নদীর তৃতীয় পাড় – জাও জিমাহরেশ রোজা (The third bank of the river – Joao Guimaraes Rosa)

অনুবাদ ইংরেজি থেকে : মাহমুদ হাসান

মঙ্গলবার , ৩০ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
64

আব্বা ছিলেন সোজাসাপ্টা , নিয়ম কানুন মাইনা চলা মানুষ। যদ্দুর মনে পড়ে ছোটবেলা থেকেই এমন ছিলেন তিনি। অন্য দশ জন মানুষের মতো – খুব একটা হাসি খুশি না আবার মন মরা কইরা বইসা থাকার মতনও না। একটু ঝিম মারা টাইপ ছিলেন হয়তো। আব্বা না, আম্মা ছিলেন আমাদের বাসার হর্তাকর্তা। আমাদের সারাদিন ঝাড়ির উপর রাখতেন আম্মা , আমাদের মানে আমার ভাই, বোন আর আমি।
কিন্তু একদিন দেখি এই আব্বাই একটা নৌকা বানাইতে কইলেন মিস্ত্রীরে আর দেখি উনি বেশ গোয়ার এই নৌকাটা বানানোর ব্যাপারে। বানাইতে হবে রেন্ডি গাছের কাঠ দিয়া আর অনেক শক্ত কইরা যেন বিশ তিরিশ বছর টিকা থাকে আর একজন থাকার মতো যথেষ্ট পরিমাণ জায়গা থাকে। আম্মা অনেক চিল্লাপাল্লা করলেন , এহ! জাইল্লা হইবার শখ হইছে এই বয়সে, যেন মাছ শিকারে যাইবো। আব্বা একদম চুপচাপ, কোন কথাই বলেন না। নদী আমাগো বাড়ি থেকে মাইল খানেক দূরে, গভীর, ঠান্ডা আর এত বড় যে এক পাড় থেকে আরেক পাড় দেখা যায় না।

ওই দিনের কথা কোনদিন ভুলবোনা আমি, যেইদিন আব্বারে নৌকাটা বুঝাইয়া দিয়া গেল ওরা। আব্বার মুখে কোন কথাবার্তা নাই, শুধু মাথায় টুপিটা দিয়া আমাগো কইলেন যাই । ওই যাই তো সেই যাই , লগে কোন খাবার-দাবার কাপড়-চোপড় কোন কিছু নিলেন না। ভাবলাম আম্মা অনেক রাগারাগি করবেন কিন্তু উনার মুখে দেখি কোন কথা নাই, শুধু ঠোঁটে ঠোঁট চাইপা কইলেন ‘যাইবাই যখন যাও , তোমার আর আসনের দরকার নাই।’
আব্বা কোন উত্তর দিলেন না। আমার দিকে এক নজর তাকাইয়া বললেন উনারে একটু আগাইয়া দিতে। আম্মা কী কইবো ভাবতে ভাবতে আমি আব্বার লগে রওনা দিলাম। এমনকি সাহস কইরা কইলাম, ‘আব্বা আমারে নিবেন আপনার লগে ? আপ্নের নাওয়ে !’

আব্বা তাকাইলেন একবার, তারপর একটা দোয়া পইড়া, ফুঁ দিয়া কপালে, ইশারা করলেন বাড়িত ফিরা যাইতে। উনার কথামত বাড়ির দিকে হাঁটা দিলাম আমি কিন্তু যেইনা উনি রওনা দিলেন নৌকার দিকে, আমি ধুপ কইরা এক ঝোঁপের পিছনে লুকাইয়া খেয়াল করতে লাগলাম উনারে। দেখলাম আব্বাজান আমার, কেমনে নৌকায় উইঠা বৈঠা বাওয়া শুরু করলেন, দেখলাম নৌকার ছায়া কেমনে পিছলাইয়া গেলেন পানিতে – একটা বিরাট কুমিরের মতো, ধীরে আর নীরবে।

এরপর আব্বা আর ফিরা আসেন নাই। উনি কিন্তু কোথাও যানও নাই। খালি এদিকে-ওদিকে বৈঠা বাইয়া ঘোরাঘুরি করেন আর নৌকা নিয়া বইসা থাকেন মাঝ নদীতে। আমরা তো সবাই বেকুব এদিকে। যা কীনা কোনদিন হয় নাই, যা কীনা কোনদিন ভাবি নাই হইতে পারে , সেইটাই দেখি চোখের সামনে হইতেছে। আমাগো আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, বন্ধু বান্ধব আব্বার এই কাজ কাম দেইখা তাজ্জব হইয়া গেলেন।
আম্মা তো শরমে একদম শেষ। উনি চুপচাপ হইয়া গেলেন। এগুলা দেইখা সবাই ভাবলেন আব্বা পাগল হইয়া গেছেন। কেউ কেউ কইলেন আব্বা মনে হয় পীর আউলিয়া হইয়া গেছেন , খোদার কাছে হয়তো মানত করছেন কোন কিছুর জন্য। আবার কেউ কইলেন আব্বার নিশ্চয় বড় কোন অসুখ হইছে – কুষ্ঠ রোগ, হয়তো এইজন্য তিনি সংসার থেকে দূরে আছেন আমাগো ভালোর জন্য। আবার ধারে কাছেও থাকতে চাইতেছেন।
নদীর দুই পাড়ের লোকজনদের সাথে কথা বইলা দেখছি , বাবা এক মুহূর্তের জন্যেও ডাঙ্গাতে নামেন নাই। সহায় সম্বলহীন মানুষের মতো , উনি শুধু নৌকা বাইয়া গেছেন, যেদিক ইচ্ছা সেদিক একলা একলা। মা আর আত্মীয়রা ভাবলেন, কত দিন আর এমন চলব ! খাবার যা নিয়া গেছেন লুকাইয়া চুরাইয়া, ওইটা নিশ্চয় একদিন শেষ হইবো! তারপর পাড়ে না আইসা উনি যাবেন কই ! দেখবেন একদিন ঠিকই মাথা নিচু কইরা বাড়ি ফিরতেছেন।
কিন্তু উনাদের ধারণা যে কত ভুল সেইটা যদি উনারা জানতেন! কারণ আমি ছিলাম বাপের একমাত্র ভরসা, প্রতিদিন চুরি কইরা খাবার নিয়া যাইতাম উনার জন্য। প্রথম রাইতে আব্বা যেইদিন চইলা গেলেন, নদীর কিনারে বইসা আমরা ব্যাপক আগুন জ্বালাইলাম , আব্বারে ডাকা ডাকি করলাম , আল্লারে ডাকলাম, অথচ আব্বার জন্য জানটা দিয়া দেবার জন্য হাসফাঁস করতেছিলো আমার। পরের দিন কিছু চালের রুটি, এক ডজন কলা আর এক ঝোলা গুড় নিয়ে গেলাম আব্বার জন্য। এর পর তো বইসা আছি তো বইসাই আছি- ঘন্টার পর ঘন্টা যায় কিন্তু কোন খবর নাই , তারপর হঠাৎ দেখি নৌকাটারে , অনেক দূরে, অস্পষ্ট একটা অবয়ব, শান্ত পানিতে আস্তে আস্তে ভাইসা যাইতেছে আর আব্বা বইসা আছেন নৌকাটার আরেক ধারে। আমারে দেখলেন বুঝলাম কিন্তু কেন যেন কাছে আসলেন না। আমি বাপরে ইশারা ইঙ্গিতে বুঝাইলাম খাবারের কথা, তারপর এক ভাঙা পাথরের পেছনের গর্তে লুকাইয়া রাইখা দিয়া আসলাম। সাপ খোপে ভরা এই জায়গা, বৃষ্টি , ঠান্ডা কত কিছু , খাবার এইখানেই ভাল থাকবে। দিনের পর দিন এইটা কইরা গেছি আমি, পরে বুঝতে পারছি আম্মা ব্যাপারটা আসলে আমার এই আকামটা জানতেন কিন্তু কিছু বলতেন না। উনি নিজেই এমন সব জায়গায় খাবার দাবার রাইখা দিতেন যাতে আমি সহজেই চুরি করতে পারি। আম্মার মধ্যে অনেক মায়া আছিলো কিন্তু উনি ওইটা দেখাইতেন না।
তারপর আম্মা একদিন উনার ভাইরে নিয়ে আসলেন আমাদের জমি জমা আর ব্যবসাপাতি দেখার জন্য। স্কুল টিচার আসলেন আমাদের পড়ানোর জন্য – অনেক পিছাইয়া পড়ছিলাম আমরা। জিনে ধরছে ভাইবা মসজিদের হুজুর অনেক দোআ দুরুদ পইড়া গেলেন , নদীর পাড়ে গিয়া আব্বারে অনেক গালাগালি করলেন এইরকম একটা দায়িত্বহীন কাজ করার জন্য। আরেকদিন দুইটা আনছার ডাইকা আনলেন আম্মা ভয় দেখানোর জন্য, কিন্তু কিসের কি ! ভ্রুক্ষেপও করলেন না আব্বা এই সবের, সেই দূরে দূরে রইলেন আমাদের থেকে, কারো কাছে আসলেন না, কোন কিছুর জবাব দিলেন না। পত্রিকার লোক আইলো একদিন ছবি তুলতে , আব্বা সেইটা দেইখা খাগড়া বনে লুকাইলেন, নিজের হাতের তালুর মতো চেনা এই জঙ্গল, মাইলের পর মাইল যত দূর দৃষ্টি যায় লম্বা ঘাস, যেইখানে যে কেউ হারাইবো দিশা, সেইখানে আব্বা নিচিন্তে লুকাইয়া থাকলেন।
এইভাবে আস্তে আস্তে ব্যাপারটা স্বাভাবিক হইয়া আসলো আমাদের কাছে। প্রথম প্রথম মানতে কষ্ট হইছিলো অনেক , তারপর বাধ্য হইছি আর কি। একমাত্র আমিই মনে হয় বুজতে পারছিলাম আব্বার মনের কথা – কী চাইছিলেন উনি আর কী চান নাই। কিন্তু একটা জিনিশ বুঝিনা আমি , কেমনে তিনি এই অমানুষিক কষ্ট সহ্য করতে পারতেছেন দিনের পর দিন , মাসের পর মাস আর বছরের পর বছর ! এই বৃষ্টি -বাদল , ঝড়, ঠান্ডা-গরমের মধ্যে সামান্য একটা লুঙ্গি আর মাথায় গামছা পইড়া কেমনে এমন নীরবে আর একলা একলা একটা জীবন নষ্ট করতেছেন তিনি ! কোনদিন পাড়ে আসলেন না , কোনদিন কাউরে ডাক দিলেন না , কোন দন একটু আলো জ্বালাইয়া আশ্বাস দিলেন না। কেমনে বাঁইচা আছেন আমার বাপ এই সামান্য একটু খাবার খাইয়া ! কেমনে উনি এই দিনের পর দিন নৌকা বান এমন ভাঙা স্বাস্থ্য নিয়া ! উনি হয়তো সামান্য একটু ঘুমান কোন এক গোপন জায়গায় গিয়া – উনার নিরাপদ তন্দ্রা , কিন্তু কেমনে উনি সামলান বছর কা বছর আচমকা বন্যার থেইকা, কেমনে উনার নৌকা সামলায় নিজেরে এই আচমকা স্রোতে ভাইসা আসা মরা গাছ , মরা জন্তু থেইকা !
আমরা আর কারো সাথে আব্বার ব্যাপারে আলাপ করি নাই। আমরাও শুনি নাই আব্বারে কারো সাথে কথা কইতে। বাপরে আমরা মন থেকে মুইছা ফেলতে পারি নাই। যখনই কয়েক মুহূর্তের জন্য ভুলছি বাপরে তখনই উনার দুঃসহ অবস্থার কথা মনে পইড়া যাইতো আমাদের।
এদিকে বোন বিয়া করলো। আম্মা কোন জাঁকজমক করলেন না। আমরা এদিকে পোলাও বিরিয়ানী খামু আর ওদিকে বাপ আমাদের না খাওয়া। আমাদের আরামের বিছানায় শুইয়া ভাবি বাপের একলা একলা নৌকা বাওয়া খালি হাতে, কখনো বৈঠা ধরা। ইদানিং লোকজন বলাবলি করে আমি নাকি দিন দিন আমার বাপের মতো দেখতে হইয়া উঠতেছি। কিন্তু আমি ভাবি এখন নিশ্চয় উনার দাড়ি নখ অনেক বড় হইয়া গেছে। ভঙ্‌গুর রুগ্ন অবস্থা , রোদে পুইড়া শরীর কালো হইয়া গেছে। গায়ে জামা কাপড় নাই – প্রায় উলঙ্গ, যদিও মাঝে মাঝে ওই গর্তে কাপড় চোপড়ও রাইখা আসি আমি।
আব্বা মনে হয়না খুব একটা ভাবেন আমাদের। কিন্তু উনারে ভুলতে পারিনা আমি, উনার প্রতি আমার দরদ শেষ হয় না। এখনো কেউ যদি আমার কোন কিছুর প্রশংসা করে বলি বাপের কাছ থেকে শিখছি আমি, যদিও কথাটা একদম সত্য না।
কিন্তু আমি ভাবি আব্বা যদি আমাদের নাই ভাবেন তাইলে কেন এখনো আমাদের আশেপাশে ঘুইরা বেড়ান? কেন উনি নৌকা নিয়া আমাগো চোখের দৃষ্টি থেকে দূরে চইলা যান না? আল্লায় জানে কী আছে উনার মনে।
বোনের বাচ্চা হইলো। খুব জিদ করলো নাতি দেখাবে আব্বারে। বইন বিয়ার শাড়ি পরলো। তারপর আমরা বাচ্চা নিয়ে গেলাম নদীর পাড়ে। বইন বাচ্চারে উঁচু কইরা ধরলো যেন আব্বা দেখতে পারে। কিসের কি। অনেক চিল্লাইয়া ডাকলাম , আসলেন না একবারো কাছে। বোন কান্দাকাটি করলো । আমরা কাঁনলাম , আমরা সবাই একজন আরেকজনরে জড়াইয়া ধইরা অনেকক্ষণ কান্দাকাটি করলাম।
তারপর একদিন বইন তার জামাই নিয়া অনেক দূরে চইলা গেল। ভাই চইলা গেল ব্যবসা করতে শহরে। সময় এমন কইরা চইলা যাইতে থাকলো, যেমন যায় সময়। আম্মারও বয়স হইলো, উনিও বইনের সঙ্গে থাকতে চইলা গেলেন। শুধু আমি রইয়া গেলাম। বিয়া করার কথা ভাবাই হইলো না আমার। শুধু ভাবতাম আমারে দরকার আমার বাপের, এই অব্যক্ত ভাবনার কষ্ট নিয়া আমি খালি রইয়া গেলাম। যদিও ভাবি আব্বার দরকার আমার, কিন্তু উনি কোনোদিন বলেন নাই কেন তিনি বছরের পর বছর এই কাজ কইরা যাইতেছেন। আমি অনেক লোকজন রে জিগাইছি আব্বার এই অদ্ভুত আচরণের কারণ। কেউ কেউ বলেন উনি নাকি নৌকা বানানোর মিস্ত্রি রে বইলা গেছেন সেই কথা। কিন্তু সেই লোক তো গত হইছেন বহুৎ বছর আগে ! কে মনে রাখছে ওই লোকের কথা ! মাঝে মাঝে বর্ষা যখন ঘন আর জোড়ালো হইয়া আসে তখন শুনি আজাইরা সব কথা, আব্বা নাকি নূহ নবীর মতো জ্ঞানী আছিলেন, উনি নাকি ভাবছিলেন এমন আরেকটা বন্যা আসবে যা কিনা আবার সবকিছু ভাসাইয়া নিয়া যাবে।
আমি বাপরে আর দোষাই না। বয়স বাড়তেছে আমার, চুল পাকতেছে একটা একটা কইরা। মনে এখন খালি খারাপ চিন্তা আসে। ভাবি কী দোষ করছিলাম আমি এই জীবনে? কী সেই অপরাধ আমার? সবসময় আব্বা দূরে দূরে থাকলেন আর আমি থাকলাম আব্বার এই না থাকাটারে নিয়া। এদিকে নদী বইয়া যায় নদীর মতো, পুরান নদী আবার নতুন হয় আর আমি বুড়া হই আমার মতো। বুড়া বয়সের শরীরে শুধু মরণ ভাবনা আসে, পুরান বাতজ্বরটা ফিরা ফিরা আসে। কিন্তু বাপ? এখনো কেন তিনি এই আকামটা কইরা যাইতেছেন ? মরণের পারে এক পা দিয়া বইসা আছেন, একদিন উনার নৌকাটা ডুইবা যাবে, তারপর উনি ভাসতে ভাসতে কোথায় চইলা যাইবেন কে জানে! আমার কষ্টে বুক ফাটে, উনি কেন এইভাবে জীবনটা কাটাইয়া আমার জীবনের শান্তি নষ্ট করলেন ! কত হাবিজাবি চিন্তা আসে মাথায়, নিজেরে দোষী দোষী লাগে কিন্তু বুঝি না কিসের জন্য লাগে।
ভাবি এমন কী করি নাই যেইটা করতে পারতাম উনার জন্যে ! হঠাৎ মনে হয় আরে তাইতো? এইটা কেন করি নাই? আমি কী পাগল হইয়া গেলাম ! নাহ তা কেন হবে ! আমাদের পরিবারে কেউ এই দোষ দিতে পারবে না। হয়তো সবাই পাগল কে জানে। আমি দৌড়াইয়া নদীর পাড়ে গিয়া, জোরে জোরে আব্বার উদ্দেশ্যে হাত নাড়াইতে থাকলাম, হাতে একটা রুমাল যাতে আব্বা বুঝতে পারে দূর থেইকে। তারপর দেখি আব্বারে, অনেক দূরে একটা অস্পষ্ট অবয়ব , নৌকায় বসা। চিৎকার কইরা ডাকলাম কয়েকবার তারপর বললাম ‘বহুত হইছে আব্বা, এখন ফিরা আসেন। আমি বামু নৌকা আপনার বদলে, আপ্নে যখন চান , যখন আপনার খুশি’ বলতে বলতে উত্তেজনায় আমার বুক ধড়ফড় করে।
মনে হইলো শুনছে আব্বা আমার কথা। উনি নৌকা বাইয়া কাছে আসেন, বুঝি উনি আমার কথায় সম্মতি দিছেন। যখনই বুঝলাম ব্যাপারটা, তখনই আমার আত্মা ভয়ে কাঁইপা ওঠে। এতদিন পর উনি তার হাত বাড়াইছেন আমার দিকে আর আমি ভাবি কোন অচেনা জগৎ থেকে উইঠা আসছেন উনি! ভয়ে আমার পিছনের চুল সব দাঁড়াইয়া যায়। আমি পাগলের মতো দৌড়াইয়া পালাইয়া আসলাম। আব্বা আমারে মাফ করো, আমারে মাফ করো। ভয়ে আমার শরীর কাঁপাইয়া জ্বর আসলো, আব্বারে আর কোনদিন খুঁইজা পাওয়া গেল না এরপর।
তো নিজেরে মানুষ হিসাবে কেমনে পরিচয় দিবো এখন আমি ? এরকম কাপুরুষ কেমনে হইলাম আমি? আমার জন্ম নিয়া আফসোস হইতে লাগলো আমার। আইজ থেকে শালা তোর কথা বন্ধ। একটা আওয়াজ জানি মুখ থেকে না বাইর হয় তোর! এই সমাজের যোগ্য না তুই , ভাগাড়ে গিয়া মর তুই শালা! তয় যখন মরণ আসবে আমার, একটা ছোট নৌকাতে উঠাইয়া দিও তোমরা আমারে, দুই পাড়ের মধ্যে দিয়া ভাইসা যাইবো আমি। এই আমি আর আমার এই নদী , এই নদীর গভীরে আমি , এই নদীর দুই পাড়ের আশেপাশে আমি…

x