নিঃস্বার্থ মানব সেবা আর শান্তির প্রতীক মাদার তেরেসা

সোমবার , ২৬ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
24

বিশ্বজুড়ে মানব সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মাদার তেরেসা। দুঃস্থ, অসহায় আর আর্তপীড়িতদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করাই ছিল তাঁর জীবনের লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্য সাধনের জন্যে তিনি সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করেছিলেন। নিজেকে পুরাপুরি উৎসর্গ করেছিলেন সমাজ সেবায়। আজ তাঁর ১০৯তম জন্মবার্ষিকী।
মাদার তেরেসার প্রকৃত নাম অ্যাগনেস গোনজা বয়াজু। জন্ম যুগোস্লাভিয়ার স্কপিয়ে শহরে ১৯১০ সালের ২৬শে আগস্ট। তবে তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ছিল আলবেনিয়ায় আর জাতীয়তা ছিল ভারতীয়। স্কপিয়ে শহরের সরকারি স্কুলে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি। পারিবারিক নিশ্চিন্ত জীবন ছেড়ে দুঃস্থদের সেবার উদ্দেশ্যে ১৯২৮ সালে তেরেসা ডাবলিনের লরেটো কনভেন্টে সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করেন। সে বছরই দার্জিলিং-এ বিশেষ প্রশিক্ষণ শেষে আসেন কলকাতায়। এখানে এনটালির কনভেন্ট স্কুলে বাংলা শাখার শিক্ষয়িত্রীর দায়িত্ব নেন। ১৯৪৭ সালে তেরেসাকে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। সুদীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে তিনি অনাথ, দরিদ্র, অসুস্থ ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবা করেছেন। সেবার উদ্দেশ্যে ১৯৫০ সালে কলকাতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’ নামে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এর প্রতিষ্ঠা, বিকাশ ও উন্নয়নে তেরেসা নিরন্তর অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সারা বিশ্বে এর কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে। এই সংস্থা দরিদ্র ও দুর্গতদের খাদ্য সাহায্যের পাশাপাশি ব্যবস্থা করে আশ্রয়েরও। ধীরে ধীরে বিশ্বজুড়ে মাদার তেরেসা অনাথ ও অসহায়ের বন্ধু হিসেবে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন। সেবায় অবদানের জন্য ১৯৭৯ সালে তাঁকে বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মানিত ‘নোবেল পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয়। শান্তিতে তিনি এই পুরস্কার অর্জন করেন। ভারত সরকার তাঁকে ভারতরত্ন উপাধি দেয়। এছাড়াও পোপ জন শান্তি পুরস্কার, পদ্মশ্রী, জওহরলাল নেহরু পুরস্কার সহ নানা সম্মানে ভূষিত হন তেরেসা। পোপ দ্বিতীয় জন পল তাঁকে ‘স্বর্গীয়’ বলে আখ্যা দেন। ১৯৯৭ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর প্রয়াত হনমাদার তেরেসা। তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিশ্বের ১২৩টি রাষ্ট্রে এইচআইভি এইডস, কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা চিকিৎসা কেন্দ্র, ভোজনালয়, শিশু ও পরিবার পরামর্শ কেন্দ্র, অনাথ আশ্রম ও বিদ্যালয় সহ মিশনারিজ অব চ্যারিটির ৬১০টি কেন্দ্র বিদ্যমান ছিল।

x