নবারুণের সাথে প্রথম সাক্ষাত-২০১৫

ইলিয়াস কামাল রিসাত

মঙ্গলবার , ২৪ জুলাই, ২০১৮ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ
28

নবারুণ ভট্টাচার্য মারা যাবার পরে আমি তাকে চিনেছিএ সত্য প্রকাশ করতে আমার লজ্জা আছে বৈকি। আমার জানারবোঝার এবং পরিপার্শ্বের সীমাবদ্ধতা এটা।

তার লেখা পড়ার আগ্রহ থেকেই ‘হারবার্ট’ ও একটা প্রবন্ধ বই ‘আনাড়ির নাড়িজ্ঞান’ সদ্য কিনেছি।

আমার সিরিয়ালে এবই এখন না পড়ার নিয়ত থাকলেও আজ এমনি পাতা উল্টাচ্ছিলাম প্রবন্ধ বইটার। সূচিপত্রের ঠিক পর এবং প্রথম প্রবন্ধের আগে একটা কবিতা আছে যার প্রথম অংশেই ধাক্কা খেলাম:

আনাড়ি হয়ে থাকা

আর দিস্তে দিস্তে প্রেমের কবিতা লেখা

সবটাই যে ফালতু

সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাবে

যেদিন প্রথম চুমুটা খাবে।’

বাপরে বাপ! এই অসাধারণ প্রতিভাধরের লেখা পড়া শুরু করে দিলাম। তার জীবনদর্শনের সাথে তিনি তার লেখায় যা পিক করছেন তার সাযুজ্যতা ও পলিটিকাল কমিটমেন্টএর প্রমাণ আবার পেলাম আরেকটা প্রবন্ধ ‘আলবেয়ার কামু ও সুখী মৃত্যু’ র প্রথমে মার্ঙ এর জার্মান ইডিওলজি থেকে উদ্ধৃত অংশ দেখে

“Philosophy and the study of actual world, stand in the same relation to one another as masturbation and sexual love”

এর সাথে কবিতার লাইনের কিছু হলেও মিল পান তো?

দুই নং প্রবন্ধটাতে তিনি জীবনানন্দের তিনটা গল্পের ব্যবচ্ছেদ করেছেন যেখানে তিনি অঙ্কন করলেন হঠাৎ গজিয়ে উঠা কলকাতার নব্যধনীক শ্রেণির চরিত্রের নগ্নতা। প্রবন্ধের শেষে নবারুণ ঘোষণা করছেন:

বহুদিন ধরে একটি কাজ করব বলে বড় আশা ছিল। সেই কাজটি হল একটি মৃত্যুর পুনঃনির্মাণঅবশ্যই লেখায়। তার জন্য সেই জায়গাটি খুঁজে বের করেছিলাম যেখানে জীবনানন্দ ট্রামের ধাক্কা খেয়েছিলেন।”

জীবনানন্দ যেট্রামে ধাক্কা খেয়েছিলেন সেট্রামে কি সেইসব ভুঁইফোড় চরিত্রগুলো বসে ছিল?

জীবনানন্দ কি অনুভব করেছিলেন যে স্বর্ণপ্রাধান্যের এই লোভী পৃথিবীতে স্বাভাবিক জনমানবের সূর্যালোক পৌঁছানো যাবেনা।”

নবারুণ কেমন দরকারি আমার স্বাস্থ্যের জন্য তা টের পেয়ে গেছি। এবার হবে এতে পবিত্রস্নান।

x