নগরীর স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা অত্যধিক

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:৪১ পূর্বাহ্ণ
40

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯টি নির্দেশনা প্রদান করেছে। এর মধ্যে রয়েছে খাদ্যপণ্যে অননুমোদিত রং, ফ্লেভার, কৃত্রিম রং মিশ্রিত মটর ও ক্যামিকেল ব্যবহার না করা, রেফ্রিজারেটরে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে সবজি, অর্ধ রান্না করা খাবার না রাখা, খাবার খোলা অবস্থায় সংরক্ষণ না করা, জমানো পানিতে তৈজসপত্র না ধোয়া, নোংরা ময়লা পাত্র বা তৈজসপত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকা, খাদ্য দ্রব্য পরিবেশনকারী গ্লাভস, এপ্রোন, হেডক্যাপ ব্যবহার করা এবং খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনকারী এপ্রোন অথবা ফুল হাতা জামা পরিধান করা, বাসি খাবার পরিবেশন, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে পোড়া তেল, মানহীন তেল ব্যবহার না করা, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়, প্রদর্শন ও সংরক্ষণ না করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ উপকরণ ব্যবহার করে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন থেকে বিরত থাকা, যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা, হোটেল রেস্তোরাঁয় প্রবেশপথে তামাকজাত পণ্যের বিক্রয় ও প্রদর্শনী বন্ধ রাখা প্রভৃতি।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য অন্য অনেক সংস্থার পাশাপাশি সিটি করপোরেশনেরও দায়িত্ব রয়েছে। নগরীর জনস্বাস্থ্য রক্ষা সিটি করপোরেশনের জন্য একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ। এ অবস্থাকে দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারার মধ্যেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মসূচি মূল সার্থকতা। জনগণের সহযোগিতা নিয়েই সিটি করপোরেশনকে এ কাজে এগোতে হবে। বলা বাহুল্য, জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা থাকলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব অনেকখানি কমে যায়। সিটি করপোরেশন পরিচালিত স্কুলগুলোতে শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম ও আচার-আচরণের মধ্য দিয়ে এই সচেতনতা শুরু করা বাঞ্ছনীয়। শিশুরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকছে কিনা সেটা যেমন নিশ্চিত করা দরকার, তেমনি স্কুলের সর্বত্র পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রেখে শ্রেণিকক্ষ ও টয়লেট ইত্যাদি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণ করে তাদের মধ্যে শিশুকাল থেকেই স্বাস্থ্য চেতনা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা যায়। তাই জনস্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সচেতনতা সৃষ্টির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্দেশনাগুলো প্রদান করেই তার দায়িত্ব শেষ করলে হবে না, নির্দেশনা বাস্তবায়নেও কাজ করতে হবে। যদিও করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব নির্দেশনাগুলো ফেস্টুন আকারে প্রতিটি হোটেল রেস্টুরেন্টে সরবরাহ করা হবে। এরপর নির্দেশনাগুলো মানা হচ্ছে কিনা তা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়টি খুবই প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হলে সাধারণ মানুষ আইন মানার ক্ষেত্রে মনোযোগী হতে বাধ্য হবেন। যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং হোটেলের সামনে পান-সিগারেটের দোকান পরিচালনা করা রীতিমত অস্বাস্থ্যকর বিষয়। এ ব্যাপারে কঠোর হস্তক্ষেপ প্রদর্শনের মাধ্যমে তার মাত্রা কমানো সম্ভব হবে। রেস্তেরাঁসহ যেসব জায়গায় খাদ্য ও খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করা হয়, সেগুলো যাতে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত থাকে, তার জন্য প্রচলিত বিধিগুলোর কড়াকড়ি আরোপ করা, প্রয়োজনে নতুন নির্দেশনা প্রয়োগ করা, খোলা জায়গায় প্রস্তুত আহার্য সামগ্রী ও হোটেল রেস্তোরাঁয় প্রস্তুত খাদ্যদ্রব্যাদি যাতে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয় ও রোগ বিস্তার না ঘটায় তার জন্য ঐ সবের খাদ্যমান নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সেবার মান অবনতির এমন এক স্তরে পৌঁছেছে যে আমরা চট্টগ্রামকে অসুস্থ নগরী না বললেও অচল নগরী হিসেবে আখ্যা দিতে পারি। এ ধরনের অবনতির আর্থ সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া নগরীর সকলের জীবনকে প্রভাবিত করছে। এই নগরীকে সচল, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর রাখার জন্য সিটি করপোরেশনের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। নগর পরিকল্পনায় নিতে হবে নতুন নতুন পদক্ষেপ। এ বিষয়ে সিটি মেয়রকে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিতে হবে।

x