নব নাট্যধারা আন্দোলনে অধ্যাপক মমতাজউদদীনের ভূমিকা অগ্রগণ্য

নাগরিক স্মরণসভায় রামেন্দু মজুমদার

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ১১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
19

নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেছেন, বাংলাদেশের নব নাট্যধারা আন্দোলনে অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমেদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। নাটকের পাশাপাশি তিনি ছিলেন দক্ষ সংগঠক ও অভিনেতা। তিনি অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবিচল থেকে দেশে মুক্তবুদ্ধি চর্চায় অবদান রেখেছেন। গতকাল বুধবার শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমেদ নাগরিক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেনের সভাপতিত্বে সভায় আলোচক ছিলেন গবেষক, ড. মাহবুবুল হক, শহীদজায়া বেগম মুশতারি শফি, নাট্যজন শিশির দত্ত, নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার, ডা. সুলতানুল আলম, বাংলাদেশ বেতারের সাবেক কর্মকর্তা ফজল হোসেন। শুরুতে শোক সংগীত পরিবেশন করে রক্তকরবী। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল। এরপর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন অতিথিবৃন্দ। স্বাগত বক্তব্য দেন, ডা. চন্দন দাশ।
নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার আরো বলেন, মমতাজউদদীন আহমেদ ছিলেন প্রচণ্ড রসবোধ সম্পন্ন মানুষ। শেষের দিকে বিদেশ না গেলে বাংলাদেশের নাট্যজগৎ বিশেষ করে আমাদের শিল্প সাহিত্য জগৎ আরো সমৃদ্ধ হতো।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগঠক ডা. সুলতানুল আলম বলেন, মমতাজ স্যার যখন শিক্ষক তখন একরকম, যখন আড্ডা দেন তখন অন্যরকম, আবার যখন নির্দেশনা দেন তখন বেশ অন্যরকম। নাটকের রিহার্সেলে তাই আমরা তটস্থ থাকতাম। দেশ নিয়ে তাঁর সিরিয়েসনেসটা ছিল বেশি। স্বাধীনতা বিষয়ক নাটকগুলো দেখলে বোঝা যায় কতটুকু দেশপ্রেম ছিল তাঁর মধ্যে। নাট্যজন আহমেদ ইকবাল হায়দার বলেন, তিনি শুধু থিয়েটার করতেন না। পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক কাজগুলো করেছেন সচেতনতার তাগিদে। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি মমতাজ স্যারের মতো মানুষকে পেয়েছি।
নাট্যজন শিশির দত্ত বলেন, মমতাজ স্যার আপাদমস্তক প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক মানুষ। তিনি মুক্তিযুদ্ধকে নাটকের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তিনি চট্টগ্রামে নাটকের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছেন। যা অনবদ্য। যদি তিনি ঢাকায় চলে না যেতেন তবে চট্টগ্রামের থিয়েটারের ইতিহাস অন্যরকম হতো। বেগম মুশতারী শফি বলেন, নাট্যকার মমতাজউদদীন আহমেদ একজন দেশপ্রেমিক নাট্যকার ছিলেন। তাঁর নাটক গণজাগরণ সৃষ্টি করে এবং জনগণকে বিদ্রোহে উজ্জীবিত করে। গবেষক ও তাঁর ছাত্র ড. মাহবুবুল হক বলেন, তাঁকে চট্টগ্রাম কলেজে দেখেছি আপাদমস্তক অভিনেতা হিসেবে। তিনি পাঠদান করতেন অসাধারণ ভাবে। আমরা শিক্ষার্থীরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতাম। সেই পাঠ পরে আর মুখস্ত করতে হতো না। তিনি শুধু শিল্পী ছিলেন না সচেতন দায়বদ্ধ সমাজকর্মীও ছিলেন। তিনি আমাদের প্রেরণা।
কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমেদ চট্টগামের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সম্পৃক্ত ছিলেন ওতপ্রোতভাবে। সেই সময় তরুণদের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা ও জাগরণ তৈরি করেছেন। আজকের এই নাগরিক স্মরণসভার আয়োজন তাঁর প্রতি আমাদের অপরিসীম ঋণ পরিশোধের সামান্যতম চেষ্টা। অনুষ্ঠানের পর নাট্য আন্দোলনের পুরোধা অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের স্বাধীনতার সংগ্রাম নাটকের অংশ বিশেষ পাঠ করেন ফেইম স্কুল অব ডান্স ড্রামা অ্যান্ড মিউজিক ও চবি নাট্যকলা বিভাগের কর্মীরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এই নাট্যশিল্পীর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x