নিউজিল্যান্ডের খুনি আদালতে

রবিবার , ১৭ মার্চ, ২০১৯ at ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
191

শুধু খুনের অভিযোগ এনে গতকাল আদালতে হাজির করা হয় নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে গুলি চালিয়ে অর্ধশত মানুষ হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার প্রধান সন্দেহভাজন ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে। ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ার এই নাগরিককে ক্রাইস্টচার্চের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির করা হয়। আগামী ৫ এপ্রিল পরবর্তী হাজিরার দিন পর্যন্ত তাকে আটক রাখার আদেশ হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, আদালতে হাজির করার সময় ট্যারেন্টের হাতে ছিল কড়া, গায়ে ছিল বন্দিদের সাদা পোশাক। আদালতে কোনো কথা বলেননি তিনি। তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদনও হয়নি। খবর বিডিনিউজের।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, আদালতে স্বল্প সময়ের উপস্থিতিতেই ট্যারেন্ট হাতকড়া বাঁধা হাতে আঙুল দিয়ে ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের’ বর্ণবাদী প্রতীক দেখাচ্ছিলেন। বিবিসি জানিয়েছে, ট্যারেন্টের বিরুদ্ধে শুধু খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এক মিনিটের মতো সময় এজলাসে ছিলেন ট্যারেন্ট। এই সময়ে তার বিরুদ্ধে আনা খুনের অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক পল কেলার।
ট্যারেন্টকে এজলাস থেকে নিয়ে যাওয়ার পর বিচারক বলেন, ‘এই মুহূর্তে মাত্র একটি অভিযোগ আনা হয়েছে আসামির বিরুদ্ধে, কিন্তু এটা ধরে নেওয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে যে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে।’ ট্যারেন্টের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে বলে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন হামলাকারী ট্যারেন্টকে ‘উগ্র ডানপন্থি একজন সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করেছিলেন। ট্যারেন্টের এই কাণ্ডকে সন্ত্রাসবাদ বলেছিলেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অ’ডুর্ন।
ট্যারেন্টের পাঁচটি বন্দুক এবং আগ্নেয়াস্ত্রের একটি লাইসেন্স রয়েছে বলে নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে নিউ জিল্যান্ডে অপরাধীদের খাতায় তার নাম ছিল না। ট্যারেন্টের পাশাপাশি সন্দেহভাজন আরও দুজন আটক রয়েছেন জানিয়ে নিউ জিল্যান্ড পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৪৯ জনকে হত্যা করেন ট্যারেন্ট, আহত হন আরও ৪৮ জন। দুপরে প্রথম হামলাটি হয় ক্রাইস্টচার্চের ডিনস এভিনিউয়ের আল নূর মসজিদে। সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হামলাকারী গাড়ি চালিয়ে মাইল তিনেক দূরের লিনউড মসজিদে যায় এবং একই কায়দায় গুলি শুরু করে।
হামলাকারী এ হত্যাযজ্ঞের পুরো ঘটনা ফেইসবুকে সরাসরি সমপ্রচার করেছিলেন, ইন্টারনেটে ছড়িয়েছেন বর্ণবাদী, অভিবাসী বিদ্বেষী, উগ্র ডানপন্থি বার্তা। হামলা চালানোর আগে ট্যারেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার একটি কথিত ‘ম্যানিফেস্টো’ প্রকাশ করেন।
হামলার উদ্দেশ্য ও নিজের পরিকল্পনার বিষয়ে সেখানে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

x