নাজিমুদ্দীন শ্যামল-এর কবিতা

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
19

পাথর

পাথরে জীবন ঘষে জ্বেলেছি আগুন,

যদিও বৃক্ষ ছিলো, ছিলো অজস্র বেদনার জল,

তবুও পাথরকেই ধারণ করে

যাপন করেছি দহন।

তোমার বুকের পাথর ছুঁয়ে দিতেই

অলৌকিক জোছনার মোম হয়ে

জ্বলে উঠেছিলো জীবন।

কতো কিছুই দাহ্য ছিলো চতুর্পাশে

কিছুতেই পোড়ায়নি প্রেম, কেবল

আমিই পুড়ে অঙ্গার এখন।

পাথর

পাহাড়ে পাথর থাকে, পাখিদের সাথে।

বৃক্ষও জন্মায় পাহাড়িয়া বুকে।

কেমন বৈপরীত্য সফেদ সবুজে

তবুও প্রস্তরকে মৃত্তিকা বলে।

বস্তুর মাটিগুলো দহনে দহনে

প্রস্থর হয়ে ওঠে। তারপর হয়ে যায়

আগুন। ফলত মাটি ও পাথরের

দূরত্ব কেবল অগ্নি। হারিয়ে যাওয়া

ভালবাসা আমার, এতোটা কাল

জেগে আছো শুধু বিরহ বহ্নি।

অতএব, তোমরা আমাকে পাথর বলো,

বলো আগুনভূক মৃত্তিকা। বস্তুত

বেদনাভূক আমিতো বিরহের জারণ,

অপার শূন্যতার নিঃশব্দ কবিতা।

পাথর

সমুদ্রের তলদেশে অবাক পাথরে লেগে

থেমে গেছে চলমান জাহাজ। তারপর

সারেং পাল নামিয়ে নিয়েছে মাস্তুল থেকে।

গতিহীন ভাসমান জীবন নিয়ে

ইয়া নফসি ইয়া নফসি করা ছাড়া

আমরা আর কিবা করতে পারি।

সারেং তো আর ডুবুরি নয়

জলের তলায় পাথরকে অপসারণ

করবে! যেহেতু ভাসমান মানুষ

শুধু সমুদ্রের জল দেখে, তার তলায়

মাটি দেখতে পায়না; সেহেতু

পাথর দৃশ্যমান হবে কিভাবে?

আসুন, সকলে ঝড় কিংবা ভূকম্পের

জন্য প্রার্থনা করি। তবেই হয়তোবা জলের

তলদেশে পাথর বিলীন হবে,

সারেং মাস্তুলে পাল তুলবে

পাথর

ঘুম থেকে জেগে দেখি

পুরোটা নগর পাথরের জঙ্গলে পরিণত

হয়ে গেছে। আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকাগুলো

পাথুরে পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর

ফাঁকফোকরে কিছু চাঁদের আলো

উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে। পিচঢালা রাস্তার

কালো মাটিতে সাদা পাথরের সব বৃক্ষরাজির

অবাক অরণ্যে আমরা কতিপয় প্রাণি

নৈমিত্তিক সঙ্গম করছি সঙ্গিনীর সাথে,

প্রজননও হচ্ছে যথানিয়মে। আমরা

প্রাত্যহিক জীবনযাপন করছি নিয়ম মাফিক।

আমরা পরস্পরকে মানুষ বলছি।

বলছি মানবিকতার জয় হোক।

তার পর আবার পাথরের গুহায় ঘুমিয়ে যাচ্ছি

তাহলে সত্যটা এই দাঁড়ালো

আমাদের ঘুমিয়ে থাকাটাই ঢের ভালো।

x