নজরুল জাহান-এর কবিতা

শুক্রবার , ৩ মে, ২০১৯ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
38

পুনর্জন্ম হলো যে প্রেমের

বাঙলার মেঘে দেখেছি যার কৃষ্ণবরণ আঁখি
প্রথম আঁচ করি, সে- আমার প্রণয়িনী পাখি।

প্রেমে পড়ে দু’হাত নেড়ে
করেছি পাখিরে কী যে ডাকাডাকি
সে পাখি প্রাণটা খেলো আমার
আশায়ও দিলো ফাঁকি।
একটি নয় দুটি নয় পঁচিশ বছর
আসল পাখিরে খুঁজতে থাকি
খুঁজে মরতে থাকি, ও-
ক্ষুব্ধ লড়তে ডাকি।

সকল নাটক ভেঙে শেষে
আসলটি পাই ন মাসের শিশু বেশে,
পুনর্জন্ম হলো যে প্রেমের সত্যিটারে ভালবেসে ।

চোখের কোণের সুখের নির্ঝর

মন ঘুরিয়ে ফিরে আয়
জানিস তো, সব ফুরিয়ে যায়।
উড়িয়ে দেখিস ঘুরিয়ে
যায় কোথায়, কোন পথে
হায় হায় –
ঠিকানা তার পায় না খুঁজে
নেয় কি বাতাস কাউকে বুঝে ?
আসলে উড়া রাখে কেউ গুঁজে
গেলে, কেউ কাউকে ফের পায় না-।

কে বলেছিল তোরে
পয়সা খরচ করে ‘ঘুড্ডি ওড়া’
সকাল দুপুর ভোরে ?

কেউ কি তোরে উড়তে গিয়ে বলে ?
হয়ে যায় ওরা পর, নক্ষত্রে।
কী স্বপ্ন দেখে মনে এঁকে
মনের সুখে বানিয়ে
প্রেমের সুতোয় বাঁধিয়ে
উড়িয়ে দিলি নিমেষে
কোন সাহসে ?

আয় মনটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আয়
ফের বাঁধি ছোট্ট করে ঘর
যে ঘরে থাকবে না ডর
চোখের কোণে সুখের নির্ঝর।

সুখনিবাস টয়লেটের শৌচ জলাশয়

আকাশে নীল চাদরের কোন ফুটোয় চাঁদটা ?

এই যে এখানে টয়লেটের ঝিলে ঝিলমিল
সুতোয় আটকে পরা
মিউ মিউ স্বরে ছিন্ন হতে কাতরায়
বাথটবের গুমট ভিতর
তার কী সাধ ঝলসে ঝলসে ওঠে
চোখের কর্নিয়া হাসায় না কাঁদায়
কোনটাই কি বুঝতে পারে
আসলে এই অধৈর্য রং ছরানর চন্দ্রিকা
লোলুপায়িত করে তুলছে
নির্জন সুখনিবাসের কাউকে।

কতদিন কত কাল কী ভাবেই যে কেটে গেলো
তোমার মুখ তো এ ভাবে তলানিতে দেখি নি
তোমার সে,কী যে কার বিবসনা রূপের উচ্ছ্বাস
যেখানে সেখানে নোংরায় হাসে ?
বলতেই চাই না যে এ তোমার মুখ
কিম্বা তোমার সুখনিবাস টয়লেটের শৌচ জলাশয়ে
আমার সে চাঁদমুখ।

তুমি বল না কাউকে তুমিও দেখছো এখনো ।

পুনরুজ্জীবন

ক্ষিপ্রতা আমার দীপ্ততা
দীপ্ততা আমার স্নিগ্ধতা
স্নিগ্ধতা আমার উচ্ছলতা
উচ্ছলতা আমার উর্বরতা
উর্বরতা আমার নীরবতা
নীরবতা আমার পারঙ্গমতা
পারঙ্গমতা আমার সক্ষমতা
সক্ষমতা আমার সফলতা
ব্যর্থতা যে নয় বিফলতা
বিফলতা অগ্রসরতা
অগ্রসরতা সু-বারতা ।

x