নবজাতক শিশুকে শাল দুধ খাওয়ানো

প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

শনিবার , ২৮ জুলাই, ২০১৮ at ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ
58

শাল দুধ : সন্তান প্রসবের পর মায়ের স্তনে প্রথম যে দুধ আসে তাকে শাল দুধ বলে। শাল দুধ হালকা হলুদ বর্ণের ঘন আঁঠালো এবং পরিমাণে কম।

শাল দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা

শিশু প্রথম খাবার হিসাবে শালদুধ প্রহণ সর্বোচ্চ খাদ্য যার বিকল্প কোন খাবার নাই।

 শাল দুধ ইমিউনোলোজিক্যালি সক্রিয় কোষ, এন্টিবডি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন সমৃদ্ধ। এটি শিশুর প্রথম টিকা হিসাবে কাজ করে। শাল দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে শিশুকে দ্রুত রক্ষা করে।

 শাল দুধে কিছু উপাদান থাকে যেটা নবজাতকের পরিপাকতন্ত্রকে পরিপক্ক ও কার্যকরী করতে সহায়তা করে। ফলে শিশুর শরীরে রোগ সংক্রমণ ও এলার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় ।

 শাল দুধে আছে প্রচুর আমিষ, ভিটামিন , বি১২, ভিটামিন ই এবং জিংক। আরো রয়েছে আই জিএ নামক এক ধরনের ইমিন্যুগ্লোবুলিন যা রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে।

 এটি শিশুর পরিপাকতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে যাতে করে অন্ত্র থেকে দ্রুত মিকোনিয়াম পরিষ্কার হয়। এই ব্যবস্থা জন্ডিস সৃষ্টিকারী উপাদানকে শিশুর শরীর থেকে দ্রুত বের হয়ে যেতে সাহায্য করে।

 শাল দুধ অল্প মাত্রায় আসে, তবে জন্মের পর থেকে ২ দিন পর্যন্ত শিশুর পাকস্থলীর আকার থাকে ১ টা ছোট মার্বেলের মত। এইজন্য এই ২ দিন ১ চা চামচ (৭ এম.এল) শাল দুধ হলেই যথেষ্ট। শিশু জন্মের ১ম দিন অন্তত ৮১২ বার অবস্থান ও সংস্থাপন ঠিক রেখে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।

 শিশুকে তাড়াতাড়ি শাল দুধ খাওয়ালে তা মায়ের গর্ভফুল পড়তে সাহায্য করে, ফলে মায়ের রক্তক্ষরণ কম হয় এবং মা রক্তস্বল্পতা থেকে রক্ষা পায়।

শুধুমাত্র জন্মের ১ ঘন্টার মধ্যে শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে ৩১% নবজাতকের জীবন রক্ষা হয়।

x