নগর নেতার নেতৃত্বেই দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি?

মোরশেদ তালুকদার

বুধবার , ২১ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ
762

আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হতে পারে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি। নগর বিএনপির শীর্ষ এক নেতাকে আহ্বায়ক করেই ৭১ সদস্যের এ কমিটি ঘোষণার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাড়ে আট বছর পর পুনর্গঠিত হবে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিটটি।
বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, দলটি কৌশলগত কারণে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সারাদেশের কমিটি পুনর্গঠনের সময় যাকে আহ্বায়ক করা হবে তিনি পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন ও কাউন্সিলের আয়োজন করবেন। এইক্ষেত্রে ওই আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত কমিটির জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। এদিকে দক্ষিণ জেলা বিএনপির গঠন প্রক্রিয়া শুরুর সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলাপ করেন। এইক্ষেত্রে কেন্দ্র যাদের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব করার কথা ভেবেছে তারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগ্রহ দেখান। ফলে বাধ্য হয়ে কেন্দ্র এমন একজনকে আহ্বায়ক করার কথা ভাবছেন, যিনি পরবর্তীতে কাউন্সিলে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আগ্রহ দেখাবেন না। এইক্ষেত্রে নগর বিএনপির শীর্ষ এক নেতাকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে।
এদিকে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের এক সদস্যের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক আজাদীর। যিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন প্রক্রিয়া মনিটরিং করছেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মামুন মিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ খানের যে কোনো একজনকে সদস্য সচিব করার পরিকল্পনা আছে। তবে দুয়েকদিনের মধ্যে জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে তার মতামত জানতে চাওয়া হবে। যদি তিনি পরবর্তীতে সভাপতি পদে থাকতে চান সেক্ষেত্রে তার বিকল্প কাউকে আহ্বায়ক করা হবে। এই আহ্বায়ক বাছাই করা হবে বিএনপির নগর কমিটি থেকে। এবং এইক্ষেত্রে তা প্রায় চূড়ান্ত অবস্থায় আছে।
এর আগে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ মো. মহিউদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েলকে আহ্বায়ক করার কথা ভাবা হয়েছিল। তবে এদের দুইজনই কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি পদে লড়তে চান বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের জানান। এছাড়া সদস্য সচিব করার প্রস্তাব ছিল সহ-সভাপতি এনামুল হক এনামকে। কিন্তু তিনি হতে চান সাধারণ সম্পাদক।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ জেলা বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, যে নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে নগরের নেতাকে দক্ষিণের আহ্বায়ক করার কথা ভাবা হচ্ছে তা তৃণমূল মেনে নেবে না। কারণ, দলীয় গঠনতন্ত্রে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। তাছাড়া একনেতা এক পদ এমন সিদ্ধান্ত ছিল নীতিগতভাবে। সেটাও সবক্ষেত্রে মানা হয় না। বিশেষ বিবেচনা সেটা শিথিল করা হয়েছে। দক্ষিণেও এমন হতে পারে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন করা হয়েছিল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি। ওইসময় জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি ও শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। যা দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া অনুমোদনও দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১১ সালের এপ্রিলে আবারো পুনর্গঠন করা হয়। সেবার জাফরুল ইসলাম চৌধুরীকে সভাপতি, গাজী শাজাহান জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক ও শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দীনকে সহ-সভাপতি করা হয়। তিন বছরের জন্য গঠিত এ কমিটি আট বছর চারমাস পার করেছে।
মাঝখানে ২০১৭ সালে একবার কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ ছিল। কেন্দ্রের চাপে ওই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বৈঠক করেছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। কিন্তু নিজেদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় ভেস্তে যায় সেই উদ্যোগ। এর আগে ২০১৫ সালের ৯ আগস্ট কমিটি পুনর্গঠনের জন্য দক্ষিণের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান। চিঠিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাউন্সিল করার নির্দেশনা ছিল। সেবার নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও দক্ষিণ জেলা বিএনপিকে কমিটি পুনর্গঠনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
সর্বশেষ গত জুন মাসে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে জুনের প্রথম সপ্তাহে তিন সদস্যের একটি সাংগঠনিক টিম গঠন করে কেন্দ্র। এর নেতৃত্বে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। অন্য সদস্যরা হচ্ছেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ এবং জালালুদ্দিন মজুমদার। কমিটির সদস্যরা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাভুক্ত ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও একটি থানায় সাংগঠনিক সফর করেন। সর্বশেষ তারা দফায় দফায় বৈঠক শেষে আহ্বায়ক কমিটির রূপরেখা চূড়ান্ত করেন।
জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম আজাদীকে বলেন, কমিটি চূড়ান্ত করেছি। নিশ্চিত করেই বলছি, চলতি মাসেই ঘোষণা করা হবে।
জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, যত তাড়াতাড়ি কমিটি হবে তত ভাল। দলকে সুসংগঠিত করার জন্য, ম্যাডামের (বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া) মুক্তির আন্দোলনের জন্য দলকে তৃণমূলে শক্তিশালী করতে হলে দ্রুত কমিটি গঠন করা উচিত।

x