নাজুক সড়কগুলোকে নিরাপদ যান চলাচল উপযোগী করতে হবে

সোমবার , ৫ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
32

চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ সড়কের এখন বেহাল দশা। টানা বৃষ্টিতে সড়কগুলোর অবস্থা দুর্বিষহ। প্রধান প্রধান সড়ক ছাড়াও শোচনীয় অবস্থায় আছে নগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক-উপসড়কগুলোও। ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় বিঘ্ন হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল। নাগরিক দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। মড়ার ওপর খাড়ার ঘা’র মতো দশা নগরবাসীর। কেননা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সামাল দিতে দিতে নাভিশ্বাস অবস্থা তাদের। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা চট্টগ্রামবাসীর যেন নিয়তি। এর মধ্যে খানাখন্দ রাস্তায় চলাচল দুর্ভোগের মাত্রা যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এমন অবস্থা থেকে চট্টগ্রামবাসী কবে মুক্তি পাবে কেউ জানে না। পত্র-পত্রিকাসহ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জনদুর্ভোগের বিষয়টি বারবার উঠে আসছে। তবু পদক্ষেপ গ্রহণে ধীরগতি নগরবাসীকে হতাশাগ্রস্ত করে তুলেছে।
গত ২৮শে জুলাই দৈনিক আজাদীর প্রথম পাতায় প্রকাশিত হলো ‘১৬ শতাংশ সড়কেই খানাখন্দ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, নগরীর পিচঢালা সড়কের ১৬ শতাংশই এখন খানাখন্দে ভরা। জুলাই মাসের ৬ তারিখ থেকে পরবর্তী আট দিনের ভারী বর্ষণে এ ক্ষতি হয়েছে। এদিকে গত ১৩ দিনে একটানা বা দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি হয়নি। তবু শহরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো আছে আগের মতই ভাঙাচোরা। রোদ থাকলেও সড়কগুলোকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারেনি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। অবশ্য সংস্কারের লক্ষ্যে সাম্প্রতিক বর্ষণে নগরীতে ক্ষতি হওয়া সড়কগুলোর একটি তালিকা করে চসিকের প্রকৌশল বিভাগ। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ২৮২টি সড়কের নাম আছে। যার দৈর্ঘ্য ১৮১ দশমিক ৯ কিলোমিটার। ক্ষতিগ্রস্ত সবগুলো সড়কই পিচঢালা। এসব সড়ক সংস্কারে ১২২ কোটি ৭০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। প্রসঙ্গত, নগরীতে পিচঢালা সড়কের দৈর্ঘ্য এক হাজার ২০৩ কিলোমিটার।
এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে নগরীর বিভিন্ন সড়ক সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে সড়কের বিটুমিন ও ইট-কংক্রিট উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কয়েক জায়গায় এসব গর্তে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এর বাইরে নগরীতে আরো কিছু সড়কের বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে। এছাড়া ইতোপূর্বে ঠিকাদারের মাধ্যমে সংস্কার কাজ শুরু করা প্রধান প্রধান সড়কগুলোর অবস্থাও ছিল ভয়াবহ। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ ডি.টি রোড, স্ট্যান্ড রোড, আর বি কোট রোড, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা রোড, ছালেহ আহমেদ চেয়ারম্যান লেইন, কর্ণফুলী শাহ আমানত ব্রিজ এলাকা, কোতোয়ালী, বহদ্দারহাট থেকে চকবাজার, আইসফ্যাক্টরি রোড, বিআরটিসি, পাহাড়তলী, বায়তুশ শরফ এলাকা। অলংকার মোড় থেকে সিটি গেইট পর্যন্ত, সাগরিকা রোড, গ্রিন ভিউ আবাসিক এলাকা রোড, বড়পোল থেকে চৌচালা সড়ক, ফইল্যাতলী ব্রিজ থেকে আব্বাসপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত এবং ফইল্যাতলী থেকে তালতলা পর্যন্ত সড়কেও অবস্থাও বেহাল।
বেশিরভাগ সড়কই ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘মূলত নিম্নমানের সংস্কার কাজই সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য দায়ী। এ ছাড়া সমন্বয়হীন উন্নয়ন কাজ, ভারী যানবাহন চলাচলসহ আরো কিছু কারণে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখে মানসম্মতভাবে সড়ক সংস্কার করা হলে নগরীর সড়কগুলো অল্পতেই ভেঙে যেত না। এতে যেমন অর্থের সাশ্রয় হতো, তেমনি কমত জনদুর্ভোগও’।
সড়কগুলোর খারাপ অংশের কোথাও পুননির্মাণ, কোথাও সংস্কার, কোথাও পিচ ঠিক করা আবার কোথাও ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট (ডিবিএইচ) করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। কেননা চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী রাখতে হলে নিয়মিত সংস্কার অবশ্যই প্রয়োজন। সেই সঙ্গে দৃষ্টি দিতে হবে নির্মাণসামগ্রীর দিকে।
রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কারণে যান চলাচল বিঘ্নিত হওয়া, যানবাহন গন্তব্যে পৌঁছতে কয়েকগুণ সময় বেশি লাগা, যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হওয়াসহ নানারকম বিপদ-ভোগান্তির অভিজ্ঞতা আমাদের হয়েছে। আমরা নিশ্চয় এমন অবস্থার পুনরাবৃত্তি চাই না। অনতিবিলম্বে নাজুক সড়কগুলো সংস্কার করে নিরাপদ যান চলাচল উপযোগী করতে হবে। আমরা ইতোপূর্বে প্রত্যক্ষ করেছি- জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সংস্কার কাজ করা হয়- যা প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজে আসে না। রাস্তাঘাটের সংস্কারে গাফিলতি এক ধরনের অপরাধ। সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গভীর মনোযোগ দিতে হবে।

x