(নতুনত্বের খোঁজে)

শর্মিলী চৌধুরী

শুক্রবার , ১৯ জুলাই, ২০১৯ at ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ
18

: আজ সকালে ছাদে গিয়ে দেখলাম এই ঘাস ফড়িংগুলো এক ডাল থেকে অন্য ডালে আবার কখনো ঘাসে উড়ে বেড়াচ্ছে। তাদের স্বস্তি নেই। এই ফড়িং এর সাথে মানুষের জীবনের অদ্ভুত মিল রয়েছে। মানুষের জীবনের অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য কখনো তাকে একই জীবনে স্থির থাকতে দেয় না। সে ছুটে বেড়ায় নতুনত্বের খোঁজে। জীবনে চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। মন, রুচি সব সময় গতিময় পরিবর্তন শীল। যা পাওয়া গেল তার প্রতি মোহ সাময়িক, যা পাওয়া যায় নি তার জন্য আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে উঠে। সে ভাবে যা চাওয়া হয়েছিল তা পাওয়ার পর এটা বোধ হয় সঠিক হয় নি। মনে হয় যেটা পাওয়া গেছে তা বোধ হয় ভুল করে চাওয়া হয়েছে। মানুষ পুরাতন নিয়ে কিছুতেই বসে থাকতে চায় না।সে চায় নতুনত্বের কিছু, আবার কিছুদিন পর তাও পুরাতন হয়ে আসে, অন্য কিছুর জন্য উদ্বেগ বেড়ে যায়।এটাই এখন মানব জীবনের সাধারণ নিয়ম। আবার অনেকে ভোগের মধ্যে জীবনের সার্থকতা খোঁজে। মানুষের আকাঙ্ক্ষার যেমন শেষ নেই, ভোগের ও তেমনি শেষ নেই। ভোগের পর্যাপ্ত আয়োজনকে সে অপ্রতুল মনে করে। যা আছে তাতে সে সন্তুষ্ট থাকতে পারে না। ভোগের মোহ যে তাকে কোন দিকে ধাবিত করছে তা সে নিজেও জানে না। একটা অচরিতার্থ বেদনা তাকে দগ্ধ করতে থাকে। এমন মানুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর পর কেউ তাদের হিসাব রাখে না, কেউ তাদের খবর রাখে না। যখন শুনি কোন এক মহান ব্যক্তিত্বের প্রয়ান ঘটেছে তখন মনটা ভারী হয়ে আসে। প্রশ্ন জাগে বয়সের ভার বহন করে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকাটা জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। যারা ভোগ বিলাস, নতুনত্বের সন্ধানে এবং আত্মকেন্দ্রিক জীবন যাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে জীবনের সার্থকতা খোঁজে, তারা কখনো জীবনে সাফল্য লাভ করতে পারে না। কেননা এদের এমন কোন কৃতিত্ব থাকে না যার দ্বারা তারা জনমনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে মুছে যাবে এদের নাম। কিন্তু কেউ কেউ আছেন যাদের নাম পৃথিবী থেকে কখনো মুছে যাবে না। শরীরী মৃত্যু হলেও মানুষের স্মৃতি লোকে এরা অমর হয়ে থাকবেন। তাদের মহৎ কাজের মধ্যেই তারা বেঁচে থাকবেন যুগ যুগ ধরে। বয়স নয়, কাজেই হচ্ছে পরিচয়, তার সাফল্য, তার সার্থকতা। ঘাস ফড়িং এর সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে ঘাস লতা পাতায় ঘুরে বেড়িয়ে মানুষকে আনন্দ দেওয়া। আর মানুষের কাজ হচ্ছে মনুষ্যত্বকে টিকিয়ে রেখে মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকা।

x