নতুন-পুরনো সব সঞ্চয়পত্রেই কাটা হবে ১০%

শুক্রবার , ৫ জুলাই, ২০১৯ at ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ
1103

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের মাথায় হাত। মুনাফা থেকে ৫ শতাংশের জায়গায় ১০ শতাংশ কর কেটে রাখার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। এতদিন এক লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনে একজন নারী মাসে ৯১২ টাকা মুনাফা পেতেন। এখন পাচ্ছেন ৮৬৪ টাকা।
নতুন-পুরাতন সব সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকেই ১০ শতাংশ হারে কর কাটা হচ্ছে। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে যেকোনো ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হচ্ছে। এতদিন ৫ শতাংশ কাটা হতো। খবর বিডিনিউজের।
যারা আগে কিনেছিলেন তারা ভেবেছিলেন আগের হারেই মুনাফা পাবেন। নতুন যারা কিনবেন তাদের মুনাফা থেকে ১০ শতাংশ কর কাটা হবে। কিন্তু জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর মঙ্গলবার এ বিষয়ে যে নোটিশ দিয়েছে তাতে স্পষ্ট করে বলেছে, ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন-পুরাতন সকল সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেই উৎসে কর ১০ শতাংশ কর্তন করা হবে।
আগের চেয়ে কম মুনাফা পাওয়ায় নাখোশ অনেকেই। এদেরই একজন তহমিনা ইয়াছমিন শিল্পী বুধবার বলেন, এতদিন ১ লাখ টাকায় ৯১২ টাকা অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার এসএমএস আসত। আজ এসেছে ৮৬৪ টাকা। হঠাৎ করেই এমন করে মাসের আয় কমবে ভাবতে পারিনি।
সঞ্চয়পত্র বিক্রির লাগাম টেনে ধরতেই করের হার বাড়িয়েছে সরকার। ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৪৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
গত বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ঋণ করার লক্ষ্য ধরেছিল। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়। নতুন বাজেটে এই লক্ষ ধরা হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা।
আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।
সঞ্চয়পত্র বিক্রির লাগাম টেনে ধরতে ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ হার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল, কিন্তু বিক্রি কমেনি। এর পরেও দুই দফা সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কমানো হয়নি।

x