নাড়ির টানে

সাইফুল্লাহ খালেদ, চীন থেকে

রবিবার , ২১ এপ্রিল, ২০১৯ at ৬:০৬ অপরাহ্ণ
159

দেশ যখন মত্ত হাজারো মানুষের উৎসবের পদচারণায় তখন বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাজারো বাঙালি হয়তো সেই উৎসবে সামিল হতে পারেনি। তারপরও অন্তরে জাগ্রত বাঙালিয়ানা ঠিকই বহুদূরের পথ মুছে দিয়ে উৎসবে সামিল হতে বাধা দেয়নি।

দুই হাজার ৬৭০ কিলোমিটার দূরত্ব অনেক হলেও রবিবার ছুটির দিনে দেশ থেকে এতটা দূরত্বে অবস্থিত চীনের নানজিং শহরে অবস্থিত নানজিং ইউনিভার্সিটি অভ পোস্ট এন্ড টেলিকমিউনিকেশনের ৭৫ বাঙালি ও বিদেশীসহ বহু ছাত্র-ছাত্রী বাঙালি নববর্ষ পালন করে তাদের এই ব্যস্ততম জীবনে।

একই দিনে এ বছরের বিদায়ী বর্ষ-১৫ এর র‍্যাগ ডে থাকায় সমস্ত উৎসব পায় এক ভিন্ন মাত্রা। অনুষ্ঠানের এক সপ্তাহ আগেই শুরু হয় এর প্রস্তুতি যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশি কমিউনিটি সদস্যরা। তাদের ঐকান্তিক পরিশ্রমে ১৪ এপ্রিল এক জমাকালো উৎসবের সাক্ষী হয় অপূর্ব সৌন্দর্যে ভরপুর এই ক্যাম্পাস।

বেলা ৩টায় বিদায়ী বর্ষের র‍্যাগ ডে উপলক্ষে টিশার্ট বিতরণ, ফ্ল্যাশমব ও পানি উৎসবের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় হরেকরকমের খাদ্য সম্বলিত বাঙালি ফুড স্টলে বিভিন্ন পদের প্রদর্শনীও হয়। বেলা ৪টায় অডিটরিয়ামে বৈশাখী অনুষ্ঠান শুরু হয় বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও এসো হে বৈশাখ গানের মাধ্যমে।

বিদেশী তরুণ -তরুণীদের শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে বাংলা গানে নৃত্য ও গান গাওয়া পুরো অনুষ্ঠানে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। বিভিন্ন পরিবেশনার এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের প্রায় ১৮টি দেশের বহু তরুণ-তরুণী অংশ নেন এবং বাংলা সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসবের রুপসূত্র উপভোগ করেন।

দেশীয় নাচ, গান, আবৃতি ও র‍্যাফল ড্র’র মাধ্যমে পুরো অনুষ্ঠানের সকল দর্শককে মোহবিষ্ট করে রাখা হয়।
হয়তো দেশীয় রূপসুধা উপভোগ করা হয়নি কিন্তু নিজের অস্তিত্বের স্বকীয়তা কখনোই মুছে যায় না।

বেঁচে থাকুক বাঙালিয়ানা, বাঙালির প্রাণের উৎসব ছড়িয়ে পড়ুক দেশ থেকে দেশান্তরে। বেঁচে থাকুক হাজার বছর ধরে…

x