নডিন গার্ডিমার : ঔপন্যাসিক ও মানবতাবাদী কবি

শনিবার , ১৩ জুলাই, ২০১৯ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
14

নডিন গার্ডিমার – বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক ও মানবতাবাদী লেখক। রচনার মূল বিষয় প্রেম ও রাজনীতি। শ্বেতাঙ্গ নডিন নিপীড়িত কালো মানুষ, তাদের সংঘাতমুখর জীবন সংগ্রাম, রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর রচনায়। কালো মানুষের পাশে তাঁর অবস্থান মমতার। অন্যদিকে শ্বেতাঙ্গ শাসনের বিপরীতে তিনি বেছে নিতে আগ্রহী হিংসাত্মক পথ। আজ তাঁর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী।
গার্ডিমারের জন্ম ১৯২৩ সালের ২ নভেম্বর জোহানেসবার্গের খনি শহর ইস্ট ব্যান্ড-এ। ইহুদি বাবা ছিলেন লাটভিয়ার আর মা ইংল্যান্ডের। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উদার পরিবেশে জন্ম গার্ডিমারের। শৈশব থেকেই লেখালেখির শুরু। প্রথম গল্পগ্রন্থ বের হয় পনেরো বছর বয়সে। পরবর্তী সময়ে বেশ কিছু উপন্যাস রচনা করেন। প্রায় ১৬টি উপন্যাস, ২১টি গল্প সংগ্রহ, ১টি নাটক, ৫টি প্রবন্ধ সহ অসংখ্য রচনা প্রকাশিত হয় তাঁর। বেশ কিছু রচনা নিষিদ্ধ হয়, সর্বগ্রাসী সেন্সরশিপের কাঁচিতে কাটা পড়ে অনেক বিষয়বস্তু। কিন্তু ব্যক্তির শুভবোধের প্রত্যয় নিয়ে সব ধরনের শৃঙ্খল মুক্তির স্বপ্নে অটল থাকেন গর্ডিমার। উদারনৈতিক বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি থেকে শ্বেতাঙ্গ শাসনকে সমালোচনা করে চলেন অব্যাহতভাবে। ফলে বারবার শ্বেতাঙ্গদের কোপানলে পড়তে হয়েছে। তারপরও তিনি টলেননি। আজীবন সক্রিয় ছিলেন আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সাথে। তিনি স্বপ্ন দেখতেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় ঐক্যের। শ্বেতাঙ্গ শাসনের অবসানের পর ক্ষমতাশীন কালোদের শাসনেরও সমালোচনা করেছেন। কেবল আফ্রিকা নয়, বিশ্বের যেখানেই মানবতা বিপন্ন হয়েছে, সেখানেই তিনি নির্যাতিতের পক্ষে কলম ধরেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা: ‘কনজারভেশনিস্ট’, ‘ফেইস টু ফেইস’, ‘দ্য লেইং ডেইজ’, ‘আ ওয়ার্ল্ড অব স্ট্রেঞ্জার’, ‘অকেশন ফর লাভ’, ‘আ স্পোর্ট অব নেচার’, ‘জুলিস পিপল’ ইত্যাদি। সামাজিক জীবন ও কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে গর্ডিমার ১৯৯১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই নডিন গার্ডিমার প্রয়াত হন।

x