নিউজিল্যাণ্ডে দুই মসজিদে বন্দুকধারীর গুলিতে দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ৪৯

আজাদী অনলাইন

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ২:৩১ অপরাহ্ণ
262

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুইটি মসজিদে বন্দুকধারীদের গুলিতে ৪৯ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ২ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার।

আজ শুক্রবার (১৫ মার্চ) জুমার নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে।

অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন হামলাকারী ওই অস্ট্রেলীয় নাগরিককে দক্ষিণপন্থী উগ্রবাদী সন্ত্রাসী বলে উল্লেখ করেছেন।

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ জানায়, ওই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৩ জন পুরুষ ও ১ জন নারীকে আটক করা হয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা আরডের্ন দিনটিকে নিউজিল্যান্ডের অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন।

নিউজিল্যান্ড পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ দুই জায়গায় আক্রমণের কথা নিশ্চিত করেছেন।

প্রথম হামলার ঘটনাটি ঘটে ক্রাইস্টচার্চের কেন্দ্রে আল নূর মসজিদে। প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানায়, তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং লোকজনকে ভবনের বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে।

দ্বিতীয় হামলার ঘটনাটি ঘটে শহরতলীর লিনউড এলাকায়।

‘নজিরবিহীন’ এ পরিস্থিতিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী আরডের্ন।

তিনি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই পরিকল্পনা করে এ হামলা চালানো হয়েছে।’

আল নূর মসজিদ এলাকায় মহান ইব্রাহিম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেন, ‘শুরুতে আমি ভেবেছিলাম বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে এমনটা হচ্ছে। পরে দেখি সবাই দৌড়াতে শুরু করেছে।‘

অন্য এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হামলাকারী সামরিকবাহিনীর মতো পোশাক পরে ছিল। হাতে থাকা স্বয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে সে একাধারে গুলি ছুড়তে থাকে।

আল নূর মসজিদে হামলাকারী তার হেলমেটে বসানো ক্যামেরায় গুলি চালানোর পুরো দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করে।

প্রায় ১৭ মিনিটের ওই লাইভে অটোমেটিক রাইফেলধারী ওই ব্যক্তি নিজের নাম বলেছেন ‘ব্রেন্টন ট্যারেন্ট’। ২৮ বছর বয়সের শেতাঙ্গ ওই হামলাকারীর জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়।

বন্দুকধারী ক্রাইস্টচার্চের ডিন্স এভিনিউতে আল নূর মসজিদের দিকে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় ‘লাইভ’ শুরু হয়। একটি ড্রাইভওয়ের কাছে সে গাড়ি পার্ক করে। গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রচুর গুলি দেখা যায়। সেখানে পেট্রোল ভর্তি কয়েকটি ক্যানও ছিল।

ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মসজিদের দিকে হাঁটতে শুরু করে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মসজিদে ঢোকার পথেই সে একজনকে গুলি করে। ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করে।

সে বেশ কয়েকবার তার সেমি-অটোমেটিক রাইফেলটিতে গুলি ভরে এবং এলোপাতাড়ি গুলি করে।

এভাবে প্রায় তিন মিনিট ধরে গুলি করার পর সে মসজিদের সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। রাস্তার দিকে যাওয়ার সময় সে আশেপাশের গাড়ি লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হামলার ভিডিও সরিয়ে নিতে কাজ করছে কেন্টার্বুরি পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোরভাবে ওই ভিডিও শেয়ার না করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়, ‘ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনার চরম বিপর্যয়কর ভিডিওগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে পুলিশ সচেতন এবং সেগুলো সরিয়ে নিতে কাজ করছে।’

ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ বন্দুকধারীর ফেইসবুক ও ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট সরিয়ে ফেলার কথা জানিয়েছে। টুইটার থেকেও ওই ব্যক্তির একাউন্ট মুছে দেয়া হয়েছে।

- Advertistment -