নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য দরকার আত্মবিশ্বাস

শনিবার , ২৪ নভেম্বর, ২০১৮ at ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
32

এ কথা আজ বলা অমূলক নয় যে, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীরা নানা রকম বৈষম্যের শিকার। বৈষম্যের কারণে নারীরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ সমাজ, রাষ্ট্র ও সভ্যতার উন্নয়নে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু নারীর এই অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয় না।
নারীদের গৃহস্থালির কাজকে অদৃশ্য শ্রম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের এইসব মজুর বিহীন কাজ পরিবারে, সমাজে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। নারীর গৃহস্থালি কাজকে যদি মূল্যায়ন করা হয়, তাহলে সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবারসহ সকল ক্ষেত্রে নারীর মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে যে পদক্ষেপটি নেওয়া জরুরি, সেটা হলো নারীর সকল শ্রমকে মর্যাদার আসনে উপনীত করা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের বাংলাদেশে শতকরা ৮১ ভাগ নারী সরাসরি গৃহস্থালি কাজে নিয়োজিত থাকে। অন্যদিকে পুরুষ মাত্র ১.৩ শতাংশ।

আমাদের দেশের নারীরা প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর রাত পর্যন্ত একজন নারী ৪৫ ধরনের কাজ করে। এর মধ্যে গ্রামীণ নারীরা ধান ভাঙা, সবজি বাগান করা, ফসল কাটা, ঘরে তোলা খাবার প্রস্তুত করা, পশু পালন, হস্তশিল্প, গৃহকর্ম ঘর পরিষ্কার, রান্না, পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেওয়া ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত থাকে।
শহরে বসবাসরত নারীরাও নানা কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন। কিন্তু এসব কাজে নারীর শ্রমের কোনো মূল্য নেই। এর মর্যাদা দিতে পারলে প্রাথমিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার একটা ভিত্তি হয়ে যায়। জাতীয় অর্থনীতিতে নারীর শ্রম বিবেচনা করার পূর্বে দরকার একজন নারী গৃহস্থালি কাজে যে সময় ব্যয় করে, তা যদি প্রচলিত কোনো পেশায় নিয়োজিত থেকে ব্যয় করতো, তাহলে কী পরিমাণ পারিশ্রমিক পেতো।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে যদি দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান চালক হিসেবে কাজ করতে হয়, তাহলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে প্রবৃদ্ধির প্রক্রিয়ার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সরকারের দিক থেকে বড় ধরনের অঙ্গীকার রয়েছে।
তাই এক্ষেত্রে নারীদের উৎসাহিত করতে পারলে এবং যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারবে নিঃসন্দেহে। মোট কথা, নারীদের আত্ম কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। চাকরি, ব্যবসার পাশাপাশি নানা ধরনের কাজের সন্ধানে থাকতে হবে, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।
বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ রূপান্তর করার চেষ্টা চালাচ্ছে অবিরাম। বিজ্ঞান প্রযুক্তির আধুনিকতম উদ্ভাবন ও উত্তরণকে কাজে লাগাতে পারলে নারীরা ভিন্নভাবে নিজের পায়ে নিজে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন।
কম্পিউটার, ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ কাজে সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। আধুনিক প্রযুক্তিবিদরা মনে করেন ওয়েবসাইট কন্টেন্ট লেখার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা একটা দুর্দান্ত উপায় হতে পারে। বর্তমানে দেশীয় এবং বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইট কন্টেন্ট রাইটার কর্মক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে অনলাইন কোর্স গ্রহণ করা যেতে পারে। গত কয়েক বছরে অনলাইন কোর্সের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইচ্ছে করলে নিজের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে উপার্জন করা যাবে। অনলাইন স্টোরও এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একজন নারীর ঘরে বসে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে সব থেকে বেশি সহায়তা করবে অনলাইন স্টোর বা ই-কমার্স ওয়েবসাইট। এর মাধ্যমে জিনিসপত্র বিক্রি করে আয় বাড়ানো যাবে।
সাধারণত নারীদের আত্ম কর্মসংস্থানের জন্য হস্তশিল্প বা ক্রাফটিং সবসময় একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। হস্তশিল্পের পণ্যসমূহ স্থানীয় বাজার এবং পরিচিতজনদের পাশাপাশি এখন অনলাইনেও বিক্রি করা যায়।
নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে আত্ম কর্মসংস্থান জরুরি। সেই কর্মসংস্থানের বিভিন্ন উপায় আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যে কোনো একটা পথ দিয়ে কেবল চলা শুরু করতে হবে। নিজেদের আত্মবিশ্বাসকে ধরে রেখে কাজ করে গেলে সাফল্য আসবেই। তারা যত বেশি স্বাবলম্বী হবে, তত বেশি লাভবান হবে দেশ।

x