নরনারী দুজনে মিলেই জীবন সংসার

সাদিকা সুলতানা

রবিবার , ৬ অক্টোবর, ২০১৯ at ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
47

নরনারী দুজনে মিলেই জীবন সংসার ছন্দ পায়, তা সে সামান্য চায়ের কাপে এক চামচ চিনির বাড়ি হউক অথবা শিলনোড়ায় ভর্তা পিশার শব্দই হউক। তবে এটা সত্যি যে, একটি মেয়ে, দাও তো, শব্দের সুখানুভূতি শুধুমাত্র যতদিন মায়ের কাছে থাকে ততদিনই পায়, অতঃপর তার এক জীবনে শুধু শুনতে হয় আমাকে এটা দাও, সেটা দাও। হাতের কাছে থাকা বস্তু হউক, বা কাবাডের পেছনে আটকে থাকা পুরোনো পান্‌জাবিটা হউক।বলছিলাম শুটকি ভর্তা, কাঁঠালের বিচির ভর্তা কাঁচামরিচের ভর্তার কথা, সেই ভর্তাতো পাতে উঠে ভালোলাগায়, ভালোবাসায়, আন্তরিকতায় তো তাতে কখনও ঝাল বেশি কখনও নুন কম হতেই পারে, তিনবেলা হাত পুড়িয়ে ভাতের মাড় সরিয়ে প্রত্যেকটি মেয়ে চায়তো ভাতটা ঝরঝরা করে রান্না করতে, সেই ভাত কালভাদ্রে একটু নরম একটু শক্ত থাকতেই পারে। তাই নিয়ে মালতীদের বিচার হয়, কতবার যে ছুঁড়ে ফেলা ভাত মেঝে থেকে কুড়িয়ে খেতে হয়েছে মালতীকে। নারী, নরের মাথায় কার দিয়ে ছাতার মতো আগলে রাখে তার সংসার, সন্তান, পরিবারকে। একটু শক্ত, সুঠাম হাতের যে বাহাদুরি অবমাননা, অবহেলা বা তাচ্ছিল্য করতে উঠে, সেই একই হাতে কি এক গ্লাস পানি ঢেলে খাওয়ার সময় প্রচন্ড দুর্বল, অসাড় হয়ে যায়।চা না হয় রোজই মালতী বানায় সকাল বিকেল, বেলা বিস্কুটের কৌটাটি খুলে প্লেটে কি চারটে বিস্কুট নেয়া যায়না দুজনার জন্য। মালতীর বয়স এখন ষাট, চৌদ্দ বছর বয়সে সংসার শুরু করেছে, তিনবেলা ভাত রেঁধেছে, তবে ষাট বছর বয়স পর্যন্ত কত ডেকচি টগবগানো মাড় সরিয়েছে মালতী, কত হাত পুড়েছে, বুক পুড়েছে, প্রথম প্রথম ঠিকঠাক পারতোনা বলে লোকের কথায় অন্তর পুড়েছে। এ যেন দহনকাল। কারো ওপর এত নির্ভরতা, আর কারো “দাও তো” দিয়েই জীবন পাড়? কেন? আর কিচ্ছুটি না, শুধুমাত্র মালতীরা চায় তার গহীনের শব্দ কেউ বুঝতে পারুক, একশ “দাও তো ” ফরমায়েশ এর কোন বিনিময় সে কখনও প্রত্যাশা করে না, কিন্তু মালতীও মানুষ তাও আবার মেয়ে মানুষ কখনও শরীর বিগড়ে গেলে তার অন্তরটা চায়, কেউ এক গ্লাস ঠান্ডা জল এনে তার হাতের কাছে রেখে দিক! ব্যাস এইটুকুতেই মালতীর তিয়াস মেটে অন্তর জুড়ায়!

x