ধারণা করছেন, কোনো পরিচিত শত্রু হয়তো পূর্ব পরিকল্পনা করে তাকে ওই স্থানে নিয়ে গিয়ে খুন করে থাকতে পারে।
ভবনটির সিঁড়ি ওই পরিত্যক্ত ঘরটিতে যাওয়ার একমাত্র পথ। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, কয়েক মাস আগে ওই পানির ট্যাঙ্কটি ঘিরে টিন ও কাঠ দিয়ে ঘর নির্মাণের পর সেটা ভাড়া দিয়েছিল ভবন মালিক। একটি সময় সেখানে ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ায় ঘরটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
বলিরহাটের এক বাসিন্দা আজাদীকে জানান, বছরখানেক আগে বলিরহাটের বাড়ি ছেড়ে চকবাজার ডিসি রোডে দাদার বাড়িতে চলে আসে ফাহিম। সেই থেকে সেখানেই থাকত সে। এলাকায় থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে কোনো গুরুতর অভিযোগ নেই। তার বাবা স্থানীয় একটি কারখানার মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে।

x