নতুন প্রজন্মকে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তুলতে হবে

মঙ্গলবার , ৬ নভেম্বর, ২০১৮ at ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ
8

প্রতি বছর ১ অক্টোবর বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালন করা হয়। জানা যায়, ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ প্রতিবছর ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রবীণদের সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি বার্ধক্যের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে এ দিবসটি পালন করা হয়। বিবর্তন শীল সমাজের জীবনযাত্রা বিভিন্ন রকমের। বিভিন্ন বয়সের জীবনযাত্রা বিভিন্ন রকমের হলেও প্রবীণদের জীবনযাত্রা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম। বেশিরভাগ প্রবীণদের জীবনযাত্রা আমাদের সমাজে খুবই করুণ ও বৈচিত্র্যময়। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে রয়েছে এ করুণ বিষাদময় জীবন যাপন। এক সময় মনে করা হতো বার্ধক্য শুধু উন্নত বিশ্বেরই সমস্যা। কিন্তু না বার্ধক্য উন্নয়নশীল, অনুন্নত দেশেরও সমস্যা। বাংলাদেশে শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের প্রবীণদের দুঃখ দুর্দশা, পক্ষান্তরে শহরাঞ্চলে প্রবীণদের দুঃখ দুর্দশা ভিন্ন রকমের। সেটা কায়িক পরিশ্রমের চেয়ে মানসিক পরিশ্রমের ভাগ বেশি। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের প্রবীণদের কায়িক মানসিক দু’ধরনের অত্যাচারের শিকার হতে হয়। শহরাঞ্চলে বাহ্যিক চিত্ত বিনোদনের সুযোগ থাকলেও আন্তঃজগতে (ঘর সংসারে) এ সুযোগ নেই। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে চিত্ত বিনোদনের তেমন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। সমস্যা সমস্যাই। তবুও শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে প্রবীণদের সমস্যা বেশি। একটি শিশুর যেমন মৌলিক চাহিদা ভোগ করার অধিকার থাকে; তেমনি একজন প্রবীণেরও চাহিদাগুলো মেটানোর অধিকার আছে। কিন্তু আর্থ-সামাজিক ও সংস্কৃতির কারণেও প্রবীণরা তাদের অধিকারগুলো মেটাতে পারছে না। আমাদের দেশে প্রবীণদের বেশিরভাগই কর্মহীন থাকায় তাদের সামাজিক চাহিদাটুকুও তারা পায় না। সেটা সংসারেই হোক আর সমাজেই হোক। সর্বক্ষেত্রেই এক তাচ্ছিল্যভাব। একজন প্রবীণ ব্যক্তি কর্মহীন হয় তখন যখন সে তার বয়সের ভার সহ্য করতে পারে না। আর তাই সমাজ সংসারে তার কোন মূল্যই নেই। এক সময় যৌথ পরিবার সবাই পছন্দ করত। কিন্তু বর্তমানে যৌথ পরিবার থেকে একক পরিবার সৃষ্টি হচ্ছে বেশি। যৌথ পরিবারের বা সংসারে প্রধান কর্তা হতো ঐ পরিবারের প্রবীণ ব্যক্তিটি। কিন্তু বর্তমানে সে ব্যবস্থার বিপরীত হচ্ছে। ফলে সংসারে প্রবীণ ব্যক্তিটির কোন মূল্যই নেই। তিনি অবহেলা ও অনাদরের শিকার হচ্ছেন। তারপর যদি তাদের আয় রোজগার করার কোন পথ না থাকে তবে তো কথাই নেই। গ্রামাঞ্চলে বয়সের ভারে অত্যন্ত কষ্ট হলেও কৃষিকাজে ও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হতে হয় প্রবীণদের। এটা সত্য যে, প্রবীণরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। অবসর জীবনযাপন, কিছু করতে না পারা, চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা না থাকা, সংসারে পরাধীন বা অন্যের অধীনস্থ হয়ে থাকা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারা তাচ্ছিল্যভাব সহ্য করা ইত্যাদি নানা সমস্যা। আমরা যদি বার্ধক্যকে সমাজ সংসারে বোঝা মনে করি, তবে ভবিষ্যতে সমাজ আমাদের বোঝা হিসেবে গণ্য করবে। তাই, উত্তরসূরীদের উচিত প্রবীণদের অবহেলা নয়, যথাযথ মর্যাদা দিয়ে তাদের সেবা করা। তাদের সম্মান রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এম এ গফুর, বলুয়ারদীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x