নাছির-ছালাম ফোনালাপ সোমবার দুজনের বৈঠক

শুকলাল দাশ

শনিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৪:১০ পূর্বাহ্ণ
1983

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম এক সাথে নগর ভবনে বসছেন সোমবার। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে গতকাল নগর আওয়ামী লীগের বৈঠক থেকে এই দুই নেতা ফোনালাপের মাধ্যমে একমত হন। দুই নেতার এক সাথে বসার ব্যাপারে উভয়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেন নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

গতকাল নগর আওয়ামী লীগের সভায় দলের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নগরীর সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সিটি মেয়র ও সিডিএ চেয়ারম্যানের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তাব করলে সিটি মেয়র তাতে সম্মতি প্রদান করেন। সাথে সাথেই খোরশেদ আলম সুজন সভা থেকেই সিডিএ চেয়ারম্যানের কাছে ফোন করে কথা বলে সিটি মেয়রকে দেন। এসময় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম একে অপরের সাথে ফোনে কথা বলেন। আগামী নির্বাচনের আগে নগরীর সকল উন্নয়ন কাণ্ড সমন্বয়ের মাধ্যমে করার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দুই নেতা আগামী সোমবার সকালে এক সাথে বসার ব্যাপারে একমত হন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগরীর উন্নয়নে বৃহৎ দুটি সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বেই চলছে নগরীর সড়ক যোগাযোগ ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে দুই সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মন্ত্রীএমপি এবং নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন সময় একই অভিযোগ করেছেন। মহানগর আওয়ামীলীগের একাধিক সভায় এই ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে দুই সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের এক সাথে কাজ করার জন্য আলাপও হয়েছে। কিন্তু তারপরও সেরকম সমন্বয় হয়নি। তাই গতকাল মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন দলের সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। এসময় সাথে সাথে এই প্রস্তাবে সায় দেন নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

এ ব্যাপারে নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আজাদীকে জানান, সামনে জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের আগে নগরীর চলমান প্রকল্পের কাজ গুলো কিভাবে সমন্বয়ের মাধ্যমে করা যায় এই ব্যাপারে আগামী সোমবার সকালে সিডিএ চেয়ারম্যানসহ বসবো। চলমান কাজগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করে জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে। এখন থেকে আমাদের প্রতিটি ইউনিট এবং ওয়ার্ডে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে। সকল দূরত্ব ঘুচিয়ে ভাবতে হবে ঐক্য যাতে আরো সুদৃঢ় হয়। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি।

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডইউনিটে আমাদের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছি। দলীয় ঐক্যের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য এখনই ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সিটি মেয়র আরো বলেন, জাতিসত্ত্বাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। শত্রুপক্ষের সাথে নিজেদের কেউ যেন হাত মেলাতে না পারে সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। তাই নিজেদের ভেতর অনৈক্য সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিহত করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। নির্বাচনী লড়াইয়ে আমাদের অবশ্যই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। নেত্রী যাকেই মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

আগামী সোমবার নগর ভবনে সিটি মেয়রের সাথে বসার ব্যাপারে মহানগর আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি আজাদীকে জানান, আগামী সোমবার সকালে আমি সিটি কর্পোরেশনে যাবো। আমার সাথে মেয়র সাহেবের কথা হয়েছে। উনার সাথে আমার কোন দূরত্ব নেই। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আমার আগের একটি অনুষ্ঠান ছিলজলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প নিয়ে মতবিনিময় সভা। সেই কারণে মহানগর আওয়ামীলীগের সভায় যেতে পারিনি। আমাকে ওখান থেকে (সভা থেকে) ফোন করেছে। তারা (মহানগর আওয়ামীলীগের নেতারা) আমাকে বলেছেন এক সাথে বসতে। আমি যাবো বলেছি। আমি যে কোন সময় বসতে পারি। সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করলে ভালো হবে। কি আলাপ হয় এখনো বলতে পারছি না। কর্পোরেশনে গেলে বলতে পারবো কি আলাপ হয়। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনআমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দলের জন্য কাজ করতে হবে। নগরীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী অনেক প্রকল্প দিয়েছেন। অনেক গুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। অনেক প্রকল্প এখনো চলমান। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে। সেই লক্ষ্যে এক সাথে কাজ করতে হবে।

এই ব্যাপারে খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমি শুক্রবারের সভায় মেয়র সাহেবকে বলেছি সামনে নির্বাচন। নির্বাচনের আগে আপনাদের মধ্যে (সিটি মেয়র এবং সিডিএ চেয়ারম্যানের সাথে) সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা দরকার। এসময় মেয়র সাহেব আমার কথায় রাজি হন। আমি সিডিএ চেয়ারম্যান ছালাম সাহেবকে ফোন করি। ফোন করে বলেছিআমরা মহানগর আওয়ামীলীগ মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মেয়র আর আপনাকে এক সাথে বসতে হবে। এক সাথে বসে নগরীতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে সমন্বয়ের ব্যাপারে আলাপ করতে হবে। নির্বাচনের আগে এক সাথে কাজ করে অসমাপ্ত কাজ গুলো সম্পন্ন করতে হবে। মেয়র সাহেব আপনাকে চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন কর্পোরেশনে। আলাপআলোচনা করে কোথায় কোথায় সমন্বয় করে কাজ করা যায় তা বের করতে হবে। আপনারা শনিবার বসেন। তখন ছালাম সাহেব আমাকে বললেন উনি রবিবার ঢাকায় যাবেন। সোমবার সকাল ১১টায় তিনি কর্পোরেশনে আসবেন। তখন মেয়র সাহেব উনার (আবদুচ ছালামের সাথে) সাথে ফোনে কথা বলেন।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন দুই নেতা একমত হয়েছেন এক সাথে বসে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার ব্যাপারে। মেয়র সাহেব আরো বলেছেন যেভাবে ভালো হয় সেই ভাবে কাজ করার জন্য। প্রয়োজনে সকল সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের সাথে বসতে বলেছেনযাতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে নগরবাসী ভালো ভাবে সেবা পায়।

x