নতুন সেতু চালু করলেই মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু দ্রুত অপসারণ করতে হবে

মঙ্গলবার , ২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ
173

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার মধ্যবর্তী হালদা নদীর উপর নির্মিত মদুনাঘাট সেতুর পাশে পুরনো আরসিসি সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নির্মাণ করা হয়েছে নতুন একটি সেতু। এখানে পুরনো সেতুটি রয়ে গেছে। হালদা নদীর ওপর পাশাপাশি দুটি সেতু অবস্থানের কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নদীর নাব্যতা। একই চিত্র রাঙামাটির রাণীরহাট বাজার সংলগ্ন ইছামতী সেতুর পাশেই কংক্রিটের নতুন সেতু নির্মাণ করা হয় এক দশক আগে। নতুন সেতু চালুর পর কার্যকারিতা হারায় পুরনো সেতুটি। অব্যবহৃত থাকার পরও দীর্ঘদিনেও পুরানো সেতুটি সরানো হয়নি। দুটি সেতু পাশাপাশি হওয়ায় নদীর দুই পাশে সেতু-সংলগ্ন এলাকায় চর জমেছে। পুরনো সেতুর মাঝ বরাবর পিলার থাকায় পার্বত্য এলাকার উজান থেকে নেমে আসা পানি প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পুরনো সেতুটি অপসারণ না করায় মদুনাঘাটের হালদা নদীর ওই অংশের আশেপাশে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর সরজমিন মদুনাঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নতুন ও পুরনো দুটি সেতুর পিলারগুলোর নিচে পলি জমতে শুরু করেছে। সর্বশেষ বর্ষা মৌসুমে সেতু সংলগ্ন কয়েক কিলোমিটারের নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পত্রিকান্তরে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক খবরে এসব তথ্য পরিবেশিত হয়। খবরে বলা হয়, কালভার্ট, আরসিসি ও বেইলি সেতু-সব ক্ষেত্রেই পুরনো সেতু সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আগ্রহ নেই সড়ক বিভাগের। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের দাবি, শুধু বেইলি সেতুগুলো জটিলতা ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্যে সরানো হয় না। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও পুরনো সেতু সরিয়ে না নেয়ার ফলে সেতু সংলগ্ন এলাকায় নদী-খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জরাজীর্ণ সেতু অনেক সময় নদীতে ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা, কিংবা চট্টগ্রামের হাটহাজারী-রাউজান এলাকা নয় দেশের বিভিন্ন স্থানে মেয়াদোত্তীর্ণ সেতুর পরিবর্তে নতুন সেতুও কালভার্ট নির্মিত হয়েছে। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ সেতুটি অপসারণ করা না হওয়ায় নদীতে স্বাভাবিক গতি প্রকৃতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সেতু নির্মাণের ফলে নদীর গতিপথ থেকে শুরু করে এর স্বাভাবিক প্রবাহ যে অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয় সেটা অনেকেরই জানা। আর এর কারণে সাধারণত একটি নদীর স্বল্প দূরত্বে একাধিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় না। কিন্তু চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার মধ্যবর্তী হালদা নদীর ওপর এবং রাঙামাটির রাণীরহাট বাজার-সংলগ্ন ইছামতী সেতুর পাশে নতুন সেতু নির্মাণ করা হলেও পুরনোটি সরিয়ে নেয়া হয় নি। এটা মোটেই উচিত কাজ হয়নি। এ সংক্রান্ত প্রকল্পের আকার ছোট রাখতে মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু সরিয়ে নেয়া হয় না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়। তাদের কথা হলো-নতুন কোন এলাকায় চাহিদা তৈরি হলেই পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে পুরনো বেইলি সেতুটি নিয়ে স্থাপন করা হয়। নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ ঠিক রাখতে পুরনো সেতুটির পিলার ও অন্যান্য অবকাঠামো কিছুটা পরিবর্তন করে দেয়া হয়। তাদের বক্তব্য সর্বাংশে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না কারণ, এতে অর্থে সাশ্রয় হয় বটে কিন্তু পরিবেশের যে ক্ষতি হয়, সেটাকে খাটো করে দেখা যায় না। নদীগুলো এমনিতেই দখল, দূষণে বিপর্যস্ত। একের পর এক অবকাঠামো গড়ে তুলে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে নদীর স্বাভাবিক চলাচল। পার্বত্য এলাকার সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হতো বেইলি সেতুর মাধ্যমে। বিভিন্ন সময় এসব সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেলে বিকল্প সেতু নির্মাণ করা হয়। নতুন সেতু নির্মাণের পর বেইলি সেতু সরিয়ে না নেয়া হলে সেতুর নিচ দিয়ে পানির গতিপথে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পার্বত্য এলাকার অধিকাংশ সেতুই এরই মধ্যে আরসিসিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু পুরনো সেতু সরিয়ে না নেয়ায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সাথে সড়ক সেতু-সংলগ্ন এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দুই বছর ধরে পার্বত্য এলাকায় পাহাড় ধসের এটাও একটি কারণ।
দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ অব্যবহৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দ্রুত অপসারণ করা বিধেয়। তবে অপসারণ এমনভাবে হতে হবে যাতে নদীর যেন কোনো ক্ষতি না হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু নতুন সেতু চালু হওয়ার বিষয়টি অবশ্যই প্রশাসনের উদাসীনতারই ফল। এক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পুরনো অবকাঠামোও এর নির্মাণের সময় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যথাসময়ে সরিয়ে নেয়াটাও প্রয়োজন। অর্ধেক কাজ করে কর্তৃপক্ষ যাতে বাহবা নিতে না পারে তার জন্য প্রকল্প গ্রহণ শুরুর সময়ই ব্যবস্থা রাখাটাও খুবই দরকার। একটি প্রকল্প গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের মধ্যে প্রতিটি বিষয় যাতে পুঙ্খানুপুঙ্খাভাবে থাকে তা নিশ্চিত করা জরুরি। আমরা চাই দেশব্যাপী যেসব মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু বা অবকাঠামো, আছে যা নদীর গতি প্রবাহকে রুদ্ধ করছে, তা দ্রুত অপসারণে উদ্যোগ নিক।

x