নানা ভাঙাগড়ায় সফলতা পেয়েছে সফটটাচ

আহসানুল কবির রিটন

বৃহস্পতিবার , ৩১ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
10

১৯৯১ সালের শেষের দিকে একে খান ও সমর বড়ুয়ার উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে সফটটাচ নামের আরেকটি ব্যান্ডদল। দলের সদস্যরা ছিলেন সোলসের সাবেক বেস গিটারিস্ট প্রয়াত শাহেদুল আলম, লিড গিটারবাদক ওয়াহিদুর রহমান সাচ্চু, হাসান মনসুর নাদিম, বর্তমানে ব্যারিস্টার হাসান আজিম দোলন, একে খান ও সমর বড়ুয়া। যদিও এই লাইনআপ থাকাকালে কোন ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি সফটটাচ।
কিছুদিন পর শুরুর দিকের লাইনআপে পরিবর্তন আসে। এ পর্যায়ে একে খান, সমর বড়ুয়া, সাচ্চু, সুমন, নাদিম ও মিঠু মিলে নতুনভাবে কাজ শুরু করে সফটটাচ। একে খান ব্যক্তিগত উদ্যেগে বেশকিছু বাদ্যযন্ত্র জোগাড় করেন। কিছু অনুষ্ঠানে অংশও নেয় দলটি। ১৯৯৩ সালের শেষের দিকে একে খান অজ্ঞাত কারণে দল ত্যাগ করেন এবং তার টাকায় কেনা যন্ত্রপাতি সাথে করে নিয়ে যান। তখন আরো একদফা পরিবর্তন আসে ব্যান্ডের লাইন আপে।
এই পর্যায়ে আলীমুর ভোকাল, সাচ্চু লিড গিটার, সুমন কল্যাণ কিবোর্ড, সমর বেস গিটার, রিয়াদ ড্রামস বাজানোর দায়িত্ব নেন। এরপরই কার্যত দলের সত্যিকারের পথচলা শুরু হয়। তারা পুরোপুরি রক ঘরানার ধাঁচ নিয়ে সামনের দিকে এগুতে থাকেন। যদিও বাদ্যযন্ত্রের সংকট কাটেনি তখনো। সাচ্চুর একটি একস্ট্রিক গিটার, সুমনের হাতে ক্যাসিও ব্রান্ডের একটি ছোট কিবোর্ড, সমরের হাতে থাকা একটি হাওয়াইন গিটারকে বেস গিটারের তার লাগিয়ে তা দিয়ে বেস গিটারের কাজ চালানো, রিয়াদ চাপড়াতো মোড়া ও বালিস আর খালি গলায় গান করতো আলীমুর। এভাবেই দলের প্র্যাকটিস চলতো নন্দনকাননের এক নম্বর গলিতে সমরের বাসায়। পরে প্র্যাকটিস চলে কাজীর দেউরিস্থ বাংলা হোটেল ও পুরাতন গীর্জার এলাকার একটি কক্ষে।
১৯৯১-৯২ সালের কোন এক সময়ে এই লাইনআপ নিয়ে দলটি প্রথম পরিবেশনা করে বান্দরবানে। আর এটি ছিল ক্যান্সার আক্রান্ত একজন শিল্পীর সাহায্যার্থে আয়োজিত একটি কনসার্ট। আর এজন্য কোন সম্মানী নেয়নি দলটি। তবে, দলের সদস্যদের গান করে প্রথম আয় ছিল চারহাজার টাকা। যদিও কোন অনুষ্ঠান তা জানা যায়নি।
এই লাইনআপ নিয়েই বাংলা ১৪০০ সালের বর্ষবরণ পর্বে অংশ নেয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শাহ আলম বীরোত্তম হল এবং ১৯৯৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর দামপাড়া পুলিশ লাইনে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নেয় সফটটাচ। এসব অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দলের পরিচিতি ছড়িয়ে পরে চট্টগ্রামের চারদিকে। প্রসঙ্গত, শাহ আলম বীরোত্তম হলে দলটি নানা সময় মোট ২৯ বার অংশ নেয়।
দলের যখন স্বর্ণালী সময় তখন আরো একবার ভাঙনের মুখে পড়ে সম্ভাবনাময়ী এই দলের লাইনআপে। চরম হতাশায় পড়েন দলনেতা সমর বড়ুয়া। কিছুদিন পর আবার নতুন কয়েকজন সদস্য নিয়ে দলের কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। এই লাইন আপে ছিলেন, ভোকাল আসিফ রিয়াদ লোদী, লিড গিটার ও ভোকাল সুতনু নন্দী বাবন, গিটার বাদক ও ভোকাল চঞ্চল, কিবোর্ড বাদক আজিজুর রহমান টিংকু, ড্রামস বাদক আসাদ আলী এবং বেস গিটার বাদক সমর বড়ুয়া।
দুই বছর পর ১৯৯৬ সালে শিশু একাডেমিতে এক কনসার্ট করে আবারো নিজেদের সরব উপস্থিতি জানান দেয় সফটটাচ। পাশাপাশি চলে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে গান পরিবেশনা। ১৯৯৮ সালে আসিফ রিয়াদ লোদী ঢাকায় চলে যায়। তার জায়গায় আসেন নাজিম এবং ড্রামসে অপু।
বছর খানেক পর দলটি ঢাকার খ্যাতনামা ক্যাসেট বিপনন প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেক থেকে দলটি বের করে “বন্ধু আমার” শিরোনামে তাদের প্রথম ক্যাসেট। এই ক্যাসেটে স্থান পাওয়া “ বন্ধু আমার, বাবা বলে শুধু, কার পায়ের আওয়াজ, আশা নেই” ইত্যাদি গান বেশ সাড়া ফেলে সে সময়।
২০০২ সালের ১৪ জুন দলের সদস্য বাবন বন্ধুদের সাথে বেড়াতে গিয়ে ঢাকায় রহস্যজনকভাবে মারা যায়। আর বাবনের মৃত্যুর পর টানা ষোল বছরের জন্য থেমে যায় দলের কার্যক্রম।
২০১৭ সালের ২১ জুলাই ঢাকার ধানমন্ডির একটি রেস্তোরাঁয় দলের নতুন-পুরোনো সবসদস্যরা বসে দলের পুনর্মিলনী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সেই প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল মিউজিক্যাল ব্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন’র পঁচিশ বছর পূর্তিতে অংশ নেয় সফটটাচ। দলের বর্তমান সদস্যরা হলেন ভোকাল- নাজিম, গিটার ও ভোকাল সুমন কল্যাণ, লিড গিটার অনি, ড্রামস সোহেল, বেস গিটার সমর বড়ুয়া।

Advertisement