নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় : বাঙালির ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠায় প্রয়াসী

সোমবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৭:৪৯ পূর্বাহ্ণ
11

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক, গবেষক, সমালোচক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদ। উপন্যাস রচনা করে তিনি বিশিষ্টতা অর্জন করেন। ছোটগল্প রচনায়ও তাঁর পারদর্শিতা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তাছাড়া কিশোরদের জন্য রচিত জনপ্রিয় কৌতুক চরিত্র টেনিদা নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের অনবদ্য সৃষ্টি। চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্য লিখেছেন। তাঁর রচিত বহু গান চলচ্চিত্রে ও রেকর্ডে গৃহীত হয়েছে। আজ তাঁর ১০১তম জন্মবার্ষিকী।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের বালিয়াডাঙ্গি গ্রামে। প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর সাহিত্যিক নাম। পৈত্রিক নিবাস বরিশালের বাসুদেবপাড়া। পুলিশ অফিসার বাবার চাকরিসূত্রে তিনি বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন যথাক্রমে দিনাজপুর জেলা স্কুল ও ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে। এরপর বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে কলকাতা যান এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে বাংলায় এম. এ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সাহিত্যে ছোটগল্প’ বিষয়ে অভিসন্দর্ভ রচনা করে লাভ করেন পিএইচডি উপাধি। ছাত্রাবস্থায় কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে সাহিত্য চর্চার শুরু। পরবর্তীসময়ে বেশ কিছু উপন্যাস ও ছোটগল্প রচনা করেছেন। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের রচনা স্বদেশচিন্তা ও সমাজভাবনা আশ্রিত, সেই সাথে জাগ্রত ইতিহাসবোধ। কখনো কখনো সেখানে নিসর্গ-প্রেম, মানব-প্রেম রূপায়িত হয়েছে অকৃত্রিমভাবে। আবহমান বাংলা, এর ভূপ্রকৃতি, আরণ্যক জীবন তাঁর কিছু রচনায় অনুপম ব্যঞ্জনা পেয়েছে। নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘উপনিবেশ’, ‘সূর্যসারথী’, ‘একতলা’, ‘শিলালিপি’, ‘তিমিরতীর্থ’, ‘বৈতালিক’, ‘সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী’, ‘ভাড়াটে চাই’, ‘আগন্তুক’, ‘ছোটগল্পের সীমারেখা’, ‘রবীন্দ্রনাথ’, ‘অমাবস্যার গান’, ‘সুনন্দার জার্নাল’ ইত্যাদি। ১৯৭০ সালের ৬ নভেম্বর প্রয়াত হন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়।

Advertisement